মোঃ ইউছুপ মজুমদার :
বান্দরবানের লামা উপজেলায় দু:স্থ মুক্তিযোদ্ধা হেলুমিয়ার লাল-সবুজের বসত ঘর নির্মাণ করে দিলেন সরকার। ভূমিহীন ও অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উপহার এ বীর নিবাস। দু:স্থ মুক্তিযোদ্ধারে জন্য গৃহ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় সরকারি অর্থায়নে এই বীর নিবাস বাড়িটি নির্মিত হয়।
জানা যায়, ২০১৩ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর প্রধানমন্ত্রীর উপহার স্বরূপ ভূমিহীন মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য এ ‘বীর নিবাস’ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষ এলজিইডি গত অর্থ বছরে সাড়ে নয় লাখ টাকা বাড়িটি নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করেন। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে বাড়ীটির কাজ পান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স সম্রাট কন্সট্রাকশন। উপজেলা প্রকৌশলী জানান, বাড়ি ও সংযুক্ত দু’টি পশুপালন সেট নির্মাণ কাজের গুণগতমান সন্তোষজনক। দেশ স্বাধীনের পর ৭০’র দশকের শেষদিকে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হেলুমিয়া পার্বত্য লামা উপজেলা পূনঃবাসিত হন। একটি ছোট্ট বাঁশের ঘরে বাস করতেন ৭১’র রণাঙ্গনের সৈনিক হেলুমিয়া। লামা পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডে একটি বাঁশের ঝুপড়ি ঘর নির্মাণ করে স্ব-পরিবারে বসবাস করতেন। লামা শহরের হোটেল রেস্তোরাগুলোতে পানির ভার বহন করে জীবিকা নির্বাহ করতেন এই যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা। এসব মুক্তিযোদ্ধারা ছিল অনেকটা অবজ্ঞা-অবহেলার পাত্র। অবস্থা খারাপ দেখে সরকার তাকে দালান ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন। এত খুবই খুশি এই বীর মুক্তিযোদ্ধা হেলু মিয়া।
১৯৯৭ সালে তৎকালীন সময়ে দেশের কয়েকটি দৈনিক পত্রিকায় হেলুমিয়াকে নিয়ে নানা শিরোনামে স্থানীয় রিপোর্টারগণ অনেক লেখালেখিও করেছিল। এর ফলে অত্র উপজেলার হেলুমিয়াসহ আরো বীর মুক্তি সেনানিদের মহান স্বাধীনতায় যুদ্ধজীবনের কাহিনী নিয়ে ফলাও করে রিপোর্ট হতে থাকে। তৎসময় রাজনৈতিকভাবেও পরিবেশ অনেকটা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অনুকুলে আসে। এর আগে ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতা আসার পর দেশের সূর্য্য সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, বিশেষ করে দরিদ্র ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে থাকেন। এ ধারাবাহিকতায় সরকার মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় গঠনসহ ধাপে ধাপে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিবৃদ্ধি ও দু:স্থ-যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা হাতে নেন। ২০০১ সালে বিষয়টি রাজনৈতিক সংস্কৃতির জালে পেছিয়ে যায়। ২০০৯ সাল থেকে আবার বর্তমান জাতির জনকের কন্যা শেখ হাসিনা রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে ধারাবাহিক উন্নয়ন শুরু করেন ৭১ এর রণাঙ্গনের মুক্তিসেনা ও তাদের ত্যাগের ফসল স্বাধীন সোনার দেশ গড়ার।
বর্তমান সরকার একটি লাল সবুজের ৫০০বর্গ ফুট আয়তনের ১টি বিল্ডিং বাড়ি ও ২টি ডেইরী, পোল্ট্রি পাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়ায় জিবনের শেষ বয়সে খুবই খুশী হলেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হেলুমিয়া।






