অনলাইন ডেস্কঃ
‘বাংলাদেশে বাঙালি ছাড়াও ৪৫টির অধিক জাতিসত্তার জনগণের বসবাস। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য রচিত সংবিধানে বাঙালি জাতি ব্যতীত অন্য জাতিসত্তাকে স্বীকার করা হয়নি।’

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল আয়োজিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা।
আলোচনা সভায় সংগঠনটির সম্পাদক ফয়জুল হাকিম, বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান, বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সভাপতি হাসিবুর রহমান, মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের পরিচালক নাসির উদ্দিন এলাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে ৪৫টির অধিক জাতিসত্তার জনগণের বসবাস। পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা প্রভৃতি জাতিসত্তা, রাজশাহী-দিনাজপুর অঞ্চলে সাঁওতাল, ওঁরাও, মুন্ডা, রাজবংশী প্রভৃতি, ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল অঞ্চলে মান্দি, হাজং, পটুয়াখালী অঞ্চলের রাখাইন প্রভৃতি জাতিসত্তার মানুষ বংশপরম্পরায় বসবাস। এছাড়া, জাতিগত সংখ্যালঘু উর্দুভাষী জনগণ রয়েছে। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য রচিত সংবিধানে বাঙালি জাতি ব্যতীত অন্য জাতিসত্তাকে স্বীকার করা হয়নি।
তারা বলেন, ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর শেখ হাসিনার প্রথম সরকারের আমলে সরকার ও জনসংহতি সমিতির ভেতরে একটি চুক্তি সম্পাদিত হয়। সরকারের পক্ষ থেকে সে সময় এই চুক্তিকে ‘পার্বত্য শান্তি চুক্তি’ হিসেবে পরিচিত করা হয়েছে। গত ২২ বছরেও এই চুক্তি বাস্তবায়িত না হওয়ায় ও পার্বত্য চট্টগ্রামের জাতিসত্তার জনগণের ওপর অঘোষিত সেনাশাসন জারি থাকায় জাতিসত্তার জনগণের ভেতরের চাপা ক্ষোভ বিস্তৃত হয়েছে। অপারেশন উত্তরণ, অপারেশন দাবানল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১১ দফা নির্দেশনা পার্বত্য চট্টগ্রামের জাতিসত্তার জনগণের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা, সংগঠন করার স্বাধীনতা ও চলাচলের স্বাধীনতাকে খর্ব করেছে।
দেশের গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল শক্তির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, জনগণের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামই ফ্যাসিবাদী শাসন উচ্ছেদের পথ।
পার্বত্য চট্টগ্রামের জাতিসত্তার জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে বাধা শাসক শ্রেণির সরকার ও রাষ্ট্রের সকল চক্রান্ত চূর্ণ করতে দেশের গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল শক্তির প্রতি তারা আহ্বান জানান।





