মানিক বৈরাগীঃ
একদা শেখের ডাকে নিষ্ফলা মাঠে জয় বাংলার চাষ করেছিলেন শমসের। জয় বাংলা বাংলাদেশ একটি বহুজাতিক পলিঘঠিত বহু বিচিত্র ফসলি জমি।জমির গুনাগুনণে ফলনের আবাদ।জমিরও কত রকমের ক্ষের আর ফের আছে।তবুও শেখের কথা শমসের অমান্য করেনি।সেই প্রাগৈতিহাসিক যুগে এই বঙগাঙের মানুষেরা গুরুবাদী ছিল।

নদী মেখলা সাগর কুন্তলা পাহাড় সমুদ্র সমতলে অনার্য আর্যরা মিলেমিশে যৌথজীবনের স্বপ্ন দেখতো।এখানে মানুষেরা স্বপ্ন দেখে খুব সুখ পায়। একদা এক স্বপ্নবাজ শেখ বঙপাড়ে এসে স্বপ্ন বুননের কথা জানালেন ডাহুক পাখির মতো।তিনি ডেকেছিলেন আরো কিছু পাখি।যারা স্বপ্নচাষা।এরা সবাই শেখ পাখির স্বপ্নের সারিন্দা।শেখ স্বপ্নের বয়ান দিতেন শমসেররা উডাল দিতেন ছুটে চলা তারার কক্ষপথ ধরে ধরে।
এখন আর সম শের রা নাই।তারা এখন ডাইনোসরের মতো আমাদের পাখি মিথ।
প্রাণীবাদের বিবর্তনের ধারায় ডাইনোসর গোত্রের তৃণজীবী আদিলেরা শেখ শের এর স্মৃতির জাবর কাটে।কোথাও তাদের এখন দেখা যায়না।তারা নড়ে না চড়ে না।থির হয়ে রয়। মাঝে মাঝে খুব উচ্ছশ্বরে হাসে,হাসায়।শেখ শের আদিল মুলত আমাদের রুপকথা।আমরা তাদের কিসসা শুনাই মঞ্চে।
আদিলদের আমি মে ফুল বলি,রাসেল বলে নাইটকুইন। আদিলেরা বড্ড সেকেলে,অনাধুনিক,আনস্মার্ট, ক্ষেত ধুর ধেত। এরা বারে জায়না,অফিসার্স ক্লাবে সাহেব বিবি টিক্কা খেলেনা। জামা কাপাড়েও সেই গান্ধী গন্ধী ভাব,ভাববাদী আদর্শিক বা সুফির শায়েরি প্রকৃতির।এই ডিজিটাল যুগে এসব কি চলে? আমি তাদের কোনদিন দেখিনি উইক এন্ডে ডিসি টিএনও ওসিদের নিয়ে পার্টি দিতে।যায়না ডিস্কো বারে। ধুর এত কষ্ট করে ওসব লেখার কি দরকার মৃত মানুষ।একটু প্র্যাকটিক্যাল হও,বি পজিটিভ। দুনিয়া এগিয়ে যাচ্ছে, আর ওরা কি সব নিয়ে বসে আছে।ওরা তো জানেনা কিভাবে জেনানা কে আয়ত্ব করে উপঢৌকন দিতে হয়, সময় তো জেনানাদের নিয়ে একটু আদটু বগল দাবা করে বারে নাগেলে কি স্মার্ট হওয়া যায়,স্মার্টনেসের মধ্যে একটি পজিটিভ ব্যক্তিত্বের ইমেজ আছেনা।সেটি তারা বুঝেনা। দুনিয়া চলে একদিকে আর তারা নদী ও নৌকার পাল তোলা ছবি আঁকে।এখন সাবমেরিন এর যুগ,বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় নদী তীর, সৈকতে আধুনিক শপিং মল,টুরিস্ট স্পট ওসব গড়েদিলে নিজের ও আখের হয় দেশেরও। ওরা খুব গান্ধীবাদী মুজিব প্রেমী। ওদের নিয়ে হাসু আগাতে পারবেনা,পারেনি বলেই নদবীদের টেনে আনা।এখন এই জমিনে নদবীরা হলো উফশী বীজ।
আদিলেরা সেই কবে মরে পঁচে ফসিল হয়ে গেছে। কোন কোন প্রকৃতি প্রেমী পরিবেশবাদী এদের সংরক্ষণে অর্কিডের বনসাই করে জাদুঘর রাখার জন্যে লেখা লেখি করছে। আদিলেরা বেচে থাকে বনসাই অর্কিডে
স্মৃতিতে শ্রুতিতে জীবন্মৃত হয়ে। আমাদের প্রকৃতি পরিবেশ প্রতিবেশ সংরক্ষণের জন্য অর্কিড বনসাই এর মতো আদিল পাখি কেও আমাদের ড্রইং রুম দেয়াল শোপিস করে রাখি।
আসুন আমরা তাদের জন্য অন্তত একবার প্রার্থনা করি।
লেখকঃ কবি সাবেক ছাত্রনেতা





