আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
শ্রীলঙ্কায় বৌদ্ধ মন্দিরে হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশটির কর্মকর্তারা। স্থানীয় এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইস্টার সানডেতে হামলা পরবর্তী অভিযান চালিয়ে এমন তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা।

রবিবার (২১ এপ্রিল) খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ইস্টার সানডে উদযাপনকালে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো ও তার আশপাশের তিনটি গির্জা এবং তিনটি হোটেলসহ আটটি স্থানে সিরিজ বোমা হামলায় অন্তত ২৫৩ জন নিহত হয়। হামলার দায় স্বীকার করে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। তাওহিদ জামাত বা এনটিজে নামে পরিচিত শ্রীলঙ্কার স্থানীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতা জাহরান হাশিম মোহাম্মদকে হামলার মূল হোতা হিসেবে সন্দেহ করছে সে দেশের সরকার। আইএস-এর পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়েছে, বাগদাদির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে হাশিমের পরিকল্পনা মাফিক ওই হামলা হয়েছে। শ্রীলঙ্কার নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, নতুন করে সেখানে আবারও হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
অভিযানে ন্যাশনাল তাওহীদি জামাত সংশ্লিষ্ট এক বাড়ি থেকে সাদা স্কার্ট ও ব্লাউজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইল মিররের প্রতিবেদনে বলা হয়, উদ্ধারকৃত এই পোশাক থেকেই গোয়েন্দারা সন্দেহ করেন যে বৌদ্ধ ভিক্ষুর বেশে মন্দিরে হামলা চালানোর পরিকল্পনা ছিলো তাদের।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৯ মার্চ ২৯ হাজার শ্রীলঙ্কার রুপি দিয়ে এমন ৯টি পোশাক কিনেছিলো মুসলিম নারীরা। সিসিটিভি ফুটেজেও এই তথ্য নিশ্চিত হয়। এখন পর্যন্ত তেমন পাঁচটি পোশাক উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি চারটি পোশাকের খোঁজে রয়েছেন গোয়েন্দারা। কর্মকর্তারা জানান, ইস্টার সানডেতে ৯ হামলকারীর মধ্যে একজন নারীও ছিলেন।
এছাড়া আরও কয়েক দফা হামলার আশঙ্কা জানিয়ে শ্রীলঙ্কার আইনপ্রণেতা ও বিভিন্ন নিরাপত্তা দফতরকে চিঠি পাঠিয়েছেন পুলিশের এমএসডি (মন্ত্রিপরিষদের নিরাপত্তা বিভাগ) ইউনিটের প্রধান। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘প্রাসঙ্গিক তথ্য থেকে আরও জানা গেছে, সামরিক পোশাক পরে জঙ্গিরা একটি গাড়ি ব্যবহার করে এ হামলা চালাতে পারে।’ রবিবার (২৮ এপ্রিল) কিংবা সোমবার (২৯ এপ্রিল) জঙ্গিরা পূর্ব উপকূলীয় বাট্টিকালোয়া শহরসহ পাঁচটি এলাকায় এমন হামলার পরিকল্পনা করেছে বলেও সতর্ক করা হয়। ২১ এপ্রিল ওই বাট্টিকালোয়ার এক গির্জায় হামলার বলি হয়েছিল ২৭ জন। তবে ওই শহর ছাড়া নতুন করে আর কোথায় কোথায় হামলা হতে পারে তা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়নি।
সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন






