বান্দরবান প্রতিনিধিঃ
সারাদেশের কাছে পরিচিত বান্দরবান একটি শান্তি ও সম্প্রীতির জেলা হিসেবে। এই জেলায় ১১ টা ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠি ও বাঙ্গালীসহ অবস্থান মিলে ১২টি জাতিগোষ্ঠির বসবাস।

এই জেলার আরো একটি উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে আওয়ামীলীগের মনোনিত প্রার্থী বীর বাহাদুর উশৈসিং ও বিএনপি মনোনিত প্রার্থী সাচিং প্রু জেরী। এই দু’জনের বাসভবন মাত্র ৫ গজের ব্যবধানে মধ্যে। প্রতি বারের মতই এইবার ও নিবার্চনী সময়ে নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত লোকজনের সমবেত হওয়ার জন্য বাড়ি ঘেঁষে তৈরী করা হয়েছে আলাদা আলাদা প্যান্ডেল। প্রতিদিন নির্বাচনী প্রচারণার জন্য দিনরাত একেই স্থানে আসছেন-যাচ্ছেন শত শত নেতাকর্মীরা।
এদিকে দুই প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীদের মাঝে রাজনৌতিক মতাদর্শের মিল না থাকলেও নেই কোন রাজনৈতিক বিরোধ। তাদের দুই প্রার্থীর মধ্যে এক বারের জন্য ও ঘটেনি কোন অপ্রীতিকর ঘটনা। সহ অবস্থান ও সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশে রাজনীতি করছে বড় দুই দলের এই নেতারা।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বান্দরবানের একমাত্র এবং একাদশ জাতীয় সংসদের ৩০০ নং আসনের বড় দলের দুই প্রার্থী আওয়ামী লীগের বীর বাহাদুর উশৈসিং এবং বিএনপি সাচিং প্রু জেরী। যদিও বা তারা দু’জন নিকট প্রতিবেশী এই দুই প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যক্রমে এমন সম্প্রীতি দেখে স্বস্তিতে এলাকার জনসাধারণও।
প্রচার- প্রচারণা শুরুর পর থেকে দেখা যাচ্ছে, দুই দলের নেতাকর্মীরা দলে দলে দু প্রার্থীর বাড়ির সামনে তৈরি করা প্যান্ডেলে সমবেত হচ্ছেন। নেতাদের কাছ থেকে নির্দেশনা নিয়ে যার যার দায়িত্ব পালনে বেরিয়ে যাচ্ছেন। দিন ও রাতের বিভিন্ন সময়ে মিছিল বের হচ্ছে দুই বাড়ি থেকে। আবার মিছিল শেষও হচ্ছে সেখানে এসে। চলছে চা-নাস্তার আয়োজন। অথচ আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হয় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি কখনোই।
এদিকে বীর বাহাদুর উশৈসিং এর বাড়ির সামনে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে পাওয়া পুলিশ পাহারা রয়েছে আগে থেকেই। এর বাইরে কোনো অতিরিক্ত পুলিশ সেখানে দেখা যায়নি।
বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য আবুল কালাম মুন্না জানান, এখানকার মানুষ ঐতিহ্যগতভাবে শান্তিপ্রিয়। নেতাদের পক্ষ থেকে কখনো কোনো সহিংসতাকে প্রশ্রয় দেওয়া হয় না, সুতরাং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিরও আশঙ্কা নেই।
বান্দরবান জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি মো: মুছা কোম্পানী বলেন, বান্দরবান শান্তি প্রিয় একটি জেলা। এখানে শান্তি ও সম্প্রীতির কারিগর বীর বাহাদুর চান তার এলাকায় এই শান্তি ও সম্প্রীতি আজীবন বজায় থাকুক। তিনি আমাদের সব সময় বলেন যদিও বা রাজনৈতিক ভাবে আমরা দুইজন ভিন্ন ভিন্ন দলের কিন্তু সাচিং প্রু জেরী আমার প্রতিবেশী উনি আমার মুরব্বি এমন কোন কিছু করবে না, যাতে করে বান্দরবানের সম্প্রীতি নষ্ট হয়।
বান্দরবান জেলা বিএনপির যুগ্ন সম্পাদক মুজিবুর রশিদ বলেন, দুই প্রার্থীর পাশাপাশি বাড়ি হওয়ায় আমরা নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছি কেউ যাতে কারো কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি না করে। আশা করি নির্বাচনের দিন পর্যন্ত এই পরিস্থিতি বজায় থাকবে।
বান্দরবান জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো:ওসমান গণি বলেন, আমাদের জেরী বাবু সবসময় আমাদের বলেন আমরা যেন কোন ধরণের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করি। তিনি যথেষ্ট শান্তিপ্রিয় ব্যক্তি, আমাদের দুই দলের মধ্যে ব্যক্তিগত কোন বিরোধ নেই।
বান্দরবানের সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: শহীদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, বান্দরবানে বড় দুই দল আওয়ামীলীগ ও বিএনপি প্রার্থীর বাসভবন পাশাপাশি হওয়া শর্তেও এখনো তেমন কোন বিশৃংখলা ঘটনা ঘটার আশঙ্কা হয়নি। এই দুই প্রার্থীর বাড়ি একদম লাগোয়া। অতীতে তাদের মধ্যে কোনো বিরোধের ঘটনা ঘটেনি। এবারও কোনো দলের পক্ষ থেকে সেরকম কোনো আশঙ্কার কথা আমাদের জানানো হয়নি।
সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: শহীদুল ইসলাম চৌধুরী আরো জানান, বান্দরবানের রাজনৈতিক দলগুলোর সহ অবস্থান দেশের অন্যান্য জেলাগুলো থেকে আলাদা। এখানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি খুবই ভালো পর্যায়ে রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২টি পৌরসভা, ৭টি উপজেলা ও ৩৩ টি ইউনিয়ন নিয়ে ৩০০নং আসন বান্দরবান। আর বান্দরবানের এ আসন থেকে এইবার সহ চার বার সংসদ সদস্য প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বিএনপি প্রার্থী সাচিং প্রু জেরী। এর মধ্যে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। আর অন্যদিকে, আওয়ামীলীগ প্রার্থী বীর বাহাদুর উশৈসিং গত পাঁচ মেয়াদে বান্দরবান থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ষষ্ঠবারের মতো নির্বাচন করছেন।






