সুনীল বড়ুয়া:
বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে এইচআইভি অঅক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ২৫ আগস্টের পর থেকে গতকাল শনিবার (১১ নভেম্বর) পর্যন্ত আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৬১ জনের শরীরে এইচআইভি সনাক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন,এ সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
গেল ১৬ই সেপ্টেম্বর উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে প্রথম এইচআইভি পজেটিভ ২ জন নারীকে সনাক্ত করা হয়। দুইমাসেরও কম সময়ের মধ্যে এ সংখ্যা ৬১জনে গিয়ে দাঁড়ায়। এমন পরিস্তিতিতে শংকিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে এইচআইভি পজেটিভ এর সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকায়, মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুকির মুখে এগুচ্ছে টেকনাফ ও উখিয়াসহ পুরো কক্সবাজারের মানুষ। রোহিঙ্গাদের মধ্যে যতই এইডস রোগীর সংখ্যা বাড়ছে ততই কক্সবাজারে এইডস ঝুকি বাড়ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এইডস ঝুকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম মিয়ানমার। দেশটিতে এইডস আক্রান্ত রোগির সংখ্যা আড়াই লাখের উপর এবং প্রতি এক হাজার জনে আট জনই এইচআইভি পজেটিভ। সে হিসাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করা সোয়া ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গার মধ্যে অন্তত পাচ হাজার জনেরও বেশি এইচআইভি আক্রান্ত থাকার কথা। এমন ধারনা চিকিৎসকদের ও।
একদিকে পর্যটন শহর অন্যদিকে সীমান্ত নগরী হওয়ায় আগেড় থেকেই মরণব্যাধি এইডস এর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ছিলো কক্সবাজার। এরমধ্যে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসাবে চিহ্নিত মিয়ানমার থেকে এত বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্টী বাংলাদেশে ঢুকে পড়ায় কক্সবাজার ভয়াবহভাবে এইডস রোগের বিস্তার ঘটতে পারে এমন আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মো. শাহীন আব্দুর রহমান বলেন, নতুন আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে গতকাল শনিবার (১১ নভেম্বর) ৬১জন এইচআইভি আক্রান্ত পাওযা গেছে। এদেরমধ্যে ৩২ জন নারী, ১৯ জন পুরুষ ও ১০ জন শিশু রয়েছে। তবে এদের ৫৬ জনই এইচআইভি আক্রান্ত হিসাবে সনাক্ত হয়েছ্ েমিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে। অন্যরা এখানে এসে জানতে পারেন তারা যে আক্রান্ত।
আরএমও আরো বলেন, বাংলাদেশে ৬ টি এইচআইভি/এইডস নিরুপন কেন্দ্র আছে,এরমধ্যে কক্সবাজার একটি। এছাড়াও এইডস আক্রান্তদের সনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনতে এরই মধ্যে উখিয়া ও টেকনাফে দুটি দল কাজ করছে। আমরা চেষ্টা করছি যতদ্রুত সম্ভব এইচআইভি আক্রান্তদের চিহ্নিত করে তাদের চিকিৎসা সেবার আওতায় আনতে।
ডা. শাহীন আরো বলেন,এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত সুঁই,সিরিঞ্জ,ব্লেড অন্যজন ব্যবহার করলে,এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে যৌন মিলন করলে এইডস ছড়ায়। আবার এইডস আক্রান্ত নারী গর্ভবতী হলে পেটের সন্তানটিও এইডস এ আক্রান্ত হতে পারে। তাই এইডস প্রতিরোধে এসব বিষয়ে সকলকে অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে।
কক্সবাজার পিপলস ফোরামের সভাপতি সাংবাদিক ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন,কক্সবাজারে এইডস রোগীর সংখ্যা বাড়ছে,এটি আমাদের জন্য অশনি সংকেত। আমরা বিভিন্নভাবে খবর পেয়েছি এ পর্যন্ত অন্তত পাঁচ হাজার রোহিঙ্গা যুবতী নারী আমাদের হোটেল মোটেলে যৌন ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে। আমরা এটা বকলতে পারি,বিশ্বের সবচে ভয়াবহ মরণব্যাধি এ রোগটি ভবিষ্যতে কক্সবাজারে ভয়াবহ আকার ধারন করতে পারে।
কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সহ সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার কানন পাল বলেন,পর্যটন এবং সীমান্ত শহর হওয়াতে আমরা এমনিতেই এইডস ঝুঁকিতে ছিলাম। এরমধ্যে লাখ লাখ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ যেন আমাদের জন্য ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’। আমার মনে হচ্ছে উখিয়া-টেকনাফসহ পুরো কক্সবাজারের মানুষ মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির দিকে এগোচ্ছি। এ ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়বে কক্সবাজারবাসী।
কক্সবাজার জেলার সিভিল সার্জন ডা.আবদুস সালাম জানান, রোহিঙ্গাদের মধ্যে এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। রোহিঙ্গারা হাসপাতালে সেবা নিতে এলেই আমরা তাদের এইচআইভি পরীক্ষা করাচ্ছি।
তিনি বলেন, বর্তমানে ১০০ জন এমবিবিএস, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ইন্টার্নি চিকিৎসক, মেডিকেল স্টুডেন্টসহ ২ হাজার জনবল রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত রয়েছে। চিকিৎসা ক্যাম্পেইনে এইচআইভি শনাক্তসহ সংক্রামক রোগীদের শনাক্ত করতে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও আমরা চেষ্ঠা করছি রোহিঙ্গাদের একটি বড় অংশ এইচআইভি পরীক্ষা করানোর। এতে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে আক্রান্তের হার কেমন তা নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং পরিস্থিতি মোকাবেলায় উদ্যোগ গ্রহনে সহায়ক হবে।






