নিউজ ডেস্ক:
বাংলা বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে সরকারের বিধি-নিষিধকে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর কাছে নতি স্বীকার বলে মন্তব্য করেছেন অধিকারকর্মী সুলতানা কামাল।
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের বিধি-নিষেধের সমালোচনা করে এই মন্তব্য করেন তিনি।
গত ৩ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানান, নববর্ষের উন্মুক্ত আয়োজন বিকাল ৫টার মধ্যে শেষ করতে হবে। এছাড়া মঙ্গল শোভাযাত্রায় কোনো মুখোশ পরা যাবে না।
সুলতানা কামাল বলেন, “যে অনুষ্ঠানটি একটি অসাম্প্রদায়িক, যে অনুষ্ঠানে জাতি-ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাই অংশগ্রহণ করে এবং একটি বিশেষ সংস্কৃতির প্রকাশ ঘটে, সেটার বিরুদ্ধে যারা দাঁড়ায়, তাদের কাছে রাষ্ট্র নতিস্বীকার করল।”
হেফাজতে ইসলামসহ কট্টর ইসলামী গোষ্ঠীগুলো পহেলা বৈশাখ উদযাপনকে হারাম দাবি করে তা বন্ধ করতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে আসছে।
সরকারের সিদ্ধান্তের প্রভাব নারীদের ওপরই বেশি পড়বে বলে মনে করেন ‘আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোটের’ চেয়ারপারসন সুলতানা।
তিনি বলেন, “৫টার পরে যদি কোনো নারী রাস্তায় থাকেন এবং যে সমস্ত এলাকায় চলাফেরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেসব জায়গা যদি কোনো নারী যান এবং কোনো বিপদে পড়েন, তখন রাষ্ট্র বলবে, আমরা সেখানে নিরাপত্তা দিতে পারব না, সেটা তো আগেই বলে দিয়েছিলাম।
“তার মানে যারা (দুর্বৃত্ত) এই ধরনের কর্মকাণ্ড করে তাদেরকে ভালোমতোই একটি সংকেত দেওয়া হল যে, ৫টার পরে তারা যে কোনো কিছু করতে পারে এবং রাষ্ট্র এর কোনো দায়-দায়িত্ব নেবে না।”
নারী নিরাপত্তা জোটের আয়োজনে ‘বর্ষবরণ ১৪২৫ উদযাপনে নারীকে শৃঙ্খলিত না করার’ দাবিতে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর মহুয়া লেয়া ফলিয়া।
তিনি বলেন, “পাকিস্তান আমলের মতো এখনও অসাম্প্রদায়িক বাংলার সংস্কৃতি ও নারীর স্বাধীন চলাফেরার বিরুদ্ধে মৌলবাদী শক্তির প্রচার প্রচারণা চলমান আছে ও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
“দেশে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নারীর প্রতি নৃশংসতার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হয় না, দোষীদের খুঁজে বের করা বা দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের অবহেলা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতার ফলে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয় না।”






