অনলাইন ডেস্কঃ
সিইসির সঙ্গে কামাল হোসেনের তর্কাতর্কির দিকে ইঙ্গিত করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের আচরণ সংযত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার সুধাসদন থেকে কুষ্টিয়া, নওগাঁ ও চাঁদপুরের দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে গণসংযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিন জেলাতেই বক্তব্য দিতে গিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সমালোচনা করেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা কামাল হোসেনের।
তার বক্তব্যে উঠে আসে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে যুদ্ধাপরাধীদের দল ও পরিবারের সদস্যদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রসঙ্গ।
শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা দেখেছি এখানে ঐক্যফ্রন্ট করা হয়েছে। কিন্তু তাদের যেই আচার আচরণ, তা থেকে কেউই রেহাই পাচ্ছে না। এমনকি নির্বাচন কমিশনে গিয়ে সেখানে তো ঝগড়াঝাটি করে এসেছেই, আবার পুলিশ বাহিনীকে গালিগালাজ করেছে।
“ঐক্যফ্রন্টের এখন যিনি নেতা আছেন, তিনি নাকি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন, কিন্তু তার মুখ থেকে নোংরা গালি নিশ্চয়ই কেউ আশা করে না। অবশ্য তার চরিত্র এমনই। তার আগে তিনি কোর্টে বসে অ্যাটর্নি জেনারেলকেও জঘন্য ভাষায় গালি দিয়েছিলেন। খামোশ বলে সাংবাদিকদের দেখে নেওয়ার হুমকিও দিয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই ধরনের আচরণ থেকেই বোঝা যায় গোটা ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের আচরণে পারদর্শী।”
শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রাখতে নিজের ইচ্ছার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “ভোটের মালিক জনগন, দেশের মালিকও জনগণ। জনগণ বেছে নেবে, তারা কী ধরনের সরকার চায়, কাকে চায়। কাজেই আমরা আশা করি, তারা (ঐক্যফ্রন্ট) এই ধরনের আচরণ বন্ধ করবে। এই ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাই।”
চারদলীয় জোট সরকারের সমলোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, “বিএনপি-জামাতের ক্ষমতা মানেই দুর্নীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ, মাদক। সেই সময় (যখন সরকারে ছিল) তারা যেই সন্ত্রাস করেছিল কুষ্টিয়ার মানুষ তার ভুক্তভোগী।”
এবার নির্বাচন ঘিরেও নাশকতার ষড়যন্ত্রের আভাস দিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, “বিএনপি সারাদেশে একটা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটাতে চাইছে। যারা যুদ্ধাপরাধী তাদের সাজা আমরা কার্যকর করেছি। সেই যুদ্ধাপরাধীরা এখনও রয়ে গেছে, তাদেকেই বিএনপি সাথে নিয়ে নির্বাচন করছে।
“বিএনপি-জামাত বিভিন্ন জেলায়, বিভিন্ন অঞ্চলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উপর অত্যাচার করে যাচ্ছে। বোমা হামলা করে যাচ্ছে। নির্বাচনী অফিস পুড়িয়েছে। পাঁচজন আওয়ামী লীগ নেতা কর্মী নিহত হয়েছে।”
বিএনপি জোট নির্বাচনে জয়ী হতে পারবে না আঁচ করে পেশীশক্তি দেখানোর চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।
দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “এইটুকু আহ্বান করব, এই নির্বাচন জনগণের ভোটের অধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ, গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা করার সুযোগ। কাজেই মানুষ সবাই যেন যারা ভোটার আপনারা সকলে ভোট দেবেন এবং ভোট দিয়ে আপনাদের মন মতো প্রার্থীকে জয়ী করবেন।”
নওগাঁর নেতাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে শেখ হাসিনা বলেন, “নওগাঁ এক সময় সর্বহারাদের জায়গা এবং সন্ত্রাস আর জঙ্গিবাদের জায়গা ছিল। বাংলাদেশ যখন সৃষ্টি হয়, রাজশাহী থেকে নওগাঁ পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় তাদের বিস্তৃতি ছিল। আমাদের অনেক নেতাকর্মীকেও তারা হত্যা করেছে, গলা কেটে কেটে।”
নির্বাচন যেন সুষ্ঠুভাবে হয়, সেজন্য নেতাকর্মীদের সুষ্ঠুভাবে ধৈর্য ধরে কাজ করার পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখার পরামর্শ দেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।
সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নের কথা তুলে ধরে নৌকায় ভোট চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, “আমাদের অনেকে অনেক সমালোচনা করেন। যে আমরা নির্বাচনী ইশতেহার দিয়ে তারপর খবর রাখি না। আসলে তারাই খবর রাখেন না। খবর রাখলে দেখতে পেতেন আমরা কতটা এগিয়ে গেছি। কিছু মানুষ আছে, যাদের চোখ থাকতেও অন্ধ। তারা কিছুই দেখেন না, সমালোচনা তাদের করতেই হবে।”
সূত্রঃ বিডিনিউজ





