নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
সতত সুন্দরে অন্তর ছুঁই, প্রীতির বাঁধনে বন্ধু তুই। বন্ধুতার জয়গানে রামু রাবার বাগান রেষ্ট হাউসে অনুষ্ঠিত হয়েছে খিজারীয়ান ৮৬’র বন্ধু সম্মিলন। বন্ধু সম্মিলনে কথামালা, হাস্য-কৌতুক, আড্ডায় মিলন ও শিশুদের উচ্ছলতায় দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখলেন রামু খিজারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ১৯৮৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। আনন্দ-উচ্ছল আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো খিজারীয়ান ৮৬’রবন্ধু সম্মিলন ২০১৯।

গতকাল শুক্রবার (৫ এপ্রিল) সকাল থেকে বন্ধুদের আনন্দ-উচ্ছ¡াসে মুখর হয়ে উঠে রামু রাবার বাগান রেষ্ট হাউস প্রাঙ্গন। কতদিন পর দেখা! স্মৃতিকথা, জানাজানি-মাখামাখি, ছবি তোলায় ব্যস্ত হয়েউঠেনসবাই। ৩৩ বছর পরেকৈশোরের বন্ধুদের পেয়ে স্ত্রী, সন্তানদের পরিচয় করিয়ে দেয়া, সেলফিতে মেতে উঠেন সবাই। বেলা ১১টার দিকে রামু রাবার বাগান রেষ্ট হাউজ প্রাঙ্গন পূর্ণতা পায়, খিজারীয়ান ৮৬’র ২৪ পরিবারের আগমনে। কয়েক ঘন্টা আড্ডা ও ছবি তোলায় ব্যস্ততা পড়েন বন্ধু পরিবার। দুপুর গড়ালে খাবারের আয়োজন। দুপুরে প্রীতিভোজের পর শুরু হয় বন্ধু, বন্ধুপতœী ও ছেলে-মেয়েদের ক্রীড়া প্রতিযোগীতা।
শিশুদের দৌড় প্রতিযোগিতায় তৃষান্ত পাল প্রথম, রাজদ্বীপ বড়ুয়া দ্বিতীয়, উম্মে তাকিয়া তৃতীয় হয়েছে। বালকদের মোরগ লড়াই প্রতিযোগিতায় রাকিব প্রথম, তৌফিক দ্বিতীয়, সারওয়াত ওবাইদ ওয়াফী তৃতীয় হয়েছে। বালিকাদের মিউজিক্যাল চেয়ার প্রতিযোগিতায় ঐন্দ্রিলা পাল প্রথম, দীঘিশর্মাদ্বিতীয়, মৌমিতা বৈদ্য তৃতীয় হয়েছে। বন্ধুপত্নীদের বল নিক্ষেপ প্রতিযোগিতায় সাফিয়া ফারজানা রাফি প্রথম, বুলু শর্মা দ্বিতীয়, জুবাইরা জাহান তৃতীয় হয়েছে। বন্ধুদের ক্রীকেট স্ট্যাম্পে বল নিক্ষেপ প্রতিযোগিতায় রবীন্দ্র শর্মা প্রথম, নুরুল হক দ্বিতীয়, আনন বড়ুয়া তৃতীয় হয়েছে।

খিজারীয়ান ৮৬’র সভাপতি সাংবাদিক খালেদ শহীদের সভাপতিত্বে বিকালে অনুষ্ঠিত হয় বন্ধু সম্মিলনের আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান।
বন্ধুতার কথা নিয়ে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, খিজারীয়ান ৮৬’র বন্ধু কক্সবাজার জেলা পরিষদ সদস্য নুরুল হক, রামু উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন, ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম, জোয়ারিয়ানালা এইচ এম সাঁচি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আজিজুল হক সিকদার, ক্রীড়া সংগঠক প্রবাল বড়ুয়া নিশান, গর্জনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবুল কাশেম, অসিত পাল, কক্সবাজার জেলা মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্মলীগ সভাপতি খালেদ নেওয়াজ আবু, দৌছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রভাত কুমার শর্মা, ডাকঘর কমকর্তা মো. মুবিনুল হক, বেতার শিল্পী গোলাম মোস্তফা বাবুল, আন্তর্জাতিক সেবা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা রবীন্দ্র শর্মা, বৃক্ষ গবেষক কিশোর কুমার বৈদ্য ময়না, ব্যবসায়ী নজিবুল আলম, মো. আজিজুল হক, কলিম উল্লাহ, নুরুল কবির, দুলাল বড়ুয়া, আইনজীবি সহকারি আবুল কালামপ্রমুখ।
পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন, খিজারীয়ান ৮৬’র সাধারণ সম্পাদক গর্জনীয়াসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশিক্ষক স্বপন বড়ুয়া ও বন্ধু সম্মিলন ২০১৯ আহŸায়ক রূপন শর্মা।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, রাজনীতিক ও ক্রীড়া সংগঠক পলক বড়ুয়া আপ্পু।

আনন্দঘন এ অনুষ্ঠানে বন্ধু বক্তারা বলেন, খিজারীয়ান ৮৬’র সাংগঠনিক কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে হবে। এ সংগঠনের কার্যক্রমকে সুদূর প্রসারী করতে সকল বন্ধুদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। বন্ধু সম্মিলন আয়োজনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেন খিজারীয়ান ৮৬’র বন্ধুরা।
স্মৃতিকথন, হাস্য-কৌতুক ও শিশুদের উচ্ছলতায় খিজারীয়ান ৮৬’র বন্ধু সম্মিলন এক আনন্দঘন অনুষ্ঠানে পরিণত হয়। এ আয়োজনকে আরো অনন্য করে তোলে র্যাফেল ড্র অনুষ্ঠান। খিজারীয়ান ৮৬’র বন্ধুপত্নী সাফিয়া ফারজানা রাফি, শাপলা বড়ুয়া, সেলিনা পারভীন, বুলু শর্মা, ফারহানা আকতার, মোক্ররমা বেগম, রমা বড়ুয়া, শাপলা বৈদ্য, রহিমা বেগম, নাসরিন সুলতানা, শাহিনা আকতার, মেহেরুন্নিসা, শিমলা প্রভা বড়ুয়া, কাবেরি পাল, ঝর্ণা বেগম, জুবাইরা জাহান, বন্ধু খালেদ নেওয়াজ আবু, পলক বড়ুয়া আপ্পু, অসিত পাল, নুরুল কবির, আবুল কালাম র্যাফেল ড্র অনুষ্ঠানে পুরষ্কার পান। এরপর বন্ধুতার জয়গানে বাড়ি ফিরেন সবাই।





