লামা প্রতিনিধি:
বান্দরবানের লামা উপজেলায় নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে বিশ্ব আদিবাসী দিবস পালিত হয়েছে। এবারের আদিবাসী দিবসে তাদের অধিকার সুরক্ষার লক্ষ্য নিয়ে দিবসটি পালন করেছে।
তবে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী নয়, ‘আদিবাসী’ আত্মপরিচয়ের স্বীকৃতি চায় পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষরা এ দাবী ছিলো সকল বক্তাদের।
দিবসটি উপলক্ষে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উদযাপন লামা উপজেলা কমিটির উদ্দ্যোগে র্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার সকালে লামা শহরে বর্ণাঢ্য র্যালী বের করা হয়। এতে নারী পুরুষ তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে নানা সাজে অংশ নেয়।
এছাড়া বিভিন্ন দাবি সম্বলিত ব্যানার ফেস্টুন প্লেকার্ড নিয়েও অংশ নেয় বিভিন্ন স্কুল -কলেজের শিক্ষার্থীরা। র্যালীটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে লামা কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারের পালিটোল চত্বরে এসে শেষ হয় এবং পালিটোল চত্বরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ লামা উপজেলার শাখার সভাপতি ইলিশা ত্রিপুরার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, লামা উপজেলা জনসংহতি সমিতি(জেএসএস)’র সভাপতি অংগ্য মার্মা। এ সময় জ্যাক মার্মার সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেএসএস লামা উপজেলা শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক চংপাত ম্রো, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ(পিসিপি) লামা উপজেলা সভাপতি নুংক্য মং মার্মা, বাংলাদেশ মার্মা স্টুডেন্ট কাউন্সিল লামা উপজেলা শাখার সভাপতি হ্লাচিং থোয়াই মার্মা ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ লামা ডিগ্রি কলেজ শাখার সভাপতি সত্যপ্রিয় চাকমা।
এ সময় বক্তারা বলেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী নয়, ‘আদিবাসী’ আত্মপরিচয়ের স্বীকৃতি চায় পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষর্ঠী সকল মানুষ। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে ১৯৯৩ সালকে ‘আন্তর্জাতিক বিশ্ব আদিবাসী জনগোষ্ঠী বর্ষ’ ঘোষণা করা হয়। ১৯৯৫ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ‘আন্তর্জাতিক বিশ্ব আদিবাসী জনগোষ্ঠী দশক’ ঘোষণা করা হয়। যার উদ্দেশ্য ছিল আদিবাসীদের উদ্বেগের প্রতি দৃষ্টি দেয়া। এ ছাড়া ১৯৯৫ সালে ৯ আগস্টকে ‘বিশ্ব আদিবাসী দিবস’ ঘোষণা করা হয়। এর আগে জাতিসংঘ ১৯৮২ সালে সর্বপ্রথম আদিবাসীদের স্বীকৃতি দেয়। প্রতি বছর এ দিন সারা বিশ্বে ৭০টি দেশের প্রায় ৩৭ কোটি আদিবাসী জনগণ দিবসটি পালন করছে। বাংলাদেশে প্রায় ৩০ লাখ আদিবাসী রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৪৬টিরও অধিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
আদিবাসীদের জীবন, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের পাশাপাশি মহান মুক্তিযুদ্ধেও ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশে আধিবাসীরা নানা সময়ে আলোচনায় এসেছে। এতদিন যারা বাংলাদেশে আদিবাসী ছিলেন রাষ্ট্রীয় আইনে তারা এখন ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে উপজাতি বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তবে আদিবাসী ফোরাম ও অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সংগঠনের নেতারা সংবিধানে ‘আদিবাসী’ শব্দটি ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আসছেন। তারা আরো বলেন, জাতিসংঘের প্রকাশিত এক প্রতিবেদন মতে, বিশ্বের ৭০টি দেশে ৩৭ কোটি আদিবাসীর বসবাস। তাদের মধ্যে অধিকাংশ এখনো শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার।
প্রধান অতিথি অংগ্য মার্মা বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে ‘আদিবাসী’ শব্দ বাদ দিয়ে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বা ক্ষুদ্র জাতিসত্তা করা হয়। কিন্তু ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী নয়, আমরা ‘আদিবাসী’ আত্মপরিচয়ের স্বীকৃতি চাই। তিনি আরো বলেন, আমাদের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করার দাবী জানান।






