অনলাইন ডেস্কঃ
খাগড়াছড়িতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেছেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের জন্য ১৯৯৭ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। এই চুক্তি পাহাড়ে শান্তি আনলেও কুচক্রী লোকজনের কারণে বাঙালিরা বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের জন্য চুক্তিতে কোনও সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়নি বলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। যদি সত্যিই কোনও বিতর্কিত ধারা পার্বত্য চুক্তিতে থাকে, যদি কোনও কারণে বাঙালিদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, প্রয়োজনে তা অবশ্যই সংশোধন করা হবে।’

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় খাগড়াছড়ি শহরের মুক্তমঞ্চে আয়োজিত এক নির্বাচনি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামীলীগ এর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রণ বিক্রম ত্রিপুরা।
আওয়ামী লীগ সরকার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে উল্লেখ করে কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা আরও বলেন, ‘শান্তি, উন্নয়ন ও পাহাড়ি-বাঙালির স্বার্থ সমুন্নত রেখে চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নও করবে আওয়ামী লীগ সরকার।’
জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভুঁইয়া ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শহীদুল ইসলাম ভুঁইয়া লেভেল প্লেইং ফিল্ড নেই বলে যে অভিযোগ করেছেন সে প্রসঙ্গে কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, ‘বিএনপির কাজই হচ্ছে মিথ্যাচার করা। শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর বলেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভারতের অঙ্গরাজ্য হয়ে যাবে। কিন্তু হয়নি। বলেছে মসজিদে আজানের ধ্বনি শোনা যাবে না, শোনা যাবে হিন্দুদের উলু ধ্বনি। কিন্তু হয়নি। বলেছে মুসলিম মহিলাদের কপালে সিঁদুর পরতে হবে, কিন্তু হয়নি। বলেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছেড়ে বাঙালিদের চলে যেতে হবে। কিন্তু হয়নি। এমনকি বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এই চুক্তি বাতিল করা হবে। কিন্তু করেননি। বলেছে বাঙালি লোকজন রেশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে, কিন্তু হয়নি। আর কত মিথ্যাচারের রাজনীতি করবেন? আওয়ামী লীগ সরকার পাহাড়ে অশান্তির জন্য চুক্তি করেনি। শান্তির জন্য চুক্তি করেছে। অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা বিএনপি ও জামায়াতের কাজ। কারণ এই দল দুটির ওপর থেকে এখনও পাকিস্তানি প্রেতাত্মা যায়নি। নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণা সব উপজেলায় চালাচ্ছেন, কোথাও বাধা দেওয়া হচ্ছে না। তারপরও লেভেল প্লেইং ফিল্ডের নামে মিথ্যাচার করচেন। এটা করবে না।’
ইউপিডিএফ সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সহজ-সরল পাহাড়ি জনসাধারণকে ভয়ভীতি দিয়ে ভোটের জন্য চাপাচাপি করবেন না। নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন, প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন, নিজের জনপ্রিয়তা যাচাই করুন। লোকজন কতটা আপনাদের ভালোবাসে তা ভয় দেখিয়ে যাচাই করার অপকৌশল নেবেন না। লোকজন তা বরদাস্ত করবে না।’
শেখ হাসিনা গত ১০ বছরে পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামকে উন্নয়নের মডেল করে দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত রাখতে নৌকা মার্কায় ভোট দিন। শেখ হাসিনাকে আবারও প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসান। আপনাদের স্বপ্ন তিনিই একমাত্র বাস্তবায়ন করতে পারবেন।’
এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি দোস্ত মোহাম্মদ চৌধুরী, নুরুন্নবী চৌধুরী, যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা বক্তব্য রাখেন।
সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন





