নিজস্ব প্রতিবেদক, রামুঃ
‘পৃথিবীতে মানুষ অল্পদিনের জন্য আসে, তার চারিদিকে শূণ্যতা ছড়ানো। এখানে শুধু ছায়া ও মায়ার খেলা’। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটে ফেসবুকে লিখেছেন কলেজ শিক্ষক আবদুস সাত্তার। কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে সত্যিই তিনি ছায়া ও মায়ার বাঁধন ছেড়ে একেবারেই চলে গেলেন।

আবদুস সাত্তার নাইক্ষ্যংছড়ি হাজি এম এ কালাম সরকারি কালেজের গণিত বিভাগের সিনিয়র প্রভাষক। আজ শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে কলেজ শিক্ষক আবদুস সাত্তার ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহী রাজেউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৫৪ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে, এক ছেলে, আত্মীয়-স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান। কলেজ শিক্ষক আবদুস সাত্তার কক্সবাজারের রামু উপজেলার উত্তর মেরংলোয়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত গোলাম শরীফ ফকির-এর ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে খাবার সেরে প্রতিদিনের মতো ঘুমিয়ে পড়েন আব্দুস সাত্তার। ভোররাত তিনটার দিকে হঠাৎ করে তার বুকে ব্যথা অনুভুত হয়। এসময় শরীর থেকে প্রচুর ঘাম বের হয়। এ অবস্থায় তাকে প্রথমে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে সেখান থেকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হলে, চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
আজ শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে পাঁচটায় রামু উত্তর বাইপাস সংলগ্ন ফকিরামুরা জামে মসজিদ মাঠে মরহুমের নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে জানাযা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। তাঁর মৃত্যুর খবরে আত্মীয়-স্বজন, রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে।
নামাজে জানাযা পূর্ব স্মরণ সভায় মরহুমের জন্য দোয়া চেয়ে বক্তৃতা করেন, রামু উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি সোহেল সরওয়ার কাজল, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি মো. শফিউল্লাহ, নাইক্ষ্যংছড়ি হাজি এম এ কালাম সরকারি কালেজের অধ্যক্ষ ও আ ম রফিকুল ইসলাম, কক্সবাজার আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি এড. নুরুল ইসলাম, মরহুমের চাচা বশিরুল ইসলাম ও ছোট ভাই আকতার কামাল। স্মরণ সভা সঞ্চালনা করেন, মরহুমের মামাতো ভাই গিয়াস উদ্দিন। নামাজে জানাযায় ইমামতি করেন, মাওলানা জামিলুর রহমান।
মরহুম আব্দুস সাত্তার রামু পশ্চিম মেরংলোয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সিদরাতুল লতিফা হক শেলীর স্বামী এবং কক্সবাজার সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক চারুশিল্পী রেজাউল করিম রেজুর বড় ভাই। মৃত গোলাম শরীফ ফকিরের তিন ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে কলেজ শিক্ষক আব্দুস সাত্তার ছিলেন তৃতীয়।





