খালেদ শহীদ:
কয়েক দফা বন্যায় ক্ষতবিক্ষত হয়ে রামু ফতেখাঁরকুল-মরিচ্যা সড়ক। সড়কটির ১৬ কিলোমিটার জুড়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। খানা-খন্দে ভরা এ সড়ক চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যাতায়াতে দুর্ভোগে পড়ছে এ জনপদের কয়েক লাখ বাসিন্দা। সড়কটি সংষ্কারের উদ্দ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। এ ছাড়া বন্যায় রামু উপজেলার এগার ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর বেহাল দশা। সড়ক বিলীন হয়ে যাওয়ায় কয়েকটি ইউনিয়নের সঙ্গে উপজেলা সদরের সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী রানা প্রিয় বড়ুয়া বলেন, ‘বন্যায় রামু ফতেখাঁরকুল-মরিচ্যা সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখন হাইওয়ে সড়ক গুলোর সংস্কার করা হচ্ছে। আশা করছি, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে রামু ফতেখাঁরকুল-মরিচ্যা সড়কের সংস্কার কাজ শুরু করা যাবে। এ ছাড়া রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়কটি বান্দরবান সড়ক বিভাগের আওতাধীন’।
জানা গেছে, প্রাচীন কক্সবাজার সভ্যতার চলাচলের জনগুরুত্বপূর্ণ আরাকান সড়কটি বর্তমানে রামু-মরিচ্যা সড়ক হিসেবে পরিচিত। এসড়ক দিয়েই মোঘল-মগরাজার যুদ্ধ পরিচালিত হয়। ইতিহাসের বহু রাজা-বাদশার সংঘাতের সাক্ষী এ সড়ক ডিজিটাল উন্নয়নের যুগেও অবহেলিত। সরকারের মন্ত্রী বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এ সড়কে চলাচল করেনা বলে, সাধারণ মানুষের জনদূর্ভোগে সড়ক ও জনপদ বিভাগের কোন মাথা ব্যথা নেই। এ সড়কের খানাখন্দকের কারণে পিছিয়ে পড়া জনপদের শিশুরা বিদ্যালয়ে যেতে চায় না। মুমূর্ষ রোগীদের হাঁটিয়ে নিয়ে যেতে হয় ষ্টেশনে। হাসপাতালে পৌঁছাতে পৌঁছানে মুমূর্ষ রোগী হয়ে পড়েন অর্ধমৃত। ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ্যর রামু-মরিচ্যা সড়ক সম্প্রতির কয়েক দফা বন্যা ক্ষত-বিক্ষত করে দিয়েছে। বিধ্বস্ত এ সড়কে চলাচলে জনদূর্ভোগ বেড়েই চলছে।
শুধু রামু ফতেখাঁরকুল-মরিচ্যা সড়কটি নয়, রামু উপজেলার অধিকাংশ সড়কের বেহাল দশা। এর মধ্যে গর্জনিয়া বাজার-বেলতলী সড়ক, অফিসেরচর-লম্বরীপাড়া-তেচ্ছিপুল সড়ক, রাজারকুল-চেইন্দা সড়ক, গর্জনিয়া বাজার-দোছড়ি সড়ক, নাইক্ষ্যংছড়ি হাজিপাড়া-বিজিবি ক্যাম্প সড়ক, রামু উখিয়ারঘোনা-গর্জনিয়া সড়ক, কলঘর বাজার-রাজারকুল ইউপি সড়ক, রাজারকুল ইউপি-শিকলঘাট-কাউয়ারখোপ ইউপি সড়ক, জোয়ারিয়ানালা সওদাগরপাড়া সড়ক, তুলাবাগান-আরাকান সড়ক, পশ্চিম জোয়ারিয়ানালা সাইক্লোন শেল্টার সংযোগ সড়ক, পূর্ব রাজারকুল বটতলী-দরগাহপাড়া সড়ক, কেচুবনিয়াপাড়া সড়ক, মৌলভীপাড়া সড়ক, কাট্টালিয়ামুড়া-ক্যাজরবিল-দরগাহচর সড়ক, শাহসুজা-উত্তর বড়বিল-জুমছড়ি বাজার সড়ক, চেইন্দা পূর্বছড়াকুল বনতলা সড়ক, ঈদগড় বাজার-বৌঘাট সড়কের ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন ঈদগড় ইউনিয়নে যাওয়ার একমাত্র ঈদগড়-ঈদগাঁও সড়কটি বন্যায় বিধ্বস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ৪ কিলোমিটার এইচবিবি ওই সড়কের প্রায় ৫০মিটার ঈদগাঁও খালে সম্পূর্ণরূপে বিলীন হয়েছে। এ সড়কের প্রায় একশ মিটার বন্যায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলাচলে অযোগ্য হয়ে পড়েছে। উপজেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন আরো দুটি ইউনিয়ন হচ্ছে কচ্ছপিয়া ও গর্জনিয়া ইউনিয়ন।
পার্বত্য নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদর পেরিয়ে এ দু’ইউনিয়নে যেতে হয়। কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের গর্জনিয়া বাজার-বেলতলী সড়কের গর্জনিয়া ব্রীজের দক্ষিণ পাশের ১২৫ মিটার এপ্রোচ সড়ক বাঁকখালী নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। সাড়ে ৪ কিলোমিটার এ সড়কে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে বলে আশংকা করছে ওই এলাকার বাসিন্দারা। বাঁকখালী নদী কয়েকবার প্লাবিত হওয়ায় ১৬০ মিটারের গর্জনিয়া ব্রীজটিও হুমকির মুখে পড়েছে। রামুর প্রধান বানিজ্যিক কেন্দ্র ফকিরা বাজার যাওয়ার সড়কটিও বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফকিরা বাজার-তেমুহনি-জাদীমুড়া সড়কের প্রায় সাড়ে ৬শ মিটার চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
রামু চৌমুহনী থেকে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের মরিচ্যা চেকপোষ্ট মোড় পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের বিভিন্ন অংশে খোয়া, পিচ, কার্পেটিং উঠে গিয়ে হাজার হাজার গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও ইট, কংকর সরে গিয়ে ৭-৮ ইঞ্চি, কোথাও কোথাও এক-দেড় ফুট গভীর গর্ত ও অনেক স্থানে দেবে গেছে। বর্তমানে সড়কটি যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এ সড়কের শিকলঘাট ব্রীজ ও নাসিরকুল ব্রীজ দু’টিও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।
সম্প্রতির বন্যায় রামু-মরিচ্যা সড়কের আলহাজ্ব ফজল আম্বিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে অফিসেরচর এলাকা প্লাবিত হয়ে, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। ওই স্থানে অরক্ষিত সাবমেরনি ক্যাবল হুমকির মুখে পড়েছে। সীমান্ত বাণিজ্যের অন্যতম রামু-মরিচ্যা সড়কে ঝুঁকি নিয়ে লোকজন চলাচল করছে সাধারণ মানুষ সহ ১০ পদাতিক ডিভিশন রামু সেনানিবাস ও ৫০ বর্ডার গার্ড ব্যাটলিয়ন (বিজিবি) সদস্যরা। জরুরি ভিত্তিতে এ সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করা না হলে যানবাহন চলাচল একেবারে বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশংকা করছেন স্থানীয় জনতা সহ গাড়ী চালকরা।
জানা গেছ, সীমান্ত বাণিজ্যের ব্যস্ততম রামু-মরিচ্যা সড়কে (প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-মিয়ানমার মৈত্রী সড়ক) সার্বক্ষণিক হালকা ও ভারি যানবাহন চলাচল করে আসছে। টেকনাফ স্থলবন্দর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা পণ্যবাহী ট্রাক প্রতিদিন এ সড়কে দিয়ে চলাচল করে। সংস্কার না হওয়ায় পণ্যবাহী এসব যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্ট গর্তে পড়ে অকেজো হচ্ছে পাওয়ার বাইক, বেবিট্যাক্সি, মাইক্রোবাস, কার, জিপ, ট্রাক-মিনি ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন। ভেঙ্গে যাচ্ছে গাড়ির যন্ত্রাংশ। এতে দূর্ভোগের শিকার হচ্ছেন পর্যটকসহ ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।
রামু লাইন সার্ভিসের পরিচালক মুজিবুর রহমান জানান, রামু উপজেলার প্রধান দু’সড়ক রামু-মরিচ্যা সড়ক ও রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি-গর্জনিয়া সড়ক। এ সড়ক দু’টিতে হাজার হাজার গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় গাড়িগুলো ধীরগতিতে চালাতে হয়। যন্ত্রাংশ ভেঙ্গে প্রায় সময়ই বিকল হয়ে যাত্রীবাহি গাড়ি গুলো। গর্ত এড়িয়ে গাড়ি চালাতে গিয়ে অনেক সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পতিত হন। এতে প্রাণনাশের ঘটনাও ঘটে। প্রতিদিন এ সড়কে চরম দূর্ভোগের মধ্যে হাজার হাজার লোক চলাচল করে বলে জানান, রামু উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নীতিশ বড়ুয়া।
সূত্র জানায়, এ সড়কের পাশে রয়েছে, রামু থানা ভবন, রামু পোস্ট অফিস, বিটিসিএল রামু অফিস, রামু ফকিরা বাজার, ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন পরিষদ, ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন ভূমি অফিস, ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, রামু জামেয়াতুল উলুম মাদ্রাসা ও কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, রামু এমদাদিয়া কাছেম উলুম মাদ্রাসা ও এতিম খানা, রামু কেন্দ্রীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আলহাজ্ব ফজল আম্বিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, ফজল আম্বিয়া কেজি স্কুল, রাজারকুল রেঞ্জ ও বনবিট কর্মকর্তার কার্যালয়, রামকূট বনবিহার, রামুকোট তীর্থধাম, জগৎ জ্যোতি চিলড্রেন ওয়েলফেয়ার হোম, জগৎ জ্যোতি প্রাইমারী স্কুল, রামকোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পঞ্জেখানা বাজার, রামু নারিকেল বীজ বাগান, ১০ পদাতিক ডিভিশন রামু সেনানিবাস ও ৫০ বর্ডার গার্ড ব্যাটলিয়ন সদর দপ্তর, ফজল আম্বিয়া রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধেচুয়াপালং উচ্চ বিদ্যালয়, আপাররেজু ও দারিয়ারদীঘি বনবিট কার্যালয়, দারিয়ারদীঘি মারকাজুল হুদা মাদ্রাসা, দারিয়ারদীঘি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খুনিয়াপালং ইউনিয়ন ভূমি অফিস।
এছাড়াও সোনাইছড়ি বিজিবি ক্যাম্প, রাজারকুল ইউনিয়ন পরিষদ, পূর্ব রাজারকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মনসুর আলী সিকদার আইডিয়াল স্কুল, দক্ষিণ ফতেখাঁরকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাজারকুল মাছুমিয়া ইসলামিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসা, রাজারকুল আজিজুল উলুম মাদ্রাসায় যাতায়াতকারিদেরও চলাচল করতে হয় এ সড়ক দিয়ে।
এ ছাড়াও উপজেলার ব্যস্ততম রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়কটিও যান চলাচলে অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের বিভিন্নস্থানে খানাখন্দক এবং দুপাশ ধ্বসে যাওয়ায় প্রতিমূহুর্তে যানবাহনগুলো চরম ঝূঁকি নিয়ে চলাচল করছে। প্রায় সময় সংগঠিত হচ্ছে সড়ক দূর্ঘটনা। সীমান্তবর্তী কক্সবাজার ও পার্বত্য বান্দরবান জেলার পাঁচ লাখ মানুষের যোগাযোগের একমাত্র ভরসা এ সড়ক বেহাল অবস্থায় থাকার কারনে জনদূর্ভোগ বেড়ে গেছে। ডাকাত ও খানাখন্দক এখন আতংক হয়ে দাঁড়িয়েছে এ সড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের।
সীমান্তবর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার চাকঢালা বাজার হয়ে মায়ানমারের গরু-মহিষ ও নানান পন্য এসড়ক দিয়ে আমদানী করে ব্যবসায়ীরা। রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়কের নাজুক অবস্থার কারনে সীমান্ত অঞ্চল থেকে ব্যভসায়ীরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
তাছাড়া রামু উপজেলার শস্য ভান্ডার খ্যাত গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার জনসাধারণ এসড়কে প্রতিনিয়ত রবি শস্যসহ পণ্য আনা নেয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার জনসাধারণের বান্দরবান জেলা সদরের সাথে যোগাযোগ হয়। নাইক্ষ্যংছড়ি বিডিআর ক্যাম্প, কাউয়ারখোপ বাজার, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদর, পুর্বাঞ্চল হয়ে মায়ানমারের সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এ সড়ক।
রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহা: শাজাহান আলি আমাদের রামু ডটকমকে বলেন, জেলার উন্নয়ন সম্বনয় সভায় কক্সবাজার সড়ক ও জনপদ বিভাগকে অনুরোধ জানিয়েছি দ্রুত রামু-মরিচ্যা সড়কের সংস্কার কাজ শুরু করা জন্য। তিনি বলেন, সারা দেশে বন্যা হচ্ছে। সরকার সারাদেশের ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের বিবরণ সংগ্রহ করছেন। প্রতিবেদন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে উপজেলা পর্যায়ের সড়কের জন্য বরাদ্ধ দিবেন। বরাদ্ধ পেলেই রামুমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। তবে কবে নাগাদ বরাদ্ধ পাওয়া যাবে বলা যাচ্ছেনা।
প্রতিদিন রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়কে চলাচলকারী নাইক্ষ্যংছড়ি হাজী এম এ কালাম ডিগ্রী কলেজের অধ্যাপক নীলোৎপল বড়ুয়া জানান, ১৩ কিলোমিটার সড়কের এতই বেহাল অবস্থা যে, টেক্সি দিয়েও ত্রিশ মিনিটের এ সামান্য সড়কে যেতে লাগে দেড় ঘন্টা সময়। সড়কে খানা খন্দক এত বেশী যে, ওভারটেক করতে গেলে একটি গাড়ীকে অনেকক্ষণ সড়কের সুবিধাজনক স্থানে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। এ সড়কের নিয়মিত যাত্রী কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের বাসিন্দা সাংবাদিক এম আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, এ রাস্তা দিয়ে একবার গেলে গাড়ির ঝাঁকুনিতে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়ে। আর অসুস্থ মানুষকে এ রাস্তা দিয়ে হাসপাতালে নেয়ার দূর্ভোগ শুধু ভূক্তভোগীরাই জানেন।
রামু উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাকির হাসান জানান, সম্প্রতির কয়েক দফা বন্যায় রামুর সবকটি সড়কই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে যে সড়ক গুলো সহজে সংস্কার করা সম্ভব, সে সড়ক গুলো উপজেলা পরিষদের বিশেষ বরাদ্ধে সংস্কার করা হচ্ছে। বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক গুলোর সচিত্র প্রতিবেদন সহ ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ আমাদের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি। তিনি বলেন, রামুর গ্রামীন সড়কের মধ্যে কচ্ছপিয়া-দোছড়ি সড়কটি এমন ভাবে ভেঙেছে, তা সংস্কার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ওখানে বিজিবির ক্যাম্প রয়েছে। ওই সড়কের ডিজিটাল সার্ভে করা হয়েছে। বিশেষ বরাদ্ধের মাধ্যমে কিভাবে দ্রুত এ সড়কের পুননির্মাণ কাজ করা যায়, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা চলছে আমাদের।
রামু উন্নয়ন সমন্বয় সভার সভাপতি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রিয়াজ উল আলম আমাদের রামু ডটকমকে জানান, কয়েক দফা বন্যায় রামু উপজেলার ব্যাপক ক্ষয়- ক্ষতি হয়েছে। বহু বসতবাড়ি ও গ্রামীন সড়ক ভেঙে গেছে। সড়কগুলো খানাখন্দকে ভরে গেছে। দ্রুত সংস্কার করতে উর্ধ্বত্বন কর্র্তৃপক্ষে অবহিত করেছি। উপজেলা পরিষদ থেকে বিশেষ বরাদ্ধে কিছু কিছু সড়কের সংস্কার কাজ ইতিমদ্যে শুরু করা হয়েছে জানিয়ে বলেন, সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছি। বরাদ্ধ পেলেই ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সহ অন্যান্য স্থাপনা সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হবে। তিনি বন্যায় ক্ষত-বিক্ষত সড়ক গুলো স্থানীয় পর্যায়ে সংস্কারের জন্য বিত্তবান ব্যক্তিসহ সকলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।






