ধর্ম ডেস্ক:
বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা আজ। প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপনের মাধ্যমে বৌদ্ধধর্মাবলম্বীরা তিনমাস ব্যাপী চলমান বর্ষাবাস সমাপ্ত করেন।
আজকে প্রবারণা উদযাপনের মাধ্যমে ভিক্ষুরাও তাঁদের বর্ষাব্রত সমাপ্ত করবেন।
আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে শুরু হওয়া বর্ষাবাস যাপন মূলত আশ্বিনী পূর্ণিমা তিথিতে শেষ হয়। আশ্বিনী পূর্ণিমার অপর নাম প্রবারণা পূর্ণিমা।
প্রবারণা মানে ভুল ত্রুটির নির্দেশ। আশার তৃপ্তি, অভিলাষ পূরণ ও ধ্যান শিক্ষা সমাপ্তি। সকল প্রকার ভেদাভেদ গ্লানি ভুলে গিয়ে কলুষমুক্ত হওয়ার জন্য ভিক্ষুসংঘ পবিত্র সীমা ঘরে সম্মিলিত হয়ে একে অপরের নিকট দোষ স্বীকার করেন। নিজের দোষ স্বীকারের মধ্যে মহত্ত্বতা আছে এ শিক্ষাকে ধারণ করা হয়। মানুষ মাত্রেই চেতন কিংবা অবচেতন মনে ভুল করতে-ই পারে। সেই ভুলকে দৃঢ়তার সাথে স্বীকার করে সংশোধনের প্রচেষ্টায় সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়াইতো জীবনের সার্থকতা। কিন্তু ভুল স্বীকার করার মতো সৎ মানসিকতা সবার থাকে না। আভিধানিক বিচারে প্রবারণার অর্থ হল বরণ করা আর বারণ করা। অর্থাৎ সকল প্রকার অকুশল বা পাপকর্ম বর্জন বা বারণ করে কুশল কর্ম বা পূণ্যকর্ম সম্পাদন বা বরণ করার শিক্ষা প্রবারণা দিয়ে থাকে।
প্রবারণা পূর্ণিমার পরের দিন থেকেই বিভিন্ন বিহারে শুরু হয় কঠিন চীবরদান উৎসব।আর এই দান চলে মাসব্যাপী।
এ বছর বৌদ্ধরা মিয়ানমার থেকে নিপীড়িত হয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রতি সমবেদনা জানানোর জন্য অনুষ্ঠানের আড়ম্বরতা পরিহার করেন। তবে পূজাদান, অষ্টশীল গ্রহণ, ধর্মশ্রবণ, আলোকসজ্জা, দেশ ও বিশ্বশান্তি কামনায় প্রদীপ জ্বালিয়ে সমবেত প্রার্থনা করা হবে বলে জানা গেছে।
এদিকে সারাদেশের মত রামুতেও অনাড়ম্বর পরিবেশে প্রবারণা পালিত হচ্ছে।







