সুমন রাজ বড়ুয়া কুয়েত থেকে:
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েতের হাসাবিয়া শহরে সোমবার রাতে স্বদেশীর হামলায় অপর এক প্রবাসী বাংলাদেশী খুন হয়েছেন । আহত হয়েছেন আরো অন্তত তিন জন । নিহত ওই বাংলাদেশী ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার দক্ষিণ যশপুর গ্রামের সাপরাশি পাড়ার হাজী আবদুল হকের ছেলে ।
এ ঘটনায় কুয়েত পুলিশ সাত- আটকজনকে আটক করেছে বলে কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশীরা জানিয়েছেন । এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুয়েত পুলিশ বাংলাদেশীদের ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করেছে বলে জানা গেছে ।
নিহতের স্বজন ও কুয়েত প্রবাসী সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগ থেকে কুয়েতে থাকার ভিসা না থাকায় ঘর থেকে খুব বেশি বের হতো না আবদুর রউফ । কুয়েতের স্থানীয় সময় ০১/০৮সোমবার রাত ৮টার দিকে তার সঙ্গে থাকা আরো দুই বাংলাদেশীসহ তাকে অপর ৮-১০জন বাংলাদেশী বাসা থেকে ডেকে হাসাবিয়া শহরের ৪নম্বর সড়কের একটি বাসায় নিয়ে যায় । সেখানে দু-পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে লোহার রড় ও ছুরি দিয়ে তাদের তিনজনকে এলোপাথাড়ি রক্তাক্ত জখম করে অপর বাংলাদেশীরা । এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলেই আবদুর রউফ নিহত হন ।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই বাংলাদেশীর লাশ উদ্ধার করে । তার সঙ্গে থাকা অপর দুইজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ । নিহতের লাশ হাসাবিয়া শহরের ছোবা হাসপাতালে রয়েছে বলে জানা গেছে । আবদুর রউফ নিহত হওয়ার খবর শুনে যারাই তাকে দেখতে বা ঘটনা জানতে গেছেন তাদের অনেকের মাঝে শুনা যাচ্ছে আদম বেপারীর ব্যবসার সাথে রউফ জড়িত ছিল। অনেককেই কুয়েত পুলিশ আটক করেছে । এর মধ্যে কয়েকজন হামলাকারীও রয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে ।
হামলাকারীদের সঙ্গে নিহত আবদুর রউফের পূর্ব থেকে বিরোধ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে ।কুয়েত পুলিশের আটক অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে বাংলাদেশীরা রাস্তাঘাট ও হাসাবিয়া শহর থেকে ছিড়কে পড়েন ।
গতকাল বিকেল ৫টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিভিন্নভাবে কুয়েতে অবস্থানরত বাংলাদেশীরা এ ঘটনায় সর্বশেষ আটক ও ঘটনার সঙ্গে বাংলাদেশীদের মধ্যে কারা জড়িত এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে পারেনি ।
এদিকে, কুয়েত প্রবাসী আবদুর রউফের নিহত হওয়ার খবর তার ফেনীর ছাগলনাইয়ার দক্ষিণ যশপুরের গ্রামের বাড়িতে পৌঁছলে তার স্বজন ও প্রতিবেশীদের আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে ওঠে । এক মাত্র ছেলে আবদুর রউফকে হারিয়ে তার বাবা আবদুল লতিফ ও তার মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন । নিহত আবদুর রউফের চার বছর বয়সী একটি ছেলে শিশু সন্তান রয়েছে ।






