অনলাইন ডেস্কঃ
রোহিঙ্গা ইস্যুতে রাজনীতি না করে সরকারের নীতির প্রতি সমর্থন জানাতে দেশের সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেওয়ার আহবান জানিয়েছেন ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম এমপি। একই সঙ্গে তিনি রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য আন্তর্জাতিক মহলেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সোমবার রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ১৪ দল আয়োজিত শোকসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী সরকারের অন্যতম উপদেষ্টা ও ন্যাপের সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের মৃত্যুতে এই শোকসভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ১৪ দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টি-সিপিবি নেতা মঞ্জুরুল আহসান খান, ঐক্য ন্যাপের নেতা পঙ্কজ ভট্টাচার্য্য ও কলামিষ্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর মোজাফফর আহমদের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা দিক উল্লেখ করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, নীতির প্রশ্নে তিনি কখনই আপস করেননি। ছয় দফার প্রতি তিনি অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়েছিলেন। সিপিবি ও ঐক্য ন্যাপের নেতাকর্মীদের প্রতি সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে নাসিম বলেন, আওয়ামী লীগ আশা করে এই দুটি দল শক্তি সঞ্চয় করবে। তারা সরকারের কঠোর বিরোধীতা করবে। এমনকি বিএনপি-জামায়াতের অবস্থান দখল করবে। তখন দেশে সরকার ও বিরোধী দলে উভয় স্থানেই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ও অসাম্প্রদায়িক শক্তি অবস্থান করবে। তখন আর দেশ বিপথগামী হওয়ার শঙ্কা থাকবে না।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে দেশের অভ্যন্তরে অশুভ শক্তির চক্রান্ত শুরু হয়ে গেছে-এই অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘এই ইস্যুতে কোন রাজনীতি নয়, এই প্রশ্নে কোন দলবাজী নয়। রোহিঙ্গা প্রশ্নে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকুন। সরকারকে সবাই সাহায্য করুন। রোহিঙ্গাদের ফেরাতে সমস্ত রাজনৈতিক দলকে অনুরোধ করবো, ঐক্যবদ্ধভাবে আপনারা আমাদের সহযোগিতা করুন।’
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন, মোজাফ্ফর আহমেদ ছিলেন আদর্শবান রাজনীতির মুর্ত প্রতীক। তাকে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করা হলেও তা তিনি নেননি। কারণ তিনি বলেছেন, তিনি দেশের জনগণের জন্য লড়াই করেছেন। কোনো কিছু পাওয়ার জন্য নয়।
জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি বলেন, এদেশের সবচেয়ে বড় অর্জন স্বাধীনতাসহ সব অর্জনের পেছনে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করেছে ঐক্য। এই ঐক্য যখন ধরে রাখা যায়নি তখনই বিপদ এসেছে। চলমান বিজয়কে ধরে রাখতেও ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সিপিবির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মঞ্জুরুল আহসান খান বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতির সবচেয়ে বড় ট্রাজেডি হলো না্যপের সাংগঠনিক শক্তি কমে যাওয়া। স্বাধীনতার পর কমিউনিষ্ট পার্টি আর ন্যাপ যদি মুক্তিযুদ্ধে পক্ষের শক্তি হিসেবে বিরোধী দলে থাকতো তবে বিএনপি-জামাতের মতো আপদ জনগণের ঘাড়ে চাপতে পারত না।
সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বলেন, জনগণের ঐক্য ধরে রাখতে হবে। জনগণ বিচ্ছিন্ন হলে ষড়যন্ত্রকারীরা সুযোগ পায়। ষড়যন্ত্রকারীদের মোকাবেলায় জনগণের ঐক্যের কোন বিকল্প নেই।
ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পংকজ ভট্টাচার্য বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন যদি বাংলাদেশের হয়ে জাতিসংঘে ভোট না দিত, তাহলে হয়তো আমরা বাংলাদেশ পেতাম না। বঙ্গোপসাগরে সপ্তম নৌবহর পাঠিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তখন সোভিয়েত ইউনিয়ন অষ্টম নৌবহর পাঠিয়েছিল। আর সোভিয়েতের এই ভূমিকা সম্ভব হয়েছিল কমরেড মণি সিংহ ও অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের তৎপরতায়
কলামিষ্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, মোজাফফর আহমদ ছিলেন জাতীয়তাবাদী সমাজতন্ত্রী। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ইতিহাসের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টি (জেপি) মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, জাসদ একাংশের সভাপতি শরিফ নুরুল আম্বিয়া ও ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা আনিসুর রহমান মল্লিক।
সূত্রঃ সমকাল






