আজ শুভ আষাঢ়ী পূর্ণিমা। আষাঢ়ী পূর্ণিমা অনেক স্মৃতিধন্য একটি পূর্ণিমা। এছাড়াও বৌদ্ধ বিশ্বে থেরবাদী বৌদ্ধ অধ্যুষিত দেশগুলোতে আজ থেকে ত্রৈমাসিক বর্ষাবাস তথা বর্ষাব্রত শুরু হবে।

এ পূর্ণিমা তিথিতেই রাজকুমার সিদ্ধার্থ মায়ের গর্ভে প্রতিসন্ধি গ্রহণ করেন। বৌদ্ধ পরিভাষায় একে বলা হয় মহাভিনিষ্ক্রমন। ছয় বছর কঠোর সাধনার মাধ্যমে বুদ্ধত্ব লাভের পর এ দিনেই বুদ্ধ নবলব্ধধর্ম ‘ধর্মচক্র প্রবর্তনসূত্র’ রূপে পঞ্চবর্গীয় শিষ্যের কাছে প্রথম প্রচার করেন সারনাথের ঋষিপতন মৃগদাবে (বর্তমান উত্তরপ্রদেশের বানারসের সন্নিকটস্থ)।
আজকের এই পূর্ণিমা তিথিতেই বুদ্ধ শ্রাবস্তীর গণ্ডম্ব বৃক্ষমূলে ঋদ্ধি প্রতিহার্য প্রদর্শন করেন এবং মাতৃদেবীকে দর্শন ও ধর্মদেশনা দান করার জন্য তাবতিংস স্বর্গে গমন করেন। কারণ রাজকুমার সিদ্ধার্থের জন্মের পরই মাতৃদেবী স্বর্গবাসী হয়েছেলিন।
বৌদ্ধধর্মে বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়ে বর্ষা ঋতুর (আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা) ধর্মীয় ও সামাজিক গুরুত্ব অনেক বেশি। কারণ ত্রৈমাসিক এ বর্ষাবাসের মধ্যে ভিক্ষুসংঘ ও গৃহীসংঘ একাধারে ধর্ম-বিনয় পালন ও অনুশীলনের সুযোগ লাভ করে থাকেন। এছাড়াও ভিক্ষুসংঘের বিনয়কর্ম সম্পাদন, প্রাতিমোক্ষ পাঠ এবং উপোসথধারীদের অষ্টমী, অমাবস্যা, পূর্ণিমায় উপোসথ গ্রহণ বিনয় অন্তর্গত পালনীয় ব্রতকর্ম।
বিশ্ব বৌদ্ধদের মতো বাংলাদেশের বৌদ্ধরাও যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে আজকে শুভ আষাঢ়ী পূর্ণিমা তিথি পালন করবেন। বিহারে বিহারে দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ভোরে বুদ্ধ পূজা, সকালে জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন, অষ্টশীল গ্রহণ, বিকালে ধর্মদেশনা শ্রবণ, সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্জলন এবং দেশ ও বিশ্বশান্তি কামনায় সমবেত উপাসনা অনুষ্ঠিত হবে।
করোনা কালের এবারের শুভ আষাঢ়ী পূর্ণিমা এবং বর্ষাব্রত স্বাস্থ্যবিধি মেনেই (মাস্ক পরিধান করা) পালন করার জন্য সকলের প্রতি মৈত্রীময় আহবান জানাই।






