প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্যানেলভুক্ত প্রার্থীদের আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে নিয়োগ না দিলে জাতীয় শহীদ মিনারে আমরণ অনশন করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে নিয়োগ বঞ্চিত প্যানেল শিক্ষক পরিষদ।
মঙ্গলবার দুপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে নিয়োগের দাবিতে এক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে সরকারকে এ হুঁশিয়ারি দেয় সংগঠনটি।
এদিন সকাল থেকেই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের প্রধান ফটকের সামনে নিয়োগবঞ্চিত প্যানেল শিক্ষক প্রার্থীরা প্রায় ৪ ঘণ্টা অবস্থান করেন।
মানববন্ধনে নিয়োগ বঞ্চিতরা বলেন, বর্তমানে ১৭ হাজার ৪৪৪টি পদ খালি রয়েছে। আবার ২২ হাজার ৯২৫টি পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। সে হিসাবে প্যানেলভুক্ত নিয়োগ প্রার্থী হিসেবে অপেক্ষমান ২৮ হাজার ৬১১ জনকে নিয়োগ দিলেও ১২ হাজার পদ খালি থাকে। কিন্তু নিয়োগে অনিয়ম করায় প্রায় ৮ হাজার প্রার্থী নিয়োগবঞ্চিত থাকছে।
তাদের অভিযোগ, হাইকোর্টে মামলায় জয়ী হওয়া প্রার্থীদেরকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও মেধা তালিকা অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ফলে রিটে জয়ী অনেকেই নিয়োগ পাচ্ছে না। আবার অনেক পদ খালি থাকা সত্ত্বেও আমাদের নিয়োগ দিতে বিলম্ব করা হচ্ছে। তারা আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর হাইকোর্টকে অবমাননা করছে।
এক পর্যায়ে এই সংগঠনের নেতা-কর্মীদের অধিদফতরের সামনে থেকে সরিয়ে দেয় পুলিশ। পরে তারা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তারা জানান, আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে নিয়োগ না দিলে জাতীয় শহীদ মিনারে আমরণ অনশন করা হবে।
এদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিয়োগবঞ্চিত প্যানেল শিক্ষক পরিষদের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই সমিতির সভাপতি রোজেন সাজু এবং সাধারণ সম্পাদক প্রবীন বিশ্বাস।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ১১ এপ্রিল রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ ৪২ হাজার ৬১১ জনকে নিয়োগের জন্য একটি প্যানেল গঠন করা হয়। এদের মধ্যে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার জনকে নিয়োগ দেয় সরকার। সবাইকে নিয়োগ দেওয়ার ঘোষণা দিলেও ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে ২২ হাজার ৯২৫টি স্কুল জাতীয়করণ হওয়ায় প্যানেলভুক্তদের নিয়োগ স্থগিত করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরে হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করলেও নানা রকম জটিলতা সামনে আসছে।
[বাংলা ট্রিবিউন]







