মো: ইউছুপ মজুমদার :
গাছ পরিবেশ সংরক্ষণে বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে। বিনোদন, ভ্রমণ, যাতায়াত, অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিল্প, চিকিৎসা, অর্থ, কর্মসংস্থান, প্রতিরক্ষা, পরিবেশ-প্রতিবেশ সংরক্ষণ, সর্বক্ষেত্রেই গাছের ভূমিকা অপরিসীম। তাই জীবনের প্রয়োজনে বেশি করে গাছ লাগাতে হবে। বরেণ্য সাহিত্যিক আহমদ ছফা লিখেছেন, “এই পুষ্প, এই বৃক্ষ, তরুলতা, এই বিহঙ্গ আমার জীবন এমন কানায় কানায় ভরিয়ে তুলেছে, আমার মধ্যে কোনো একাকীত্ব কোনো বিচ্ছিন্নতা আমি অনুভব করতে পারিনে…” ব্যক্তির শুধু নয়, গাছের প্রাণ মানে দেশের প্রাণ। গাছের অস্তিত্ব মানে প্রাণের অস্তিত্ব, প্রাণীর অস্তিত্ব। যে অঞ্চলে যত গাছপালা, সেই অঞ্চল তত বেশি প্রাণবন্ত। গাছ ধৈর্য্যের প্রতীক, ধীরস্থির সাধনার প্রতীক, জীবনের সার্থকতার প্রতীক। শান্তি, সহিষ্ণুতা আর প্রশান্তির যে নিরব অভিব্যক্তি তা মানুষের জন্য শিক্ষার দ্বার উন্মোচিত করে। অঙ্গার বাতাসে মিশে থাকে, গাছ তা নিগূঢ় শক্তি বলে শোষণ করে নিজের করে নেয়। গাছপালা মানব জীবন বৃত্তের কেন্দ্রবিন্দু। তাইতো বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন-
‘কত যুগ যুগান্তরে কান পেতে ছিল স্তব্দ
মানুষের পদশব্দ তবে নিবিড় গহন তলে
যবে এল মানব অতিথি দিল তারে ফুলফল
বিস্তারিয়া দিল ছায়াবীথি।’
এমনি কবি মনোভাব নিয়ে দেশ ও জাতির ভবিষ্যতের কল্যাণ্যের কথা চিন্তা করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে আজ সোমবার (১০ জুলাই) বান্দরবানের লামা উপজেলার একমাত্র পর্যটন কেন্দ্র মিরিঞ্জা পর্যটনে পরিবেশগত সৌন্দর্য্য ও পর্যটনের শ্রীবৃদ্ধির লক্ষ্যে নিজ উদ্যেগে বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছের চারা রোপন করেন উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেড ও নির্বাহী অফিসার খিনওয়ান নু।
এসময় সাথে ছিলেন, লামা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি), মোঃ সায়েদ ইকবাল। বৃক্ষরোপন শেষে তিনি মিরিঞ্জা পর্যটন কেন্দ্রের বিভিন্ন স্পট গুলো ঘুরে দেখেন। এসময় তিনি অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন কর্মকান্ড ও সংস্কারের বিভিন্ন বিষয়ে পর্যটন শিল্প বিকাশের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করেন।
ইতিপূর্বে তিনি লামা উপজেলার নদী, পাহাড় ও পরিবেশের ভারসাম্যের কথা চিন্তা করে বৃহত্তর জনস্বার্থে, যত্রতত্র বালি উত্তোলন, পাথর উত্তোলন, পাহাড় কাটা, যত্রতত্র ইটভাটা স্থাপন, গাছ কর্তন, অবৈধভাবে মৎস্য নিধন ইত্যাদি বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছেন।







