একেএম লিয়াকত আলীঃ
” Community Policing ” – is a Philosophy not a Progamme.
আমরা সকলে জানি যে ” কমিউনিটি পুলিশিং ” – এর ধারনা কোনোরূপ সমালোচনা ছাড়াই বিশ্বব্যাপী ব্যাপকভাবে গ্রহনযোগ্যতা লাভ করিয়াছে। কারন মডেলটি হলো পুলিশ Community এর অংশে পরিনত হয়ে অধিবাসীদের পূর্ণ আস্থা অর্জন করে – অপরাধ সম্পর্কে আগাম তথ্য সংগ্রহ করে অপরাধ প্রতিরোধ করা। অপরাধ সংগঠিত হওয়ার পর কল পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা নয়।

কিন্তু A.J. Waddington নামক একজন গবেষকের মতে, ” কমিউনিটি পুলিশিং – এর ধারনা জনগনের সাথে এক রকম রোমান্টিক প্রতারনা করার মত। কেননা অতীতে কখনও পুলিশ প্রতিটি নাগরিকের যেমন বন্ধু হতে পারে নাই – তেমনি ভবিষ্যতেও কোনভাবেই প্রতিটি নাগরিকের বন্ধু হতে পারবে না।” তিনি চিরন্তন সত্যি কথা টাই বলেছেন। কেননা যেদেশে পুশিলের মধ্যে আজও “Brotherhood” মানসিকতার অস্তিত্ব দেখা যায় না অর্থাৎ আজও পুলিশ পুলিশেরই বন্ধু হতে পারে নাই – সেদেশে পুলিশ প্রতিটি জনগনের বন্ধু হওয়ার সম্ভাবনা সত্যিই সুদূর পরাহত।
যাক মূল কথায় আছি। আমাদের দেশে Community Policing কার্যক্রমের ব্যর্থতার মূল কারন হলো Community শব্দের প্রকৃত অর্থ না বুজা বা ভূল বুজা- বলে আমি মনে করি। ইংরেজী “Community” শব্দের আভিধানিক অর্থ সম্প্রদায় বা সমাজ বা গোষ্ঠী। আরো ব্যাপক অর্থে বলা যায় যে একটা নির্দিষ্ট এলাকায় বসবাসকারী কিছু জনসাধারণ যাদের মধ্যে বেশ কিছু Common বৈশিষ্ট বিদ্যমান থাকে। যেমন একটা নির্দিষ্ট এলাকায় বসবাস কারী হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভিন্ন পেশাজীবি থাকতে পারে যথা কামার, কুমার, নর সুন্দর, জেলে, ধর্মীয় যাজক, ব্রাহ্মন ইত্যাদি। আবার ঐ এলাকার মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যেও বিভিন্ন পেশাজীবি যেমন ব্যবসায়ী, চাকুরীজীবি, ঈমাম-মোয়াজ্জেম, শিয়া, সুন্নী, কওমী, মারফতী, কাদিয়ানী ইত্যাদি।
নির্দিষ্ট এলাকায় বসবাসকারী অধিবাসীদের মধ্যে যাদের মাঝে এসব বৈশিষ্ট গুলো কমন – তাদের নিয়া পৃথক পৃথক ভাবে গঠিত গ্রুপকেই Community বা সমাজ বলা হয়। গ্রাম-গন্জে অনেক এলাকায় এরূপ সমাজ বা Community এখনও দেখা যায় – যাদের একজন নেতা মনোনীত থাকে – যাকে তারা সমাজের সর্দার বলে থাকে এবং মান্য করেন।পাহাড়ী এলাকায় বাঙ্গালী-অবাঙালি সংমিশ্রনে গঠিত কোন জনগোষ্ঠীকে এই অর্থে Community বা সমাজ বলা যায় না।
পুলিশ এই ধরনের নিদিষ্ট এলকায় বসবাসরত কিছু কমন বৈশিষ্ট সম্পন্ন জনগোষ্ঠীর অংশে পরিনত হইয়া তাদের মধ্যে পুলিশিং এর মাধ্যমে আইন- শৃংখলা স্থিতিশীল রাখা টাই Community Policing।
কিন্তু বাস্তবে কাদের নিয়া আমাদের কমিউনিটি পুলিশিং এর তথাকথিত কার্যক্রম চলমান আছে। একটা ওয়ার্ড বা ইউনিয়ন বা থানার সকল ধর্ম-বর্ণ-পেশার জনগনকে নিয়া আমাদের Community Policing এর কমিটি গঠিত হয় – যেখানে কারো উপর কারো নিয়ন্ত্রন নাই। সবাই মাতব্বর, কেউ কারো কথা বা পরামর্শ শুনার সময় নাই। এই ধরনের কমিউনিটি পুলিশিং এর কমিটি অনেক ক্ষেত্রে প্রচলিত ইউনিয়ন পরিষদের বিকল্প প্রশাষন হিসাবে ফোকাস হয়ে – বিবাদ সৃষ্টি হতেও দেখা যায়। হাস্যকর বিষয় হলো আমাদের উধর্বতন কর্তৃপক্ষ যখন কমিউনিটি পুলিশিং এর নেতৃবৃন্দদের সাথে মিটিং করতে চান – তখন ওয়ার্ড বা ইউনিয়ন বা থানা কমিটির সভাপতি বা সেক্রেটারীদের মিটিং-এ যথাসময়ে উপস্থিত করানোর জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে নির্দেশ প্রদান করেন। কখনও কমিউনিটি পুলিশিং এর অংশ হিসাবে নির্দিষ্ট ধর্মের বা বর্নের বা গোত্রের বা পেশার যেমন ব্যবসায়ী, চাকুরীজীবি, যানবাহন মালিক বা শ্রমিক বা যুব সমাজ বা শিক্ষক সমাজ বা ছাত্র সমাজ ইত্যাদি সম্প্রদায় বা সমাজের নেতৃবন্দদের উপস্থিত করানোর জন্য নির্দেশ দেওয়ার নজীর নাই।
আমার মতে যদি উপরে বর্নিত কমন বৈশিষ্ট সম্পন্ন বা নির্দিষ্ট সমাজের সর্দারদের নিয়া Community Policing এর কমিটি গঠিত হতো – তাহলে ঐ নির্দিষ্ট কমিউনিটি বা সমাজের উপর নেতৃত্বের পক্ষান্তরে পুলিশের নিয়ন্ত্রন থাকতো। ফলে তথ্য আদান-প্রদানও অনেক বেশী সহজতর হতো। আইন-শৃংখলাও থাকতো স্থিতিশীল।
লেখকঃ পুলিশ কর্মকর্তা।






