অনলাইন ডেস্কঃ
সোনার দর বেড়েছে। সাড়ে চার মাস পর বাংলাদেশের বাজারে সনাতন পদ্ধতির ছাড়া অন্য সব ধরনের সোনার দাম ভরিতে এক হাজার ১৬৬ টাকা বেড়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ায় স্থানীয় বাজারে সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) সাধারণ সম্পাদক দীলিপ কুমার আগারওয়ালা।
তবে গ্রামে-গঞ্জে, মফস্বলের ক্রেতা-বিক্রেতাদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ভরিপ্রতি আগের ২৭ হাজার ৫৮৫ টাকাই রাখা হয়েছে।
রোববার থেকে নতুন দর কার্যকর হবে বলে বাজুস শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।
নতুন দর অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সবচেয়ে ভালো মানের (২২ ক্যারেট) সোনা ৪৮ হাজার ৬৩৯ টাকায় বিক্রি হবে। ২১ ক্যারেট সোনা বিক্রি হবে ৪৬ হাজার ৩৬৪ টাকা। আর ১৮ ক্যারেট সোনা বিক্রি হবে ৪১ হাজার ২৯০ টাকায়।
শনিবার পর্যন্ত প্রতি ভরি সবচেয়ে ভালো মানের (২২ ক্যারেট) সোনা ৪৭ হাজার ৪৭২ টাকায় বিক্রি হবে। ২১ ক্যারেট সোনা বিক্রি হবে ৪৫ হাজার ১৯৮ টাকা। ১৮ ক্যারেট সোনা বিক্রি হবে ৪০ হাজার ১২৪ টাকায়।
সর্বশেষ ৬ আগস্ট ১৮, ২১ এবং ২২ ক্যারেট সোনার দর এক হাজার ১৬৬ টাকা কমানো হয়েছিল।
জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটে ৯১ দশমিক ৬ শতাংশ, ২১ ক্যারেটে ৮৭ দশমিক ৫ শতাংশ, ১৮ ক্যারেটে ৭৫ শতাংশ বিশুদ্ধ সোনা থাকে।
সনাতন পদ্ধতির সোনা পুরনো অলঙ্কার গলিয়ে তৈরি করা হয়। এ ক্ষেত্রে কত শতাংশ বিশুদ্ধ সোনা মিলবে তার কোনো মানদণ্ড নেই।
রুপার দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগের এক হাজার ৫০ টাকা ভরিতেই বিক্রি হবে রুপা।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক আগারওয়ালা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সব সময়ই ডিসেম্বরে সোনার আন্তর্জাতিক বাজার চড়া থাকে। বড়দিনকে ঘিরে চাহিদা বেড়ে যায়। এবার তার সঙ্গে আমেরিকার ঘোলাটে রাজনীতিও যোগ হয়েছে।
“মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের অর্থায়ন নিয়ে হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেস সদস্যদের মতবিরোধে আংশিক অচল হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার। আর এতে বিশ্ব শেয়ার বাজারে ধস নেমেছে। চাহিদা বেড়েছে গোল্ডের; দামও বাড়ছে।”
গত চার মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স (২.৬৫ ভরি বা ৩৮ গ্রাম) সোনার দাম ৫০ ডলারের মতো বেড়েছে কমেছে। সে হিসাব-নিকাশ করেই স্থানীয় বাজারে ২২, ২১ এবং ১৮ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ভরিতে এক হাজার ১৬৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে বলে জানান আগারওয়ালা।
প্রতিবার শীত মৌসুমে বাংলাদেশেও সোনার দাম বাড়ানো হয়- এবারও সেটা করা হল কিনা- প্রশ্নের উত্তরে দীলিপ কুমার আগারওয়ালা বলেন, “৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনের কারণে এবার ডিসেম্বরে বিয়ে-উৎসব কম হচ্ছে। নির্বাচনের পর বিয়ের অনুষ্ঠান বাড়বে বলে মনে হচ্ছে।”
তখন বাজার পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
সনাতন সোনার দাম না কমানোর কারণ ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, “আমরা এতদিন লক্ষ্য করে এসেছি, মফস্বলের যারা সোনা বিক্রি করতে আসত, তাদের ঠকানো হতো। ২২ ক্যারেটের সোনার দামের অর্ধেক দামে সনাতন পদ্ধতির সোনা বিক্রি হতো।
আগরওয়ালা বলেন, বাজুসের পক্ষ থেকে বার বার অনুরোধ করার পরও জেলা প্রশাসন থেকে সনাতন পদ্ধতির সোনার মান সঠিকভাবে নির্ধারণ করা হতো না। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে প্রথমবারের মতো গত ২০ জুন অন্যান্য সব মানের সোনার দাম কমানো হলেও সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম বাড়ানো হয়েছিল। এরপর ৬ আগস্ট সব মানের সোনার দর কমানো হলেও সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়।
“আমরা পর্যায়ক্রমে ১৮ ক্যারেট সোনার দর আর সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম একই পর্যায়ে নিয়ে আসব।”
সর্বশেষ ২০ জুলাই ১৮, ২১ এবং ২২ ক্যারেট সোনার দরও এক হাজার ১৬৬ টাকা কমানো হয়েছিল।
অলংকার তৈরিতে সোনার দরের সঙ্গে মজুরি ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) যোগ দাম ঠিক করা হয়।
সূত্রঃ বিডিনিউজ





