শহিদ রুবেল, উখিয়া:
উখিয়া উপজেলায় চলমান ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে চরম ফরম সংকটে প্রায় ৫ হাজার ভোটার বাদ পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তের সংখ্যা বেশি, পূর্বে বাদ পড়া ভোটারসহ নানান কারণে উখিয়ায় ফরম সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
এছাড়া নির্বাচন কমিশন কতৃক কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও রোহিঙ্গারা ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভূক্তের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।
জানা যায়, উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ৬১ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ১৮ জন সুপার ভাইজার নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম চলবে ৯ আগষ্ট পর্যন্ত।
এবারের ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে ১ জানুয়ারি ২০০০ সনে যারা জন্মগ্রহণ করেছে তারাও ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়ে যুবক শ্রেণির মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এইদিকে বিভিন্ন ওয়ার্ডে বরাদ্দকৃত ফরম ইতিমধ্যে শেষ হয়ে যাওয়ায় তথ্য সংগ্রহকারীরা পড়েছে তোপের মুখে।
অভিযোগ উঠেছে, রোহিঙ্গা অধ্যুষিত জনপদ উখিয়ায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ক্যাম্প ও বস্তিতে বসবাসরত স্বচ্ছল রোহিঙ্গারা নানা কৌশল অবলম্বণ করে যাবতীয় তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ পূর্বক মোটা অংকের টাকা নিয়ে স্থানীয় দালাল বা কতিপয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহকারীদের ম্যানেজ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
রত্নাপালং ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী মাস্টার অমিত বড়ুয়া জানান, তথ্য সংগ্রহের দিন এখনো বাকি থাকলেও ইতিমধ্যে প্রদানকৃত ফরম শেষ হয়ে গেছে। দায়িত্বরত ৭নং ওয়ার্ডে ফরম সংকটের কারণে দুই শতাধিক ভোটার বাদ পড়তে পারে।
জালিয়াপালং ইউনিয়নে তথ্য সংগ্রহকারী শিক্ষক এনামুল হক জানান, ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে বরাদ্দকৃত ফরমের তুলনায় ভোটার সংখ্যা বেশি।
পালংখালী ইউনিয়নের ৬, ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত সুপার ভাইজার কুতুপালং উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাস্টার আব্দুল মান্নান জানান, তিনি এ পর্যন্ত নির্বাচন অফিস থেকে ২৯৮টি ফরম সরবরাহ পেয়েছেন। নূন্যতম এসব ফরম নিয়ে ভোটারদের কোন ভাবেই আশ্বস্ত করা যাচ্ছে না বিধায় আরো ৪৫০টি ফরমের জন্য আবেদন করা হয়েছে।
রত্নাপালং ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সেলিম কায়সার জানান, নতুন ভোটার সংখ্যা বেশি হলেও ফরম চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত কম। নতুন ভাবে ফরম বরাদ্দ পাওয়া না গেলে ৯ নং ওয়ার্ড থেকে দুই শতাধিক ভোটার বাদ যাওয়ার আশংকা প্রকাশ করেন।
ফরম সংকটের কথা স্বীকার করে নির্বাচন অফিসার শহিদুল ইসলাম বলেন, মোট ভোটারের সাড়ে ৩% ফরম সরবরাহ পেয়েছেন যা ইতিমধ্যে বরাদ্দ করে দেওয়া হয়েছে এবং ফরম সংকটের বিষয়টি উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। মুলত উখিয়া পূর্বে বাদ পড়া ভোটার সংখ্যা বেশি এবং নতুন ভোটারের পরিমাণ ও বেশি হওয়ায় ফরম সংকটের কারণ।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ভোটার তালিকা যাচাই বাছাই কমিটির সভাপতি মোঃ মাঈন উদ্দিন জানান, রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি করার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে উপযুক্ত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







