সাখাওয়াত হোসেন হাওলাদার:
আগামী ১৯ ও ২০ আগস্ট ২০১৭ জার্মানির বার্লিন শহরে দুইদিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বার্লিনে সুন্দরবন রক্ষা এবং বাংলাদেশের বিকল্প জ্বালানী সম্ভাবনা শীর্ষক ইউরোপীয় সম্মেলন।
বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ সুন্দরবনের কোল ঘেষে বাগেরহাটের রামপালে কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ কার্যক্রম চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য এক অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে। সিডর, আইলার মত প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও দুর্যোগ মোকাবেলায় সুন্দরবন বাংলাদেশের দক্ষিণের উপকূলীয় অঞ্চলের একমাত্র রক্ষাকবচ এবং সেই সাথে লাখো বনজীবি মানুষের জীবিকার উৎস হিসেবে ভূমিকা রাখে।
রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের ফলে সুন্দরবনের পাশাপাশি মানুষের জীবন ও জীবিকা সংকটাপন্ন হয়ে পড়বে। তাই শুধু দেশেই নয় বরং ইউরোপসহ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশী পেশাজীবি, ছাত্র-শিক্ষক, গবেষক, সাংবাদিক, পরিবেশবিদ এবং বিশেষজ্ঞরা ব্যাপক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন এবং রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র না করার পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে নানাভাবে উদ্যোগী হয়েছেন। বৈজ্ঞানিক তথ্য সম্বলিত বিশ্লেষনের পাশাপাশি সভা-সমাবেশের মাধ্যমে এই তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি দেশে-বিদেশে দিন দিন আরো জোরালো হচ্ছে।
ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানো এবং জীবাশ্ম জ্বালানীর নেতিবাচক দিকগুলো বিবেচনা করে ইতোমধ্যে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ নির্বিশেষে জীবাশ্ম জ্বালানী নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনা থেকে সরে এসে পরিবেশবান্ধব এবং সাশ্রয়ী নবায়নযোগ্য জ্বালানীকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান উপায় হিসেবে বিবেচনা করছে।
এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ১৯ ও২০ আগস্ট, ২০১৭ বার্লিনে “সুন্দরবন রক্ষা এবং বাংলাদেশে বিকল্প জ্বালানী নীতির সম্ভাবনা” বিষয়ক এক ইউরোপীয় কনফারেন্স আয়োজিত হবে।
এতে জার্মানীর বাইরে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ইতালি, নরওয়ে, নেদারল্যান্ড সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিবেন। কনফারেন্সে সুন্দরবনের উপর কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নেতিবাচক প্রভাব এবং বাংলাদেশে বিকল্প জ্বালানীর বাস্তবতা ও সম্ভাবনা নিয়ে গবেষক এবং বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি পরিবেশ আন্দোলনকারীরাও আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন।
কনফারেন্সে বাংলাদেশ থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, আন্তর্জাতিক সংগঠন গ্রীনপিসের বার্লিনের সমন্বয়কারী মিসেস কেসটিন ডোরেনব্রুক, বার্লিন হুমবল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভীলফ্রেড এন্ডলিশার, জার্মান পরিবেশ ফোরামের প্রধান ইয়ুরগুন মায়ার, সাংবাদিক-লেখক ক্যাথারিনা ফীঙ্কে সহ আরো অনেকে আলোচনা করবেন।
উক্ত কনফারেন্সের অংশ হিসেবে বিভিন্ন পরিবেশবাদী, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণে সুন্দরবন রক্ষা এবং বিকল্প জ্বালানীর নীতি সংশ্লিষ্ট বার্লিন ঘোষণাপত্র ২০১৭ নামে একটি যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষর সংগ্রহ চলমান আছে। যেখানে ইতোমধ্যেই গ্রিনপিস, ফ্রেন্ডস অফ দা আর্থ, ৩৫০অর্গানাইজেশন, উইমেন এনগেজ ফর দ্য কমন ফিউচার, ব্যাঙ্কট্রাক, লন্ডন মাইনিং নেটওয়ার্ক সহ সারা বিশ্বের প্রায় শতাধিক পরিবেশবাদী সংগঠন এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ স্বাক্ষর করে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিল এবং বাংলাদেশে সুলভ বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানী ব্যবহার বৃদ্ধিকরণ বিকল্প প্রস্তাবনায় একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।
সম্মেলনের শেষ দিন রোববার রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল ঘোষনা করে সুন্দরবন বাঁচাতে বার্লিন ঘোষনা পত্র প্রকাশ করা হবে।
সম্মেলনের মাধ্যমে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের পরিবেশ বান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের অভিজ্ঞতা, বিশ্বব্যাপী নবায়নযোগ্য জ্বালানীর বহুল প্রসার ইত্যাদি সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ এবং অংশগ্রহণকারীদের মতামত বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে বাস্তবসম্মত বিকল্প জ্বালানী পরিকল্পনা গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সর্বোপরি বিশ্ব মতামতকে সুন্দরবনের পক্ষে আরও সংহত করে সুন্দরবন রক্ষার দাবিকে আরও জোরালো করা সম্ভব হবে।











