অনলাইন ডেস্কঃ
রাজধানীর বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও কৃষ্টি-সংস্কৃতির সমন্বয়ে দৃষ্টিনন্দন শৈল্পিক স্থাপনা ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স’র নির্মাণ কাজের মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া এটির মূল ব্যয় ১২০ কোটি ৯১ লাখ থেকে ৭৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ১৯৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকার প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
রোববার (২৯ জুলাই) সকালে রাজধানীর শেরে বাংলানগরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (এনইসি) সম্মেলন কক্ষে বৈঠকে প্রকল্পটি সংশোধিত ব্যয় ও সময় অনুমোদন দেয়া হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি একনেকে এই প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। তখন প্রকল্পটি মোট খরচ ধরা হয় ১২০ কোটি ৯১ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। ২০১৮ সালের জুন মাসের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা ছিল।
কিন্তু প্রকল্পটি বাস্তবায়নে গিয়ে দেখা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি যথাযথ প্রতিফলনের জন্য কমপ্লেক্স এর ল্যান্ডস্কেপিং ও ওয়াটারস্কেপিংসহ নির্মাণাধীন ভবনগুলোর অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা স্থাপত্য নকশা পরিবর্তন প্রয়োজন। তাছাড়া বাস্তবতার নিরিখে কয়েকটি নতুন অংশ যেমন, লিফট, স্টিল স্ট্রাকচার, বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট ও পার্কিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং বিল্ডিং অটোমেশন স্থাপন ইত্যাদি অন্তর্ভুক্তির প্রয়োজন রয়েছে। এ জন্য পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় মোট ১৯৯ কোটি ৩৭ লাখ ৫৬ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে এবং ২০১৬ সালের জানুয়ারি হতে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়।
প্রকল্পটির সংশোধনের কারণ হিসাবে বলা হচ্ছে, অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা, ল্যান্ডস্কেপিং ও ওয়াটারস্কেপিং আইটেমগুলো অন্তভুক্তি, স্থাপত্য নকশা পরিবর্তন, একটি নতুন লিফটসহ স্টিল স্ট্রাকচার অন্তর্ভুক্তি, বিল্ডিং ও পার্কিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, বিল্ডিং অটোমেশন স্থাপন, কিছু অংশের পরিমাণ ও ব্যয়ের হ্রাস বৃদ্ধি, আউটসোসিং পদ্ধতিতে ১২ জন অনিয়মিত শ্রমিক নিয়োগের সংস্থান এবং প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল এক বছর বৃদ্ধি প্রয়োজন।

চলতি বছরের ১৯ জুন ভবনগুলোর অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জাসহ কমপ্লেক্সের সৌন্দর্যবর্ধনে পরিবর্তন সংক্রান্ত সার্বিক ধারণাগত বিষয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট বিস্তারিত উপস্থাপন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিতে এনইসি সভার অন্যান্য সিদ্ধান্ত প্রতিফলন করে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় আরডিপিপি পুনর্গঠন করা হয়েছে। পুনর্গঠিত আরডিপিপির (সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) মোট ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ১৯৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।
সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ৮ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কমপ্লেক্সটির ভিত্তিফলক উন্মোচন করেন। এক দশমিক ৯৪ একর জমির ওপর এ কমপ্লেক্সে একটি মাল্টিপারপাস হল, ডরমেটরি, প্রশাসনিক ভবন, মিউজিয়াম, লাইব্রেরি ইত্যাদি ছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যানের বাসভবন নির্মাণ করা হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের সঙ্গে সমতলের মানুষের পারস্পরিক সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান সহযোগিতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মেলবন্ধন তৈরিতে কমপ্লেক্সটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। তাছাড়া স্থাপনাটি পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সামাজিক রীতি-নীতি, ভাষা, ধর্ম এবং আচরণগত স্বাতন্ত্র্যতা সম্পর্কে বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষকে পরিচিত করে তুলবে।







