নিজস্ব সংবাদদাতাঃ
কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের মুহুরীপাড়ায় বিশাল একটি পাহাড়ে মাঝ বরাবর ফাটল দেখা দিয়েছে। শনিবার সকালে পাহাড়ে এই ফাটল দেখে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। পাহাড়ধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন প্রশাসন। শুরু করেছে উচ্ছেদ অভিযান। রোববার পর্যন্ত সেখান থেকে ৪০টি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ঝিলংজা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান জানান, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে শনিবার সকালে বিসিক শিল্প নগরীর কাছে মুহুরীপাড়ায় একটি পাহাড়ে বিশাল ফাটল দেখতে পেয়ে লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। বিকেল ৩টার দিকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবদুস সোবহানের বাড়ির ওপর পাহাড়ের একটি অংশ ধসে পড়ে। এতে কেউ হতাহত না হলেও স্থানীয় প্রশাসন ওই এলাকা থেকে লোকজনকে অপসারণে অভিযান শুরু করেছে।
কক্সবাজারের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আলী কবির বলেন, মুহুরীপাড়ায় বিশাল ওই পাহাড়ে অর্ধশত পরিবার বসবাস করছে। পাহাড় কেটে তারা বসতি গড়ে তুলেছে। ফলে অতিরিক্ত বৃষ্টিতে পাহাড়ে বিশাল ফাটল দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, উঁচু পাহাড়টির কিছু অংশ এর মধ্যে ধসে পড়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আরও বড় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কাজী আবদুর রহমান জানান, মুহুরীপাড়ার ওই এলাকা থেকে গতকাল পর্যন্ত ৪০ পরিবারের ৩ শতাধিক লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে প্রশাসন, পুলিশ, দমকল বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন। দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম রাখা হয়েছে। তিনি জানান, এর আগেও এ এলাকায় পাহাড়ধসে ৯টি বসতবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, গত ৫ দিনে জেলার সদর ও রামু উপজেলায় পাহাড়ধসে ৬ জন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১০টি বসতবাড়ি ও ২টি দোকান।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, পাহাড়ে যারা ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে তাদের অধিকাংশ বাস্তুহারা। তালিকা করে তাদের পুনর্বাসন করা হবে। এ ব্যাপারে ইতিমধ্যে গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।







