আমাদের রামু প্রতিবেদক:
মুক্তিপণের দাবীতে অপহৃত শিশু আলী আহম্মদ (৬) কে অপহরনের ৩ দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে অপহরণকারী তোফায়েল (২৩) কে।
গত ২০ মার্চ মঙ্গলবার ২০১৮। সকাল ১১টা। টেকনাফ সাবরাং গুচ্ছগ্রামে নিজ বাড়ীর পাশে সমবয়সী অন্যান্য ছেলেদের সাথে খেলছিল আলী আহাম্মদ। পাশে ওৎপেতে থাকা ইসমাইল, তোফায়েল আর বেলাল পরস্পর যোগসাজসে মুখ চেপে জোর করে টেনে হিচঁড়ে নিয়ে যায় আলী আহাম্মদকে। খেলায়রত অন্যান্যরা ভয়ে সবাই চুপ থাকে।

বেলা গড়িয়ে বিকাল হলেও আলী আহম্মদ বাড়ী না ফেরায় তার মা বাবা সবাই খোঁজাখুঁজি শুরু করে। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে অপহরণকারী ইসমাইল ফোন করে আলী আহাম্মদের পিতা আবু তাহেরকে। প্রথমে দাবী করে ছেলেকে জীবিত ফেরৎ পেতে চাইলে পাঁচ লাখ টাকা। গরীব হতভাগ্য পিতা আবুতাহের কোথায় পাবে এত টাকা !
শুরু হয় পরিবারে কান্নার রোল। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় রাতে আসে টেকনাফ থানায়। ফুপিয়ে ফুপিয়ে কান্না করতে করতে কোন রকমে ছেলে অপহরণের পুরো বিষয় খুলে বলে পুলিশের কাছে। এরপর থেকে শুরু হয় পুলিশি তৎপরতা।

টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রনজিত বড়ুয়া আমাদের রামু ডটকমকে বলেন, শিশু অপহরণের বিষয়টি জানতে পেরে অপহৃতকে উদ্ধার ও অপহরণকারীকে আটক করতে অভিযান শুরু করি। বিষয়টি অবহিত করি পুলিশ সুপার স্যার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উখিয়া সার্কেল স্যারকে। স্যারদের দিক নির্দেশনা ও মনিটরিং এ মোবাইল ট্রেকিং এর মাধ্যমে অপহৃত ও অপহরণ কারীদের অবস্থান সনাক্ত করে অভিযান পরিচালনা করে ২২ মার্চ বৃহস্পতি বার রাত সোয়া ১১ টায় নয়া শরনার্থী ক্যাম্পের সামনে থেকে উদ্ধার করা হয় শিশু অালী অাহাম্মদকে। আটক করা অপহরণ চক্রের সদস্য তোফায়েলকে। তোফায়েল সাবরাং কচুবুনিয়া সাকিনের আবদুর রহিমের ছেল।বাকী দুই আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
উদ্ধার হওয়া শিশু আলী আহাম্মদের পিতা আবু তাহের বলেন, ওসি স্যার না হলে আমরা আমাদের ছেলেকে সহজে ফিরে পেতাম না। আমরা উনার এবং পুলিশের কাছে কৃতজ্ঞ।
এদিকে হারানো ধন ফিরে পেয়ে আলী আহাম্মদের পিতা আবু তাহের ও মা হাসিনা আক্তারের চোখে গড়িয়ে পড়ে আনন্দাশ্রু।







