সুনীল বড়ুয়া:
কক্সবাজারের রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের আড়াইশ বছরের প্রাচীন উত্তর মিঠাছড়ি প্রজ্ঞামিত্র বন বিহারে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ আগষ্ট) রাতে বিহারের সেবক ধন বড়ুয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা দশ-বারোজন ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে মামলাটি করেন। তবে সংশ্লিষ্টদের ধারনা, ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয় লোকজন জড়িত থাকতে পারে।
এদিকে এলাকায় চুরি-ডাকাতি, মাদক ব্যবসা ও অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধে ওইদিনই (বুধবার) রাতে এলাকাবাসীর সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন স্থানীয় সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল। সভায় এসব অপকর্ম প্রতিরোধে সাবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান সাংসদ।
রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. লিয়াকত আলী মামলার রুজুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এঘটনায় কারা জড়িত,পুলিশ ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ আন্তরিকভাবে কাজ করছে। কোন নিরীহ লোকজনকে হয়রানী করা হবেনা।

রামু বৌদ্ধ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পুরাকীর্তি সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু বলেন, সংঘবদ্ধ ও পেশাদার ডাকাতদল পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে ডাকাতির ঘটনার বিভিন্ন আলামত থেকে বোঝা যায় এবং বিহার ভবনের দো’তলার যে অংশ দিয়ে ডাকাতেরা ভেতরে প্রবেশ করেছে তাতেই বোঝা যায় এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন জড়িত থাকতে পারে। তবে এ বৌদ্ধ ভিক্ষুর দাবি,এ ঘটনায় এলাকার কোনো নিরীহ ব্যাক্তি যেন হয়রানীর স্বীকার না হয়।
তিনি বলেন, শুধু নগদ টাকা নয়, বেডসিট-কম্বল থেকে শুরু করে ব্যবহারের জুতা পর্যন্ত নিয়ে গেছে। প্রশাসন কঠোর হলে অবশ্যই জড়িতদের চিহ্নিত করা সম্ভব।
বিহারের অধ্যক্ষ সারমিত্র মহাথের বলেন, ডাকাতদল সবই নিয়ে গেছে। আমরা চাই,ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করা হউক। প্রকৃত অপরাধীরাই ধরা পড়ুক। যাতে ভবিষ্যতে কোন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা উপসনালয়ে আর এ ধরনের ঘটনা না ঘটে।
এদিকে গত বুধবার (১৬ আগস্ট) রাতে উত্তরমিঠাছড়ি চা বাগান বাজারে অনুষ্ঠিত চুরি-ডাকাতি, মাদক ব্যবসা ও অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধে সচেতনতামূলক সভায় সভাপতিত্ব প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম চৌধুরী। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল।

এলাকায় চুরি ডাকাতিসহ অসামাজিক অপকর্ম প্রতিরোধে সাবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে সাংসদ কমল বলেন, ‘এলাকাকে অপরাধ মুক্ত করতে হলে মাদককে প্রতিরোধ করতে হবে,মাদক ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করতে হবে। নিজের সন্তানকে মাদকমুক্ত রাখতে হবে। কারন মাদকাসক্ত ছেলেরাই মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে চুরি-ডাকাতিসহ নানা অপরাধধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে’। তাই এলাকায় অপরাধ কর্মকান্ড সংগঠিত হলে এলাকাবাসীও দায় এড়াতে পারেনা। সুতরাং এলাকায় অপরাধ দমনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এ সময় ডাকাতির কোন নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির স্বীকার না এ ব্যাপারে আইনশৃংখলা বাহিনীকে সজাগ থাকার নির্দেশ দেন।
অন্যান্যদের মধ্যে রামু উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি রিয়াজ উল আলম, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান সুপ্ত ভূষন বড়ুয়া, জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল শামসুদ্দিন আহমেদ প্রিন্স, রামু কেন্দ্রিয় সীমা বিহারের সাধারণ সম্পাদক তরুন বড়ুয়া, রামু উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক নীতিশ বড়ুয়া, জেলা যুবলীগ নেতা পলক বড়ুয়া আপ্পু আওয়ামীলীগ নেতা সৈয়দ মো. আবদু শুক্কুর প্রমুখ বক্তব্য দেন।






