অনলাইন ডেস্কঃ
জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া কাজ অনেকটা এগিয়ে গেছে আরো আগেই। দফায় দফায় বৈঠক করে রাজনীতির বিভিন্ন কলাকৈৗশল আলোচনা মাধ্যমে কিছুটা সেরে নেয়া হয়েছে। তাই আজ মঙ্গলবার সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেনের বাসায় গণফোরাম ও সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্টের বৈঠকের পর ঐক্যের নতুন খবরের ব্যাপারে আশাবাদী জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া নেতারা।

এছাড়া ঈদুল আজহার আগে ১১ আগস্ট ও ১৩ আগস্ট দুই দিনের জরুরি বৈঠক করে ১০ দফা প্রস্তাব করা হয়। ১০ প্রস্তাবের ভিত্তিতেই বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য করতে চায় বিএনপি। এরপরেই এই প্রস্তাবের কপি ড. কামাল হোসেনের কাছে পৌঁছানো হয়। পরে ঐক্যের আগ্রহী বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টের শরিক বিকল্পধারা, নাগরিক ঐক্য, জেএসডির কয়েকজন নেতাকেও এই প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া নেতারা বলেছেন, আলোচনা সাপেক্ষে এই ১০ প্রস্তাবের আকার আরও বাড়তে বা কমতেও পারে।
বিভিন্ন দল ও জোটের প্রস্তাবনা নিয়ে কাটাছেঁড়া করেছেন। ইতোমধ্যে তারা ১০টি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছেন। মূলত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত ও সরকারবিরোধী আন্দোলন সামনে রেখেই এ জাতীয় ঐক্য গঠন করা হয়েছে।
জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া সূত্রে জানা গেছে, গণফোরাম ও যুক্তফ্রন্টে জোটগতভাবে যুক্ত না হয়ে একই ইস্যুতে যুগপৎ আন্দোলন করতে অনেকটাই একমত পোষণ করেন ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা। পাশাপাশি সরকারবিরোধী চূড়ান্ত আন্দোলনে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে অনেক আগে থেকেই ভেতরে-ভেতরে গণফোরাম ও যুক্তফন্ট্রসহ বামদলগুলোর সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে কথা বলেছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা।
সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে সারা দেশে কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে ড. কামালের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া। এ মহাসমাবেশে যোগ দিতে জামায়াত বাদে বিএনপিসহ দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দলকে আহ্বান জানিয়েছেন ড. কামাল হোসেন। সেক্ষেত্রে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার মহাসমাবেশের মঞ্চে দেখা যেতে পারে বিএনপিসহ সরকারবিরোধী অবস্থানে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের।
সূত্রমতে, সরকারবিরোধী আন্দোলন ও আগামী নির্বাচন ঘিরে যুক্তফ্রন্ট ও গণফোরাম মিলে বিএনপির সঙ্গে একটি জাতীয় ঐক্য গড়ার আলোচনা চলে আসছে অনেক দিন থেকেই। চলতি মাসেই তার একটি ঘোষণা আসার কথা ছিল। কিন্তু নানান শতের্র কারণে বিএনপির সঙ্গে পরবর্তী সময়ে এ ঘোষণা আর হয়নি। ঈদুল আজহার আগে বিভিন্ন দল জাতীয় ঐক্য নিয়ে আবার তৎপর হয়ে ওঠে।
জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় যুক্ত আছেন গণস্বাস্থ্য হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী। ড. কামাল হোসেন ও বি. চৌধুরীর, যুক্তফ্রন্টের অন্যতম নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ বিএনপির নেতারা। যে কোনো বড় জনসমাবেশের মধ্য দিয়ে একসঙ্গে সব নেতা হাজির হয়ে জাতীয় ঐক্যের ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী গত মাসে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আওয়ামী লীগে যাবেন, নাকি জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় থাকবেন, সেটা এখনো ঘোষণা দেননি তিনি। তবে কাদের সিদ্দিকী এ ব্যাপার জনসম্মুখে বলেছেন, কামাল সাহেবের সঙ্গে কাজ করবেন।
২০ দলীয় জোটের শরিক হিসেবে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির ঐক্য থাকলেও বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্যে জামায়াত থাকছে না। এ নিয়ে বিএনপির নেতারা ঐক্যে আগ্রহী সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছেন।
ঐক্যের জন্য বিএনপির ১০ প্রস্তাবগুলো হল ১. বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ সব রাজনৈতিক নেতাকর্মীর নিঃশর্ত মুক্তি, সাজা বাতিল ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার নিশ্চিত করা ২. একটি গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন ৩. সব রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অবসান ৪. রাষ্ট্রকে দলীয়করণের বদলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ৫. রাষ্ট্রক্ষমতার গ্রহণযোগ্য ভারসাম্য ৬. স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ক্ষমতা নিশ্চিত করা ৭. দুর্নীতি প্রতিরোধে দায়িত্বরত প্রতিষ্ঠানগুলোকে যথাযথভাবে কার্যকর করা ৮. সব নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকারের নিশ্চয়তা ৯. সর্বনিম্ন আয়ের নাগরিকদের মানবিক জীবন নিশ্চিত করে আয়ের বৈষম্যের অবসান ১০. রাষ্ট্রের সর্বস্তরে সুশাসনের প্রতিষ্ঠা।






