ক্রীড়া ডেস্কঃ
সিরিজের ফয়সালা হয়ে যাওয়ার পর বুঝি সম্বিত ফিরল লঙ্কানদের। ব্যাটসম্যানরা দলকে তুলে দিল রান পাহাড়ে। পেস-স্পিন মিলিয়ে বোলিংও হলো বিধ্বংসী। নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরাজয়ের তেতো স্বাদ পেল ইংল্যান্ড।

সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডকে ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে ২১৯ রানে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা। সিরিজের প্রথম ম্যাচ হয়েছিল পরিত্যক্ত। পরের ম্যাচ তিনটি জিতে আগেই সিরিজ জিতে নিয়েছিল ইংল্যান্ড।
কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার শ্রীলঙ্কা ৫০ ওভারে তুলেছিল ৬ উইকেটে ৩৬৬ রান, যা ইংলিশদের বিপক্ষে তাদের সর্বোচ্চ স্কোর। রান তাড়ায় সিরিজের আগের সব ম্যাচের মতো পরে এ দিনও হানা দেয় বৃষ্টি। তবে ততক্ষণে এমনিতেও শেষের খুব কাছে ছিল ইংল্যান্ড। ২৬.১ ওভারে ১৩২ রান তুলতেই হারায় তারা ৯ উইকেট। আর শুরু হতে পারেনি খেলা।
২১৯ রানের জয় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে বড় জয়। আর সব দল মিলিয়েই ইংলিশদের সবচেয়ে বড় হার। ১৯৯৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৬৫ রানের হার ছিল আগের রেকর্ড।
ইংল্যান্ড অবশ্য এদিন সেরা একাদশ খেলায়নি। অধিনায়ক ওয়েন মর্গ্যান ছিলেন বিশ্রামে, নেতৃত্ব দেন জস বাটলার। ক্রিস ওকস, অলিভার স্টোনও ছিলেন বাইরে।
বিশাল স্কোর গড়লেও শ্রীলঙ্কানদের ইনিংসে ছিল না কোনো সেঞ্চুরি। চার জনের ব্যাট থেকে এসেছে দারুণ ফিফটি।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা লঙ্কানদের উড়ন্ত সূচনা এনে দেন নিরোশানন ডিকভেলা ও সাদিরা সামারাবিক্রমা। ১৯ ওভারেই ১৩৭ রান তুলে ফেলেন দুজন।
৪৮ বলে ৫৪ রান করা সামারাবিক্রমাকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন মইন আলি। ডিকভেলা ছুটছিলেন সেঞ্চুরির পথে। কিন্তু ওয়ানডে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরির ৫ রান দূরে তাকেও থামান মইন। ১২ চারে এই কিপার ব্যাটসম্যান ৯৫ রান করেছেন ৯৭ বলে।
দুই ওপেনার ফিরলেও ঝড় থামেনি। অধিনায়ক হওয়ার পর অবশেষে জ্বলে উঠলেন দিনেশ চান্দিমাল। ফর্মে না থাকা কুসল মেন্ডিসের ব্যাটে ফিরল ছক্কার স্রোত। ৭৬ বলে ১০২ রানের জুটি গড়লেন দুজন।
৬ চার ও ২ ছক্কায় ৭৩ বলে ৮০ করেছেন চান্দিমাল। আধ ডজন ছক্কায় ৩৩ বলে ৫৪ মেন্ডিস।
পরের ব্যাটসম্যানরাও শেষ দিকে মেটান সময়ের দাবি। ১১ বলে ১৮ করেছেন দাসুন শানাকা, ১৫ বলে অপরাজিত ১৯ ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা, ১১ বলে অপরাজিত ১৮ আকিলা দনাঞ্জয়া। শ্রীলঙ্কা স্পর্শ করে রেকর্ড উচ্চতা।
ইংল্যান্ডের বিস্ফোরক ব্যাটিং লাইন আপের জন্য এই রান তাড়াও অসম্ভব ছিল না। তবে এ দিন তারা ভেঙে পড়েছে শুরু থেকেই। প্রথম ওভারেই জেসন রয়কে ফেরান কাসুন রাজিথা। দ্বিতীয় ওভারে দুশমন্থ চামিরার শিকার অ্যালেক্স হেলস ও জস বাটলার। ৪ রানে হারায় তারা ৩ উইকেট।
পরে জো রুটকেও ফেরান চামিরা। ২৮ রানে ইংল্যান্ডের নেই তখন ৪ উইকেট। পাঁচে নেমে ১২ চারে ৬০ বলে ৬৭ করেছেন বেন স্টোকস, মইনের ব্যাট থেকে এসেছে ৩৭ বলে ৩৭। এরপর আরেকটি ধসে ২৫ রানের মধ্যে হারায় তারা ৫ উইকেট। দুঅঙ্ক ছুঁতে পারেননি আর কেউ। নতুন বলে চামিরার তিন ছোবলের পর স্পিনার দনাঞ্জয়া নিয়েছেন ৪ উইকেট।
দুর্দান্ত ইনিংসে ম্যাচের সেরা ডিকভেলা। শেষ ম্যাচ না খেলেও সিরিজের সেরা ইংলিশ অধিনায়ক মর্গ্যান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শ্রীলঙ্কা: ৫০ ওভারে ৩৬৬/৬ (ডিকভেলা ৯৫, সামারাবিক্রমা ৫৪, চান্দিমাল ৮০, কুসল মেন্ডিস ৫৬, শানাকা ১৮, থিসারা ১১, ধনাঞ্জয়া ১৯*, দনাঞ্জয়া ১৮*; উড ০/৫৫, স্যাম কারান ০/৪৬, টম কারান ২/৭১, মইন ২/৫৭, রশিদ ১/৫২, প্লাঙ্কেট ১/৪৪, স্টোকস ০/৩৪)
ইংল্যান্ড: ২৬.১ ওভারে ১৩২/৯ (রয় ৪, হেলস ০, রুট ১০, বাটলার ০, স্টোকস ৬৭, মইন ৩৭, স্যাম কারান ২, রশিদ ৪, প্লাঙ্কেট ৫, টম কারান ১*; রাজিথা ১/২১, চামিরা ৩/২০, থিসারা ০/১৮, দনাঞ্জয়া ৪/১৯, ধনাঞ্জয়া ১/১৮, সান্দাক্যান ০/৩৫)।
ফল: ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে শ্রীলঙ্কা ২১৯ রানে জয়ী
সিরিজ: ৫ ম্যাচ সিরিজে ইংল্যান্ড ৩-১ ব্যবধানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: নিরোশান ডিকভেলা
ম্যান অব দা সিরিজ: ওয়েন মর্গ্যান





