একেএম লিয়াকত আলী:
বিষন্নতা, দুশ্চিন্তা, আতংক – এইগুলি মানুষের দুর্বলতার লক্ষন নয়।
এইগুলি হলো দীর্ঘ সময়ের জন্য নিজের মানসিক শক্তি ধরে রাখতে চেষ্টা করার লক্ষন।
মানসিক অসুস্থতা লজ্জা পাওয়ার কোনো বিষয় না। এই বিষয়ে বলার মত তেমন কিছু না থাকলেও সামাজিক জীব হিসেবে কিছুটা আলোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছি।
আমরা সাধারণত মানসিক স্বাস্থ্যের চেয়ে মৌখিক স্বাস্থ্যবিধিকে বেশি গুরুত্ব দিই। আমরা দৈনিক দুবার ব্রাশ ও ফ্লস করি দাঁত চমৎকার, চকচকে এবং পরিষ্কার রাখার জন্য।কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য আমরা কি করি ? আমরা অনেকেই এই বিষয়ে কিছুই করি না – কিছু জানিও না। অথচ আমাদের উচিত মানসিক সুস্থতার প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়া।
জন মিল্টন বলেছিলেন, “মনেরও একটা নিজস্ব জায়গা আছে। এটা জাহান্নাম থেকে বের করে একটি স্বর্গ তৈরী করতে পারে বা স্বর্গ থেকে জাহান্নামও।”
নেপোলিয়ন বলেছেন, “মানুষের কল্পনা বা চিন্তা বা ভাবনা অনেক শক্তিশালী একটা কিছু।”
আপনি আপনার চারপাশে এবং আপনার রুমে এই মুহূর্তে যা দেখতে পাচ্ছেন – তা প্রথমেই আপনার চিন্তায় প্রবেশ করে – পরে এগুলো বস্তুগত হয়ে Brain এ প্রবেশ করে।
একটু ভেবে দেখুন যদি প্রতিটি স্কুলে মানসিক সচেতনতা শেখাত বা কিভাবে অস্বীকৃতি, উদ্বিগ্নতা, বিষন্নতা বা একাগ্রতা মোকাবেলা করা যায় ইত্যাদি বিষয় অন্যান্য বিষয়ের মত যেমন রাষ্ট্র বিজ্ঞান বা সমাজ বিজ্ঞান ইত্যাদি বিষয়ের মত বাধ্যতামূলক একটা বিষয় থাকত – তাহলে ছোট বেলা থেকেই আমরা মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপারে সচেতন হতে পারতাম।আমি জানিনা অদূর ভবিষ্যতে এমন কোন বিষয় মাধ্যমিক স্কুলে পাঠ্য পুস্তক হিসেবে সংযোজিত হবে কিনা।
মানসিক স্বাস্থ্যের আগে মস্তিস্কের স্বাস্হ্য সম্পর্কে আমাদের জানা অপরিহার্য।
জন মেদিনা তার “Brain Rules” বইটিতে লিখেছেন যে কিভাবে একটা Healthy Happy Brain তৈরী করা যায়।
Prince Ea এটাকে “Smiling Mindful Brain” কৌশল নামে অভিহিত করেছেন – যা তিনটি সহজলভ্য শক্তিশালী গুণাবলীর সম্বনয়ে গঠিত। যেমন – হাসি, মনোনিবেশ এবং শ্বাস-প্রশ্বাস। (Smiling, Mindfulness & Breathing)
১) হাসি :-
হাসিতে কি আছে ?
একটা সহজ হাসি আপনার পুরো স্নায়ুতন্ত্রকে বা বেশি সমুহকে শিথিল করতে পারে। মুখের বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া অনুযায়ী – মুখের পেশী আমাদের আবেগী অবস্থার উপর বৃহত্তম প্রভাব বিস্তার করে। যখন আপনি হাসছেন – এমনকি মন খারাপ বা অসুখী অবস্থায়ও যদি হাসেন – তখনও আনন্দ অশ্রু আপনার কিছু পেশীতে ভাঁজ সৃষ্টি করে এক ধরনের অনুভুতির উদ্রেক ঘটাবে এবং আপনার মনে হবে যে আপনি কিছু একটা নিয়ে খুশী – এতে আপনার মেজাজ আর গরম থাকবে না।তাৎক্ষনিকভাবে আপনি মানসিকভাবে স্বাভাবিক হয়ে যাবেন। (চলবে)
লেখকঃ একেএম লিয়াকত আলী
অফিসার ইনচার্জ
রামু থানা, কক্সবাজার।







