অনলাইন ডেস্কঃ
ছোট শহর খাগড়াছড়ি। পুরো শহরের বেশিরভাগ জনাকীর্ণ এলাকা পুলিশের সিসিটিভির ফুটেজের আওতায়। সেই সুবাদে স্বনির্ভর বাজারে শনিবার সকালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ফুটেজও এখন পুলিশের হাতে। সেই ফুটেজে হামলাকারীদের চেহারা এবং এসএমজির মতো ভারী অস্ত্রের দেখাও মিলেছে। এ ফুটেজ থেকেই সব হামলাকারীকে শনাক্ত করার কাজটি সহজ হবে বলে মনে করছেন খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার আলী আহমদ খান।

গতকাল রোববার বিকেলে নিজ কার্যালয়ে তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান, শনিবারের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে সেনা-বিজিবি ও পুলিশের সমন্বয়ে যৌথবাহিনী গতকাল থেকে সপ্তাহব্যাপী অভিযানে নেমেছে। জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে চেকিং ছাড়াও প্রযুক্তিগত সুবিধা প্রয়োগের মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের গতিবিধি নজরদারি চলছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং জনমনে আস্থা ফেরাতে সমাজের নেতাদের সহযোগিতা নেওয়া হবে।
ঘটনার দু’দিন পেরোলেও নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা করা হয়নি। কাউকে আটকও করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ সুপার বলেন, আরও কয়েক দিন চলে যাওয়ার পরও যদি নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা না হয়, তাহলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে।
শনিবার সকাল ও দুপুরে দুই দফায় হামলায় নিহত মোট সাতজনের লাশ গতকাল দাহ করা হয়েছে। রক্তক্ষয়ী ওই হামলার পর থেকে ঘটনাস্থল ও এর আশপাশের এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
হামলার ঘটনায় গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির কোরবানির ঈদের সরকারি ছুটি বাদে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে করা এ কমিটি আজ সোমবার থেকে সরেজমিন কাজ শুরু করবে বলে জানিয়েছেন কমিটির প্রধান এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আবু ইউসুফ।
এদিকে গতকাল জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিকদের সঙ্গে আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম জানান, শনিবারের ঘটনাটি দুঃখজনক, অনাকাঙ্ক্ষিত এবং জেলার জন্য নেতিবাচক।
তিনি জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব দিয়েই দেখছে। ২১ আগস্ট চট্টগ্রামের জিওসি, বিভাগীয় কমিশনার এবং ডিআইজি খাগড়াছড়িতে আবারও মতবিনিময় করা হবে।
নিহত সাতজনের লাশ দাহ :গতকাল উত্তর খবং পুড়িয়া শ্মশানে দাহ করা হয় স্বাস্থ্য সহকারী জিতায়ন চাকমা ও রূপম চাকমাকে। ইউপিডিএফভুক্ত সংগঠনের তিন নেতা পলাশ চাকমা, তপন চাকমা ও এলটন চাকমার লাশ পুলিশ পাহারায় দক্ষিণ খবং পুড়িয়া শ্মশানে নিয়ে আত্মীয়ের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। পরে ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে তাদের দাহ করা হয়। এ ছাড়া ধীরাজ চাকমাকে গ্রামের পানছড়ি উগলছড়ি গ্রামের শ্মশানে এবং সন কুমার চাকমাকে শিব মন্দির গ্রামের শ্মশানে দাহ করা হয়। তাদেরও ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে দাহ করা হয়েছে।
পৃথক হামলায় নিহত সাতজনের মধ্যে চারজনের লাশ শনিবার রাতেই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে ইউপিডিএফভুক্ত পাহাড়ি সংগঠনগুলোর তিন নেতার লাশ গতকাল দুপুরের দিকে হস্তান্তর করা হয়। সদর সার্কেলের এএসপি আফতাব আহমেদ জানান, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্ত রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্বনির্ভর এলাকা থমথমে :দুই দফা গুলিতে সাতজন নিহত ও কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে স্বনির্ভর বাজার ও আশপাশের এলাকায়। বন্ধ রয়েছে দোকানপাট। আতঙ্কে দিন পার করছেন বাসিন্দারা। তবে বন্ধ থাকা খাগড়াছড়ি-পানছড়ি সড়কে গতকাল সকাল থেকে যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। হামলার প্রতিবাদে আজ সোমবার জেলায় আধা বেলা সড়ক অবরোধের ডাক দিয়েছে ইউপিডিএফভুক্ত তিনটি পাহাড়ি সংগঠন।







