নিউজ ডেস্ক:
বরেণ্য লেখক ও শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল হত্যাচেষ্টা মামলায় বাবা ও ছোট ভাইয়ের পর এবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন হামলাকারী ফয়জুল হাসানের বড় ভাই এনামুল হাসান।
মঙ্গলবার বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সিলেট মহানগর হাকিম হরিদাস কুমার ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় এনামুলের জবানবন্দি নথিভুক্ত করেন।
জবানবন্দিতে এনামুল আদালতকে জানান, ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারী ফয়জুল হাসান জঙ্গিবাদে জড়িত- তা আগে থেকেই জানতেন পরিবারের সদস্যরা। এমনকি তাকে সমর্থন যুগিয়েছিলেন তার বড় ভাই এনামুল হাসান।
তিনি আরও জানান, ড. জাফর ইকবালের ওপর হামলার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকরী বাহিনী যাতে তথ্য-উপাত্ত না পায় এ জন্য কম্পিউটারের মনিটর, সিপিইউ, মেমোরি কার্ড এবং যাবতীয় তথ্যসহ বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে পালিয়ে যান এনামুল।
এদিন বিকেল সাড়ে ৪টায় জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন মহানগর হাকিম তৃতীয় আদালতের বিচারক হরিদাস কুমার। প্রায় তিন ঘণ্টা আদালতে জবানবন্দি দেন এনামুল।
তার জবানবন্দির বরাত দিয়ে সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) অমূল্য কুমার চৌধুরী বলেন, ফয়জুল বিপথগামী হয়ে জঙ্গিবাদে জড়িত হওয়ার বিষয়টি আগে থেকেই জানতেন এনামুল ও তার মা-বাবা। এসব বিষয় তারা গোপন রেখেছেন।
এর আগে জাফর ইকবাল হত্যাচেষ্টা মামলায় গত ১৮ মার্চ একই আদালতে হামলাকারী ফয়জুল হাসান ও ১৫ মার্চ তার বাবা মাওলানা আতিকুর রহমান স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
প্রসঙ্গত, গত ৩ মার্চ শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি অনুষ্ঠানে জাফর ইকবালের ওপর হামলা চালায় ফয়জুল হাসান। এ ঘটনায় তাকে প্রধান আসামি করে মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানায় মামলা দায়ের করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইশফাকুল হোসেন।
মামলায় এ পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তারা হলেন- ফয়জুর রহমান, তার বাবা মাওলানা আতিকুর রহমান, মা মিনারা বেগম, ভাই এনামুল হাসান, মামা ফজলুর রহমান ও ফয়জুলের বন্ধু সোহাগ মিয়া। এদের মধ্যে সোহাগ মিয়া রিমান্ড রয়েছেন।






