বিদেশ ডেস্ক:
থাইল্যান্ডের পর্যটন শহর হুয়া হিন এবং ফুকেটে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সিরিজ বোমা হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান খবরটি নিশ্চিত করেছে।
বৃহস্পতিবার রাতে হুয়া হিন শহরের একটি ব্যস্ত সড়কে দুটি বোমা বিস্ফোরণে একজন নিহত হন। বোমা দুটি ৫০ মিটার ব্যবধানে দুটি গাছ লাগানোর পাত্রে রাখা ছিল। আধা ঘন্টার ব্যবধানে রিমোট কন্ট্রোলের ওই দুটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ওই বিস্ফোরণে আরও অন্তত ১৯ জন আহত হন। এদের মধ্যে রয়েছেন সাত বিদেশি পর্যটক।
বৃহস্পতিবারই থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় ত্রাং প্রদেশে আরেকটি বোমা বিস্ফোরণে একজন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। শুক্রবার নতুন করে বোমা হামলায় হুয়া হিন প্রদেশে একজন এবং সুরাট থানি প্রদেশে একজন নিহত হন।
ব্যাংককে হিন্দু মন্দিরে বোমা হামলার বর্ষপূর্তির কিছুদিন আগেই এই হামলা চালানো হলো। গত বছর ওই হামলায় ২২ জন নিহত হন, আহত হন শতাধিক।
এখনও পর্যন্ত কেউ ওই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের সংশ্লিষ্টতা নাকচ করে দিয়েছে থাই পুলিশ। তাদের ধারণা, মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশি অভিযান শুরুর পর অপরাধীরা এই হামলা চালিয়েছে।
এবারের হামলায় পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করা হয়েছে। পর্যটন শিল্প থেকেই আসে থাইল্যান্ডের মোট আয়ের ১০ শতাংশ।
রাজধানী ব্যাংককের ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণের সমুদ্র তীরবর্তী হুয়া হিন শহরটি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। ইউরোপের হাজার হাজার পর্যটক ছুটি কাটাতে সেখানে যান। অনেক ইউরোপীয় শহরটিকে নিজেদের আবাসস্থলও করে নিয়েছেন।
ফুকেট শহরটি ২০০৪ সালের সুনামিতে আক্রান্ত হলেও নতুন করে গড়ে তোলা হচ্ছে শহরটিকে। ওই শহরটিও পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয়।
থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে সহিংসতার ইতিহাস নতুন কিছু নয়। তবে তা ফুকেট বা হুয়া হিন শহরে তেমন একটা দেখা যায়নি।
হুয়া হিনের পুলিশ প্রধান সিত্থিচাই স্রিসোপাচারোয়েনরাত ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি-কে জানিয়েছেন, হামলার কোন ধরণের বোমা ব্যবহার করা হয়েছে, সে সম্পর্কে এখনও তদন্ত করা হচ্ছে।
স্থানীয় পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বোমা বিস্ফোরণে এক থাই নারী নিহত হয়েছেন এবং আরও ১৯ জন আহত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, আহতদের মধ্যে তিন জনের অবস্থা আসঙ্কাজনক, আর হামলায় আহত সাত বিদেশি নাগরিকের মধ্যে চার জন নারী এবং তিন জন পুরুষ।
এক বিবৃতিতে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ দফতর জানিয়েছে, তারা আরও তথ্যের অনুসন্ধান করছে। আর যে কোনও সাহায্যের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
হামলায় জড়িতদের সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, ধারণা করা হচ্ছে থাইল্যান্ডের সামরিক সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে ওই হামলা চালানো হয়েছে। দুই বছর আগে সামরিক বাহিনী থাইল্যান্ডের ক্ষমতা দখল করে
বোমা হামলার একদিন আগে বুধবারই সামরিক জান্তা ও প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুধ চান-ওচা দাবি করেছিলেন, তিনি দেশকে স্থিতিশীল অবস্থায় আনতে সক্ষম হয়েছেন।
থাইল্যান্ডের রানি সিরিকিতের জন্মদিন উপযাপনের সময়েই এই বোমা হামলা চালানো হলো। জান্তা শাসক জানিয়েছেন, রাজতন্ত্রকে রক্ষা করাটাই তার প্রধান কাজ।
হামলা চালানো থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে সরকারবিরোধী উগ্রপন্থীরা সক্রিয় রয়েছে। ত্রাং প্রদেশে মুসলিম বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ২০০৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। এই প্রদেশটি থাইল্যান্ডের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন।।






