মোঃ ইউছুপ মজুমদার:
বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান শারদীয় দুর্গোৎসব আজ (২৬ সেপ্টেম্বর) মঙ্গলবার শুরু হয়েছে। সারাদেশের ন্যায় বান্দরবানের লামা উপজেলায় কেন্দ্রিয় দুর্গাপূজা পরিচালনা পরিষদ এ বছর দূর্গাপূজায় ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছেন। দক্ষিণ চট্টগ্রামে আর দশটি পূজা মন্ডপের সাথে পাল্লাদিয়ে এবারও লামা কেন্দ্রিয় হরিমন্দিরে দৃষ্টি নন্দন পূজা আয়োজন। পূজাকে ঘিরে কেন্দ্রিয় হরিমন্দির প্রাঙ্গন থেকে সম্মুখের গলি বর্ণিল আলোক সজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ষষ্ঠী, দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাস। দেবী দুর্গার মূল প্রতিমায় পূজা শুরু। বুধবার পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপিসহ জেলার কর্ণদ্বারগণ পুজামন্ডপ পরিদর্শন করবেন।
আজ থেকে আগামী শনিবার বিজয়া দশমী পর্যন্ত ঢাকের বাদ্যে মুখরিত থাকবে পূজামন্ডপ গুলো। পূজারি ও ভক্তরা উদ্বেলিত হবেন দেবী মহামায়ার অধিষ্ঠানে। সবাই শামিল হবে পৃথিবীর সব আসুরিক শক্তির বিরুদ্ধে বিজয়া ও মানুষের কল্যাণ প্রতিষ্ঠার প্রার্থনায়। ৩০ সেপ্টেম্বর বিসর্জনের মধ্যদিয়ে মা দূর্গা বিদায় নিবেন ভক্তদের কাছ থেকে।
পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিজয় আইচ বলেন, অশুভ শক্তির বিনাশের জন্য দেবী দুর্গা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রূপ ধারণ করেন। মা এবার নৌকায় চড়ে শস্যপূর্না বসুন্ধরায় আগমন করে সিংহের পিষ্টদেশে করে ভক্তদের মাঝে এসেছেন। তিনি বলেন, এবার দেবীর হাত চিরায়ত নিয়মে ১০টি থাকলেও এর শক্তিকে অগনিত হাতের মনে করা হচ্ছে। বিজয় আইচ বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা পরিচালনা পরিষদ এবার ব্যাতিক্রমী কিছু তৈরির চেষ্টা করেছে। তাই এ বছর দুর্গা প্রতিমার ষ্টেজে ঠাই হয়েছে অশুভ শক্তির বিনাশের গণেশসহ অন্যান্য দেবদেবীর প্রতীকি। ৩/৪জন ভাষ্কর ৮দিন ধরে এ প্রতিমা তৈরির কাজ করেছেন বলে তিনি জানান। পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাবুল দাশ জানান, পুরাণের বিভিন্ন কাহিনী অনুসারে আরও কয়েকটি প্রতিমা-ঠাকুর তৈরি করা হয়েছে এবার। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে পূজা মন্ডপ ও আশপাশের এলাকা নজরে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পূজা উদযাপন পরিষদের অর্থ সম্পাদক গোপন চৌধুরী জানান, এবার ভিন্ন আঙ্গিকে করা ষ্টেইজে মা দূর্গার চরণে পদদলিত অসুর, ও ত্রিশুরবিদ্ধ মহিষাসুর-এর অপশক্তি বিনাশ করবে। এছাড়া রয়েছে ধনের দেবী মা লক্ষী, সিদ্ধিদাতা বাবা গণেশ, বিদ্যার দেবী মা স্বরস্বতী, সৌন্দর্যের প্রতীক বাবা কার্তিক। লামা কেন্দ্রীয় হরিমন্দির কমিটির সভাপতি প্রসান্ত ভট্টাচার্য্য জানান, উপজেলার কেন্দ্রিয় হরিমন্দির ছাড়াও লামা সদর, চাম্পাতলী, ফাঁসিয়াখালী, আজিজ নগর, মনিন্দ্র পাড়াসহ আরো ৭ টি সর্বমোট ৮টি মন্ডপে দুর্গা উদযাপন করা হচ্ছে। পূজাকে ঘিরে পৌর শহরসহ উপজেলায় হিন্দু ধর্মালম্বীদের মধ্যে বইছে আনন্দ ধারা।
লামা থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন জানান, সু-শৃঙ্খলভাবে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে চলছেন এবং অধিকতর নিরাপত্তার স্বার্থে অন্যান্য সময়ের চেয়ে এবার পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে প্রতিটি পুজামন্ডপে বিশেষ গোয়েন্দা পুলিশ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পৌর মেয়র মো: জহিরুল ইসলাম সনাতনি ধর্মাবলম্বিদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ঐতিহ্যবাহি এই দূর্গাপূজা আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপনের জন্য তিনি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন।
তিনি জানান, আগামী বুধবার পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি পুজামন্ডপ পরিদর্শন করবেন। লামা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইসমাইল জানান, ধর্ম যার যার উৎসব সবার। উৎসব মুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছেন তিনিও। লামা সার্কেলের পুলিশ সুপার আবু সালাম চৌধুরী বলেন, পূজায় অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা নির্বিঘ্ন করতে মন্ডপগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
লামা উপজেলা চেয়ারম্যান থোয়াইনু অং চৌধুরী জানান, দূর্গাপূজার আনন্দ আমরা সবাই উপভোগ করে থাকি। তিনি সনাতনি ধর্মাবলম্বিদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, কাল পরস্পরায় দূর্গা দূর্গতি নাশ করে সমাজে শান্তি-মানবতা প্রতিষ্ঠা ও ভ্রাতৃত্ববোধ অটুট রাখার বানী নিয়ে প্রতি বছর পৃথিবীতে আগমন ঘটে।







