নীতিশ বড়ুয়া,উখিয়া কুতুপালং থেকে ফিরে:
মায়ানমারের আরাকান রাজ্যে মুসলিম জনগোষ্টির উপর অমানবিক, বর্বরোচিত, নারকীয় তান্ডব, নির্বিচারে হত্যা, লুণ্ঠন ও ধর্ষণের বর্ণনা শুনে কাঁদলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে এগার টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রবেশ করতেই অস্থায়ী সেটে অবস্থানকরা রোহিঙ্গারা তাঁকে দেখেই হাঁউ-মাউ করে কেঁদে উঠেন।
এসময় প্রধানমন্ত্রীও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। বেশ কয়েকটি সেটে অবস্থান করা রোহিঙ্গা শিশু-নারি-পুরুষের মুখ থেকে তাদের দুঃখ, দুর্দশার কথা শোনেন শেখ হাসিনা। তাঁকে কাছে পেয়ে রোহিঙ্গা মুসলিমরা কেউ বাপ-ভাই হারানোর কথা, কেউ মা-বোনকে ধর্ষন ও জবাইয়ের কথা, আবার কেউ দুধের শিশুকে হত্যার কথা শোনান।
প্রধানমন্ত্রী একে একে নারী ও শিশুদের বুকে জড়িয়ে নিয়ে শান্তনা দেন। সেটে অবস্থান করা, মুখে ব্যান্ডিস লাগানো এক শিশু কাদঁতে কাদঁতে প্রধানমন্ত্রীকে শোনালেন কিভাবে মায়ানমারের পুলিশ তার পিতাকে গুলি করে হত্যা করেছে। কিভাবে তার ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। তাকে কিভাবে নির্যাতন করে তাদের বাড়িতে আগুন দিয়েছে।
মায়ানমারদের নিষ্ঠুরতার কথা শোনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অশ্রুসিক্ত নয়নে শিশুটিকে বুকে জড়িয়ে নেন।
অপর এক সেটে মধ্য বয়সি এক মহিলা শেখ হাসিনাকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে জড়িয়ে ধরে বিলাপ করে কাঁদতে কাঁদতে তাদের স্বামী, সন্তান হারানোর কথা, ভিটে-বাড়ি ছেড়ে আসার কথা শোনান।
আবেগাপ্লুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যের এক পর্যায়ে বলেন, রিফিউজি থাকা যে কতো কষ্টের সেটা তিনি নিজে উপলব্দি করেছেন। ৭৫ এর ১৫ আগষ্টে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পর তিনি ও তাঁর ছোট বোন শেখ রেহেনা অনেক বছর বিভিন্ন দেশে রিফিউজি হিসেবে বসবাস করেছেন। কাজেই রিফিউজি হিসেবে বসবাস করা কতোযে কষ্টের তিনি তা বুঝেন। রোহিঙ্গাদের ভাই, বোন, পিতা, মাতাসহ নিকটাত্মীয় হারানোর কথা বলতে গিয়ে তিনি আরো আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
শেখ হাসিনা নিরীহ রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে যা যা সাহায্য করা দরকার, তা করার ঘেষনা দেন।
মানবিক দিক বিবেচনা করে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশে থেকে থাকা, খাওয়া, চিকিৎসাসহ সব ধরনের সহযোগীতা করা হবে বলে উল্লেখ করেন।
পরে তিনি মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা দুর্ভাগা নারী, পুরুষ, শিশুদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কালেও তাদের সাথে কথা বলে খোঁজ খবর নেন।








