প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু:
আর কদিন পরে শেষ হবে পবিত্র রমজান মাস। আগামী ২৬ কিংবা ২৭ জুন ঈদ হতে পারে। বছর ঘুরে আবারো ফিরে এল কোটি কোটি মানুষের খুশীর ঈদ। তাই অনেকে পবিত্র রমজানের শুরু থেকেই ঈদের কেনাকেটা শুরু করে থাকেন। জীবন-জীবিকার তাগিদে গ্রাম ছেড়ে যারা শহরে পড়ে থাকেন তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকেন কখন ঈদের ছুটি আসবে, বাড়ি ফিরবেন, পরিবার পরিজন নিয়ে ঈদের ছুটি কাটাবেন।
ইতিমধ্যে টিকেট যা বেচাকেনার তা হয়ে গেছে। এখন কেবল পাড়ি জমানোর পালা। শুধু জনবহুল ঢাকা থেকে প্রতি বছর প্রায় ৭৫ লাখ মানুষ ঈদ উপলক্ষে গ্রামে ফিরেন। প্রায় দেড় কোটি মানুষের এই ঢাকা কয়েক দিনের জন্য স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলতে পারে ঈদের বদৌলতে।
নারী, শিশু, বৃদ্ধ, যুবক সব বয়সী মানুষ ঈদের এই ছুটিতে বাড়িমুখী হবেন। এটাই স্বাভাবিক। নিজ এলাকা ছেড়ে বাইরে থাকা এসব মানুষের ঈদযাত্রা হয় ট্রেন, বাস, লঞ্চ, স্টীমার, নৌকা এককথায় সড়ক ও জলপথের ছোট বড় বিভিন্ন যানবাহনে করে। সবাই তো আর আকাশ পথে উড়ে আসতে পারেননা।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হল, প্রতিবছর আমরা দেখি ঈদের আনন্দের পরিবর্তে অনেকের জীবন এবং পরিবারে নেমে আসে কান্না আর শোকের ছায়া যা কারো কাম্য নয়। অথচ এটাই হয়ে থাকে। সড়ক এবং জলপথে অনেকে দুর্ঘটনা কবলিত হয়ে ইদযাত্রার পরিবর্তে শশ্নানযাত্রা করেন। অনেক পরিবারে চলে শোকের মাতম। এটা অত্যন্ত মর্মান্তিক। মৃত্যু সবার জীবনে অনিবার্য কিন্তু এসব অকাল এবং অপমৃত্যু মেনে নেওয়া যায়না। তাই এসব অপ্রত্যাশিত মৃত্যু এড়াতে পূর্ব সতর্কতা এবং আগাম প্রস্তুতির বিকল্প নেই।
যেসব যানবাহন সড়ক এবং জলপথে যাত্রী পরিবহন করবে সেগুলো ত্রুটিমুক্ত কিনা, ফিটনেস আছে কিনা, ধারণ ক্ষমতার বাইরে যাত্রী তুলছে কিনা প্রয়োজনীয় সকল বিষয়ে আগাম সতর্ক হতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। লক্কড়ঝক্কড় কোন যানবাহন যাতে যাত্রী পরিবহন করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এক্ষেত্রে যাত্রীদেরও কর্তব্য আছে বলে আমরা মনে করি। আগে আসা এবং আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতা না করে নিজ বিবেচনা এবং সতর্কতায় যাত্রা করতে হবে। যানবাহন বিশেষ করে জলযানগুলো বেশি টাকা কামাই করার জন্য নিয়ম ভেঙ্গে ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী পরিবহন করে। এদের বেশিরভাগ যানবাহনের ফিটনেস থাকেনা, সাথে প্রয়োজনীয় লাইফজ্যাকেট থাকেনা। এক্ষেত্রে যাত্রীদের আত্মসচেতনতা জরুরি।
কক্সবাজার পর্যটন নগরী হওয়ার সুবাদে প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকলে প্রতিবছরের মত এবছরও বিপুল সংখ্যক দেশিবিদেশী পর্যটকের সমাগম ঘটবে। এই সুযোগে অনেক অসাধু হোটেল ব্যবসায়ী এবং পরিবহন মালিকেরা পর্যটকদের হয়রানি করে থাকেন। এসময় চুরি, ছিনতাই এবং চাদাবাজীসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হতে পারে। তাই এই বিষয়ে জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
অনেক পর্যটক সমুদ্র স্নান করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন। এই বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
সবার ঈদযাত্রা আনন্দময় এবং নিরাপদ হোক এটাই কামনা রইল।







