অনলাইন ডেস্কঃ
টেকনোক্র্যাট চার মন্ত্রী রোববারের পর দায়িত্বে থাকছেন না বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

শনিবার নিজ নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে সাংবাদিকদেরকে তিনি একথা বলেন।
তারা হলেন ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।
এর আগে গত ৬ নভেম্বর তারা পদত্যাগ করলেও পরে আবার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক কাদের বলেন, “নির্বাচনকালীন অনির্বাচিত কোনো ব্যক্তি মন্ত্রী থাকতে পারবেন না। অলরেডি চারজন টেকনোক্র্যাট মিনিস্টার প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগ করেছেন। এই পদত্যাগপত্র প্রধানমন্ত্রী হয়ে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে অলরেডি গেছে।
“৯ তারিখের পর টেকনোক্র্যাট যে চারজন মিনিস্টার আছেন যারা পদত্যাগ করেছেন তারা আর দায়িত্বে থাকবেন না।”
নির্বাচনকালীন সরকারের আকার নিয়ে কাদের বলেন, “মন্ত্রিসভাকে ছোট করা হবে এমন কোনো বিধান আমাদের সংবিধানে নেই। পৃথিবীর সকল গণতান্ত্রিক দেশে এগজিস্টিং যে গভর্নমেন্ট থাকে, সেই গভর্নমেন্টই নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালন করে; নির্বাচন কমিশনকে ফ্যাসিলিটেট করে, সাপোর্ট করে, সহযোগিতা করে। আমাদের এখানে গতবার সাইজটা একটু ছোট রাখা হয়েছিল।”
এটা প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। প্রধানমন্ত্রী ইচ্ছে করলে যেমন আছে তেমনও রাখতে পারেন। ইচ্ছে করলে বড় করতে পারেন, ইচ্ছে করলে ছোটও করতে পারেন, বলেন কাদের।
বিএনপি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা ঘর গোছোতে পারেনি। তাদের জগাখিছুড়ি ঐক্য। এই জগাখিছুড়ি ঐক্যের যে পরিণতি সেই পরিণতি এখন তারা পদে পদে অনুভব করছে।
“তাদের সেক্রেটারি জেনারেলের অফিসে গিয়ে মনোনয়ন বঞ্চিতরা হামলা চালাচ্ছে। যাদের থেকে টাকা নিয়েছে মনোনয়ন পায়নি তার হামলা চালাচ্ছে। এই ধরনের অভিযোগ আওয়ামী লীগের নেই।”
ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা বৈধতা পাবে বলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মন্তব্যের বিষয়ে কাদের বলেন, “বাংলাদেশের আইন নিয়মকানুন সবকিছুই কি তাদের স্বার্থে বিসর্জন দিতে হবে? এটা তো আইনের ব্যাপার, এটা আদালতের ব্যাপার। আদালত তাকে দণ্ড দিয়েছে। ১৭ বছরের দণ্ড।
“তারা যদি মনে করে দণ্ডিত ব্যক্তিকে ক্ষমা করে দিতে হবে নির্বাচন করার জন্য। এই আইন পৃথিবীর কোনো দেশে নেই। বাংলাদেশে মির্জা ফখরুলদের জন্য নতুন করে আইনের ব্যাখ্যা দিতে হবে না। এখানে কোনো সুযোগ নেই। আদালতের রায় লংঘন করার ক্ষমতা কারো নেই।”
নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরুর দিন বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমি মনে করি, আমাদের দলের অনেক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ার ঘোষণা একটা বিজয়। আমাদের আন্দোলনে আমাদের প্রার্থীরা বৈধ হয়ে এসেছেন এবং তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। আমি এটাও আশা করি যে, ন্যায়বিচার যদি প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও নির্বাচনে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত হবেন, বিবেচিত হবেন।”
একই আসনে বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে ইঙ্গিত করে ওবায়দুল কাদের বলেন, “জনপ্রিয়তা হারিয়ে তিনি এখন আচরণ বিধি ভঙ্গ করছেন। লাঠিশোটা নিয়ে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেন। নিজ দলের লোকজনকে দিয়ে বোমা ফাটিয়ে আমাদের উপর দোষ দেওয়ার চেষ্টা করছেন।”
এ সময় নোয়াখালী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবিএম জাফর উল্যাহ, কবিরহাট পৌরসভা মেয়র জহিরুল হক রায়হান, কবিরহাট উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নুরুল আমিন রুমিসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্রঃ বিডিনিউজ





