অনলাইন ডেস্কঃ
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপে অংশ নিতে ১৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল চূড়ান্ত করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

মঙ্গলবার সকালে গণভবনে সংলাপের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পাওয়ার পর বিকালে ঢাকার মতিঝিলে কামাল হোসেনের চেম্বারে ফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে প্রতিনিধি দলের সদস্যদের নাম চূড়ান্ত হয়।
রাতে নামের তালিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে।
তাতে দেখা যায়, প্রতিনিধি দলে নেতা হিসেবে থাকছেন গণফোরাম সভাপতি ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার চেয়ারম্যান কামাল হোসেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পাশাপাশি দলটির চার নেতা প্রতিনিধি দলে রয়েছেন। তারা হলেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার ও মির্জা আব্বাস।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনে সক্রিয় জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আ ব ম মোস্তফা আমীন, সাবেক দুই সংসদ সদস্য এস এম আকরাম ও সুলতান মো. মনসুর আহমেদ যাচ্ছেন গণভবনে।
এছাড়াও যাচ্ছেন জেএসডির আ স ম আবদুর রব, তানিয়া রব, আবদুল মালেক রতন, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী ও মোস্তফা মহসিন মন্টু এবং নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না।
সংসদ ভেঙে, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একাদশ সংসদ নির্বাচনের দাবি তোলা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গত রোববার সংলাপের আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনাকে চিঠি পাঠান।
পরদিনই সংলাপে রাজি হওয়ার কথা জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের।
মঙ্গলবার সকালে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী আবদুস সোবহান গোলাপ শেখ হাসিনার আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেন কামাল হোসেনকে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গণভবনে আমন্ত্রণ জানিয়ে পাঠানো ওই চিঠিতে শেখ হাসিনা লেখেন, “অনেক সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে সংবিধানসম্মত সকল বিষয়ে আলোচনার জন্য আমার দ্বার সর্বদা উন্মুক্ত।”
আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র পাওয়ার পর বিকালে বৈঠকে বসেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মির্জা ফখরুল, খন্দকার মোশাররফ, মওদুদ আহমদ, জেএসডির তানিয়া রব, মালেক রতন, গণফোরামের মোস্তফা মহসিন মন্টু, সুব্রত চৌধুরী, জগলুল হায়দার আফ্রিক, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, জাহেদ উর রহমান, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সুলতান মো. মনসুর আহমেদ, আ ব ম মোস্তফা আমীন, নুরুল হুদা মিলু চৌধুরী এবং গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
বৈঠকের পর জেএসডি সভাপতি রব নিজেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্রের পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকদের সামনে আসেন।
তিনি বলেন, “জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে একজন মুখপাত্র নিয়োগ করা হয়েছে। তার নাম আ স ম আবদুর রব। এর বাইরে ফ্রন্টের কেউ কোনো কথা বললে তা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বক্তব্য হবে না।”
সংলাপের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ সাদরে গ্রহণ করেছি। আমরা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় গণভবনে যাব। ঐক্যফ্রন্টের ১৫ নেতা যাবেন। কামাল হোসেন আমাদের নেতা, উনি ১৫ জনের বাইরে।”
তবে প্রতিনিধি দলের সদস্যদের নাম তখন প্রকাশ করেননি রব। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “প্রতিনিধি দলে বিএনপি, জেএসডি, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া, গণফোরাম, নাগরিক ঐক্যের নেতৃবৃন্দ থাকবেন।”
বিএনপি মহাসচিব ফখরুল প্রতিনিধি দলে থাকছেন কি না- প্রশ্ন করা হলে তখন রব বলেন, “বিএনপি মহাসচিব একশবার যাবেন। উনাকে বাদ দিয়ে তো সংলাপ হবে না।”
সংলাপ নিয়ে আশবাদী রব বলেন, “জাতি আশা করে এই সংলাপের মাধ্যমে আগামী দিনে একটা সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। কোনো সংলাপ ব্যর্থ হয় নাই। এই সংলাপে ৭ দফাসহ সব কিছু নিয়ে আলোচনা হবে।
“আমরা মনে করি, দেশে যে ক্রান্তিলগ্নে যে স্ট্যাগনেন্ট অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে,কথা বলব কি বলব না… আজকে প্রধানমন্ত্রীর এই সংলাপের মধ্য দিয়ে দরজা খোলা হল, আলাপ-আলোচনা হচ্ছে, হবে এবং চলবে।”
রব তাদের জোটের দল বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় উচ্চ আদালতে সাজা বাড়ানোর নিন্দাও জানান।
রব বলেন, “এই মামলাটা আমরা মনে করি এটি প্রতিহিংসামূলক। তিন তিন বারের প্রধানমন্ত্রী ২/৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ করতে পারে, এটা মানুষ বিশ্বাস করে না, আমি কী করে বিশ্বাস করমু?”
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধি দলের তালিকা রাতেই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক মন্টুকে।
নামের তালিকা সম্বলিত মন্টু স্বাক্ষরিত চিঠি রাতে ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কার্যালয়ে নিয়ে যান গণফোরাম নেতা জগলুল হায়দার আফ্রিকসহ তিন নেতা। তা গ্রহণ করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আবদুর রহমান।
সূত্রঃ বিডিনিউজ





