আমাদের রামু রিপোর্ট:
বৌদ্ধদের অন্যতম ধর্মীয় অনুষ্ঠান শুভ প্রবারণা উদযাপিত হয়েছে। ৫ অক্টোবর কক্সবাজার জেলার প্রায় দেড়শত বৌদ্ধ বিহারে যথাযত ধর্মীয় মর্যাদায় উক্ত ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালিত হয়।
প্রবারণা উপলক্ষে সকাল থেকে সর্বস্তরের বৌদ্ধ নর-নারীরা বিহারমুখী হতে দেখা গেছে। এসময় তাদেরকে স্বাভাবিক আমেজে দেখা যায়। ছিলনা কোন ভয়-আতংকের চাপ। ভোরে বুদ্ধপূজা দান, সকাল ৮টায় অষ্টশীল গ্রহণ, বিকাল ৪টায় ধর্মদেশনা শ্রবণ, সন্ধ্যায় হাজার তৈল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে দেশ ও বিশ্বশান্তি কামনায় বিহারে বিহারে সমবেত প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। তবে এবারের অনুষ্ঠানে ছিলনা বাড়তি কোন আড়ম্বরতা।
প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিপীড়নের প্রতিবাদে এবং তাদের প্রতি সমবেদনা জানাতে এবারে ফানুস উত্তোলনসহ যাবতীয় আনন্দ-উৎসব পরিহার করা হয়। পালন করা হয়নি ঐতিহ্যবাহী কল্প জাহাজ ভাসায় উৎসবও।
এদিকে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপনে যাতে কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেইজন্য সমগ্র জেলাব্যাপী প্রশাসনকে কড়া তৎপরতায় দেখা গেছে।
রামুতে দেখা গেছে ভোর ৬ টা থেকে রামুর প্রতিটি বৌদ্ধ বিহারে কড়া নিরাপত্তার মাধ্যমে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যভাবে এই উৎসব শুরু হয় এবং অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নিরাপত্তা জোরদার ছিল। প্রায় প্রতিটি বিহারে স্থায়ীভাবে পুলিশ মেতায়েন করা হয়। পূজারীরা যাতে বিভিন্ন বিহারে নির্বিঘ্নে এবং নিরাপদে যাতায়াত করতে পারেন তৎজন্য পর্যাপ্ত মোবাইল টহলের ব্যবস্থা করা হয়। তাছাড়াও যেকোনো অপ্রীতিকর অবস্থা তাৎক্ষনিকভাবে নস্যাৎ করার জন্য থানা এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পর্যাপ্ত ষ্টাইকিং ফোর্স ষ্টান্ডবাই ছিল।
এই বিষয়ে রামু থানার চৌকস অফিসার্স ইনচার্জ লিয়াকত আলী আমাদের রামু ডটকমকে জানান, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ একটা সংকট সময় পার করছে। মানবিক খাতিরে তাদের জন্য সরকার এবং প্রশাসন সর্বোচ্চ করে যাচ্ছে। কিন্তু এই ইস্যুকে ব্যবহার করে কেউ যেন কোন ধরণের অপতৎপরতা চালাতে না পারে সেইজন্য প্রশাসন সর্বদা সচেষ্ট আছে। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে যার যার ধর্ম পালন করার অধিকার সবার আছে। জনগণের এই মৌলিক এবং মানবিক অধিকারের সুরক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশ অত্যন্ত যত্নশীল। আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি এবং করে যাব। প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপনে রামুর কোথাও কোন ধরণের সমস্যা হয়নি। সবাই স্বাভাবিকভাবে প্রবারণা উদযাপন করেছেন।আগামী অনুষ্ঠানগুলোও একইভাবে সম্পন্ন করা হবে।
রামু বৌদ্ধ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পুরাকীর্তি সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু বলেন, কঠোর নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে নির্বিঘ্নে এবং শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিটি বিহারে বিহারে শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা পালিত হয়েছে। প্রত্যেকটি বিহারে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল স্বাভাবিক এবং সর্বোচ্চ। কোথাও কোন ধরণের সমস্যা হয়নি।
এদিকে প্রবারণা উপলক্ষে জেলার আইনশৃংখলা পর্যবেক্ষণ ও বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহার পরিদর্শন করেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ড. একেএম ইকবাল হোসেন। এর ধারাবাহিকতায় বিকাল ৫টার দিকে তিনি রামুতে আসেন। প্রথমে রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারে আসেন এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত, উপসংঘরাজ পন্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথের’র সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এসময় তিনি তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবরও নেন। পরে বিহারে সমাগত উপাসক-উপাসিকাদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যে তিনি বলেন-‘আমি আপনাদের সাথে শুভ প্রবারণা পূর্ণিমার কুশল বিনিময় করতে এসেছি। আপনাদের প্রাণবন্ত এবং শতস্ফুর্ত অংশগ্রহণ দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আপনাদের কোন ভয় নেই। এভাবে নির্বিঘ্নে ধর্ম পালন করুন। আমরা আপনাদের পাশে আছি। আমি বার বার আসব আপনাদের মাঝে’। এরপর তিনি উত্তর মিঠাছড়ি প্রজ্ঞামিত্র বন বিহার এবং রাংকুট বনাশ্রম বিহার পরিদর্শনে যান। সেখানেও তিনি উপস্থিত উপাসক উপাসিকাদের উদ্দেশে অনুপ্রেরণাদায়ী বক্তব্য রাখেন।
রামুতে বিভিন্ন বিহার পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপারের সাথে সার্বক্ষণিক ছিলেন রামু থানার অফিসার্স ইনচার্জ লিয়াকত আলী এবং ডিআইওয়ান প্রভাষ চন্দ্র ধর প্রমূখ।











