শওকত ইসলাম:
রামুতে ড্রেনের অভাবে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় ১৫টি পরিবার। সরেজমিনে শনিবার (১৭ই জুন) রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের পূর্ব মেরংলোয়া বড়ুয়াপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার বাসিন্দারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। সবার বাড়িতেই প্রায় হাঁটু পরিমাণ পানি।
এলাকায় পানি সরবরাহের চারটি নলকূপ পানির নিচে। রান্নাঘরেও পানির কারণে রোজকার দিনের রান্নাবান্না সারতে পারছেন না গৃহিনীরা। এ পানি কোন বন্যার পানি নয়। শুধুমাত্র চলাচলের ড্রেনের অভাবে দিনের পর দিন এভাবেই পানিবন্ধী হয়ে কাটাচ্ছেন তারা। দীর্ঘদিন জলাবদ্ধ থাকার কারণে বিভিন্ন ধরণের পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন সেখানকার বাসিন্দারা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এ সমস্যা এক দিনের নয়, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীদের অবৈধ দখল, মাটি ভরাট করে ড্রেনের জায়গা সংকোচন, পানি চলাচলে বাধা দেওয়া ইত্যাদি মূল কারণ হিসেবে দাবী করেছে বাসিন্দারা। এ নিয়ে ফতেখাঁরকুল ইউপি চেয়ারম্যান বরাবরে অভিযোগ দাখিল করেছেন ক্ষতিগ্রস্থরা।
ফতেখাঁরকুল ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদুল আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ভুক্তভোগীরা আমার নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদন্তপূর্বক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বড়ুয়াপাড়ার বাসিন্দা ও জগৎজ্যোতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক অরুন বড়ুয়া জানান, স্থানীয় প্রভাবশালী সুরেশ বড়ুয়া ও বিদ্যুৎ বড়ুয়া তাদের নিজস্ব জমি মাটি ভরাট করে স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় তিন-চারফুট উচু করেছেন। সেই সাথে দখল করে নিয়েছেন দীর্ঘদিনের পুরনো পানি চলাচলের জন্য ব্যবহৃত ড্রেন। ফলে পানি নিষ্কাশনের জায়গা না পাওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিদ্যুৎ বড়ুয়া ড্রেনের জমি দখলের বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, পাড়ায় রাস্তার সংস্কার কাজ করার সময় ড্রেনের জন্য জায়গা রাখা হয়নি। আমাদের কাছে যদি ড্রেনের জায়গা দাবী করা হয়, আমরা সহযোগিতা করব।
শনিবার পানিবন্দী হওয়ার ফলে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো পরিদর্শন করেছেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: শাজাহান আলি। তিনি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সমস্যা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস প্রদান করেন।






