আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
শ্রীলঙ্কায় মুসলিমবিরোধী দাঙ্গা দমনে পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশসহ মুসলিম দেশের রাষ্ট্রদূতরা। মঙ্গলবার (৪ মে) এক যৌথ বিবৃতিতে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের দাঙ্গা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলবে।সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে শ্রীলঙ্কার নয়জন মুসলমান মন্ত্রী এবং দুটি প্রদেশের মুসলমান গভর্নর একযোগে পদত্যাগ করেছেন। এ ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ বিবৃতি দেওয়া হলো।

গত সোমবার (৩ মে) শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা আয়োজিত ইফতার মাহফিলেও মুসলিম দেশের রাষ্ট্রদূতরা একই ধরনের আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে রাষ্ট্রদূতরা বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ঠেকাতে পদক্ষেপ নিতে আমরা ইসলামি সহযোগী সংস্থা—ওআইসির প্রতিনিধিরা বন্ধুপ্রতিম শ্রীলঙ্কা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।’
এ জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা। যতই ধর্মীয় ও রাজনৈতিক প্রভাব থাকুক না কেন দায়ীদের রেহাই না দেওয়ার জোর দাবি জানান তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘শ্রীলঙ্কায় মুসলমানদের বিরুদ্ধে হামলার কারণে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার ওপর প্রভাব পড়তে পারে। গত কয়েকদিন ধরে এখানে যে ঘটনাগুলো ঘটছে সেটি বিদেশি মুসলমান উদ্বাস্তুসহ পুরো মুসলিম সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এই ধরনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভীতি প্রদর্শন শ্রীলঙ্কার মুসলিমদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।’
প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা আয়োজিত ইফতার মাহফিলে যোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রিয়াজ হামিদুল্লাহ। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রদূতরা প্রেসিডেন্টের কাছে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন এবং মুসলিমদের নিরাপত্তা দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।’ সাধারণ মুসলমানরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং ভীতি প্রদর্শনের ভয়াবহ চিত্রের বর্ণনা দিচ্ছে বলেও তিনি জানান।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এখানে মুসলিমরা তাদের নিরাপত্তা, তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা, জীবনযাপন এবং ব্যবসা নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।’
রিয়াজ হামিদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা যারা ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম, সবাই শ্রীলঙ্কার বন্ধু এবং আমরা প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখি।’
উল্লেখ্য, গত ২১ এপ্রিল কলম্বোতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার পর শ্রীলঙ্কার কিছু মানুষ মুসলমানদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করে এবং তাদের একঘরে করার চেষ্টা চালায়। এর সৃষ্ট দাঙ্গা পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে শ্রীলঙ্কায় নয়জন মুসলিম মন্ত্রী এবং দুটি প্রদেশের গভর্নর একযোগে পদত্যাগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রানিল বিক্রমাসিংহে জানান, ১৯৪৮ সালে স্বাধীনতার পরে এই প্রথমবার দেশটির সরকারে কোনও মুসলমান মন্ত্রী থাকলেন না।
সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন





