অনলাইন ডেস্কঃ
করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে জনসমাগম ঠেকাতে ইফতার মাহফিল আয়োজন ও যোগাদানে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। শুক্রবার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার স্বার্থে রমজান মাসে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ইফতার মাহফিলের আয়োজন বা যোগদান করতে পারবেন না। এ নির্দেশনা না মানলে প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে বলেও হুঁশিয়ার করা হয়েছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব দেলায়ারা বেগম স্বাক্ষরিত নির্দেশনা বলা হয়েছে, তারাবির নামাজে দু’জন হাফেজসহ ১২ জন অংশ নিতে পারবেন। তবে কেনো বহিরাগত মুসল্লি অংশ নিতে পারবেন না। মসজিদের ইমাম, খতিব, খাদেমসহ অনধিক ১২ জন মিলে এশা ও তারাবির জামাতে অংশ নিতে পারবেন।
গত ৬ এপ্রিল ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, নামাজের জামাতে পাঁচজন অংশ নিতে পারবেন। জুমার জামাত হবে সর্বোচ্চ ১০ জনকে নিয়ে। শুক্রবারের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগের এ নির্দেশও বহাল থাকবে। শুধুমাত্র এশার ও তারাবির জামাতে ১২ জন অংশ নিতে পারবেন।
করোনা সংক্রমণে গোটা বিশ্ব কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ঘরবন্দি হয়ে আছেন প্রায় ৩০০ কোটি মানুষ। সৌদি আরবসহ অধিকাংশ মুসলিম প্রধান দেশে মসজিদে সাধারণ মুসল্লিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনই এক কঠিন পরিস্থিতিতে এসেছে এবারের পবিত্র রমজান। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে রোজা। শনিবার শুরু হচ্ছে বাংলাদেশে।
রোজায় সারাদিনের উপোসের পর সূর্যাস্তের পর ইফতার করেন মুসলমানরা। বাংলাদেশে ইফতার শুধু ধর্মীয় বিষয় নয়, সামাজিক আয়োজন। সামর্থ্যবানরা দরিদ্রদের জন্য ইফতারের আয়োজন করেন। বাংলাদেশের সামাজিকতা ও রাজনীতিতেও রয়েছে ইফতারের সংস্কৃতি। ইফতারে একে অন্যকে দাওয়াত করেন। মসজিদে মসজিদে মুসল্লিদের জন্য ইফতার আয়োজনে রীতি রয়েছে বাংলাদেশে।
রাজনৈতিক, ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিকসহ প্রায় সকল সংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় ইফতার মাহফিল। নানা শ্রেণীর পেশার মানুষের জন্য ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন রাষ্ট্র্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ দেশের শীর্ষ রাজনীতিকরা।
করোনার বিস্তার রোধে এবার কোথাও ইফতার মাহফিল আয়োজন বরা হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতি বছর প্রথম রোজার ইফতার করেন এতিম ও দরিদ্র শিশুদের সঙ্গে। এবার এ আয়োজন থাকছে না। এর মধ্যে ইফতার মাহফিল আয়োজনে নিষেধাজ্ঞা জারি করল ধর্ম মন্ত্রণালয়।
সূত্র: সমকাল






