মোঃ ইউছুপ মজুমদার:
বান্দরবান জেলার আলীকদম উপজেলাসহ অন্যান্য উপজেলার বিভিন্ন ঝিরি নদী ও পাহাড় ঝর্ণা থেকে অবৈধ পাথর উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উসৈশিং এমপি।
তিনি বলেন, পাথর ব্যবসায়ীরা কি প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চেয়েও বেশি ক্ষমতাধর? আলীকদম উপজেলাসহ বিভিন্ন ঝিরি, ঝর্ণা, খাল ও পাহাড় খোদাই করে অবৈধ পন্থায় উত্তোলন করা পাথর কোথায় যায় বলে প্রশ্ন রাখেন পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী। এভাবে নির্বিচারে পাথর উত্তোলন করা হলে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটবে এবং স্থানীয় লোকজন পানীয় জলের সমস্যায় পড়বে।
বুধবার দুপুরে আলীকদম উপজেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মাসিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি এ কথাগুলো বলেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার বান্দরবান জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত বিশেষ আইন-শৃঙ্খলা সভায়ও প্রতিমন্ত্রী পাথর উত্তোলন ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন। তিনি বলেন, পাথর ব্যবসায়ী সেনা বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধ্বে কিনা।
এ সময় তৈন রেঞ্জ কর্মকর্তা খন্দকার শামশুল হুদা পাথরদস্যু রোধে জোরালো বক্তব্য রাখেন। থানার ওসি কাজী সাইদুর রহমানও পাথরদস্যুতা রোধে দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালামের সভাপতিত্বে ও ইউএনও মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানের সঞ্চালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে আলীকদম জোন কমান্ডার লে. কর্ণেল মাহবুবুর রহমান, বান্দরবানের জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শফিউল আলমসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে তিনি সন্ধ্যায় আলীকদম সনাতনধর্মালম্বীদের পুজামন্ডপ পরিদর্শন করেন। এরপর তিনি রাত সাড়ে ৮টায় লামা উপজেলা কেন্দ্রীয় হরিমন্দিরের পুজামন্ডপ পরিদর্শনে আসেন। এসময় তিনি বলেন, ধর্ম যার যার উৎসব সবার। যার যার আনন্দ উৎসব সে সে ভোগ করবেন এবং অন্যকেও আনন্দ উপভোগ করতে দিবেন। এসময় তিনি আরো বলেন, উৎসব পালন করতে গিয়ে কেউ যেন ক্ষতির সম্মুখীন না হন সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।
পুজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বাবুল দাশের সভাপতিত্বে ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কান্তি দাশের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বান্দরবান জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক, পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ইসলাম বেবী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার খিনওয়ান নু, সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোঃ সায়েদ ইকবাল, লামা পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম, জেলা পরিষদ সদস্য লক্ষীপদ দাশ, মোঃ মোস্তফা জামাল, ফাতেমা পারুল,আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য কাজল দাশ, জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা আবু মুছা ফারুকী, উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ ইসমাইল, সাধারণ সম্পাদক বাথোয়াইচিং মার্মা, সাংগঠনিক সম্পাদক ছাচিংপ্রু মার্মা, মিন্টু কুমার সেন প্রমুখ।
সভাশেষে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী হিন্দু ধর্মালম্বীদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করেন।






