প্রেস বিজ্ঞপ্তি:
‘ভিটামিন এ খাওয়ান, শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমান’ এ প্রতিপাদ্য নিয়ে সারা দেশে আগামী ২৩ ডিসেম্বর শনিবার পালিত হবে জাতীয় ভিটামিন ‘এ প্লাস’ ক্যাম্পেইন। ক্যাম্পেইন উপলক্ষে ১৭ ডিসেম্বর রবিবার রামু হাসপাতাল মিলনায়তনে স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যেগে উপজেলা এডভোকেসী ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে সভাপতির বক্তব্যে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবদুল মন্নান বলেন, ভিটামিন এ শুধুমাত্র অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব থেকে শিশুদের রক্ষা করে তাই নয়- ভিটামিন এ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি কমায়, দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, ডায়রিয়ার ব্যাপ্তিকাল ও জটিলতা কমায়। তিনি আরো বলেন, শিশুর বয়স ৬মাস পূর্ণ হলে মায়ের দুধের পাশাপাশি পরিমানমত ঘরে তৈরী সুষম খাবার খাওয়ান। মা এবং শিশুর পুষ্টির জন্য গর্ভবতী এবং প্রসূতি মায়েদের স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী পরিমান ভিটামিন এ সমৃদ্ধ রঙিন শাক সবজী এবং হলুদ ফলমুল খেতে দিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের সবচেয়ে বড় সাফল্য টিকাদান কর্মসূচি। কর্মসূচিটি সফল করার লক্ষ্যে ব্যাপকভাবে প্রচার প্রচারনা ও সকলের সার্বিক প্রচেষ্টায় মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুহার হ্রাস পেয়েছে ও টিকাদানের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন রামু উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আঞ্জুমান আরা বেগম, তিনি বলেন জাতির ভবিষ্যৎ শিশুদের কথা চিন্তা করে শিক্ষক- ছাত্রসহ সচেতন মহল মিলে ভিটামিন ‘এ প্লাস’ ক্যাম্পেইন সফল করা সকলের দায়িত্ব। প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুরা যাতে বাদ না পরে তার জন্য বিশেষভাবে দৃষ্টি রাখতে হবে।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রামু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, এমওডিসি ডা. রাজেত আল হাসান, মেডিকেল অফিসার ডা.শামীম রাসেল, স্বাস্থ্য পরিদর্শক বিপ্লব বড়ুয়া, হাসপাতাল স্বাস্থ্য সেবা কমিটির সদস্য সাংবাদিক দর্পণ বড়ুয়া, পরিসংখ্যানবিদ পংকজ পাল, ফার্মাসিস্ট সমর শর্মা, এমটি ইপি আই আলী আকবর, সিএইচসিপি রেজাউল করিম, এসএম জাফর, স্বাস্থ্য সহকারী নুরুল আমিন, আহমদ উল্লাহ, এনামুল হক, অফিস সহকারী শৈবাল সেন, সঞ্চালক ছিলেন দীপংকর বড়ুয়া ধীমান প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ৬-১১ মাস বয়সী প্রতিটি শিশুকে একটি নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী শিশুদের একটি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে ক্যাম্পেইনে। সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত রামু উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ৩৩টি ওয়ার্ডের ২৮১টি টিকাকেন্দ্রে (অস্থায়ী কেন্দ্র ২৬৪, অতিরিক্ত ১১, স্থায়ী ৩, ভ্রাম্যমান ৩টি) কেন্দ্রে এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। তবে ৪ মাসের মধ্যে কোনো শিশু ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খেয়ে থাকলে তাকে এই ক্যাম্পেইনে আর এ ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে না।
ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল মাঠকর্মী বা স্বচ্ছাসেবকদের নিজহাতে খাওয়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়, কোনো অবস্থাতেই অভিভাবকদের হাতে ক্যাপসুল দেওয়া যাবে না। ৬ মাসের কম এবং ৫ বছরের বেশি বয়সী শিশু, অসুস্থ শিশু এবং কান্নারত অবস্থায় জোর করে ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে না। ক্যাপসুলটি কাঁচি দিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে কেটে ভেতরের তরলটুকু খাওয়াতে হবে। আস্ত ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে না। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বেশি ভিড় হয় দেখে কোনো কোনো মাঠকর্মী আগে-ভাগে অনেক ক্যাপসুল কেটে রাখেন, এতে ক্যাপসুলের গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়। তাই এটা করা যাবে না।







