অনলাইন ডেস্ক :
রেলওয়ের অব্যবস্থাপনা বন্ধে ছয় দাবিতে কমলাপুর স্টেশনে আন্দোলনরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনির দাবি দুই মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

রোববার বিকালে কমলাপুর রেল স্টেশনে গিয়ে রনির কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এই আহ্বান জানান তিনি।
জাফরুল্লাহ বলেন, “রনির প্রত্যেকটা দাবি যৌক্তিক। রনি যে প্রস্তাব করেছে, সোজাসুজি ঘোষণা দেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে সবগুলো বাস্তবায়নের জন্য আপনারা সর্বপ্রকার চেষ্টা করবেন।”
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পর জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা স্টেশন ব্যবস্থাপকের সঙ্গে কথা বলতে কমলাপুর স্টেশনে ঢোকার চেষ্টা করেন।
কিন্তু নিরাপত্তাকর্মীরা প্রধান ফটক তালাবদ্ধ রেখে তাদের ঢোকা আটকে দেন। এ সময় নিরাপত্তাকর্মীরা মাইকিং করে বলছিলেন, ‘স্টেশনে টিকেটবিহীন প্রবেশ নিষেধ’।
বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ আন্দোলনকারীদের ফটকের সামনেই অবস্থান করতে দেখা যায়।
এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি কমলাপুর রেল স্টেশনের ব্যবস্থাপক মাসুদ সারোয়ার।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখানে আমাদের রেলওয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা আছেন। তারা ওনার সঙ্গে কথা বলবেন। এ ব্যাপারে আমি কোনো কিছু বলতে চাচ্ছি না।”
জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা স্টেশন ব্যবস্থাপকের সঙ্গে কথা বলতে কমলাপুর স্টেশনে ঢোকার চেষ্টা করলে নিরাপত্তাকর্মীরা প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
|
কয়েকদিন ধরে মহিউদ্দিন রনিসহ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের রেল স্টেশনে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না নিরাপত্তাকর্মীরা। শনিবার স্টেশনের বাইরে এক আওয়ামী লীগ কর্মীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।
‘যৌক্তিক’ আন্দোলনে বাধা দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জাফরুল্লাহ বলেন, “তাকে (রনিকে) বাইরে আটকে রেখেছেন কেন? এভাবে আটকে মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে বন্ধ করা যায় না। পচা ডিম মেরে আন্দোলন বন্ধ করা যায় না। নিরাপত্তা বাহিনী দিয়ে আন্দোলন ঠেকানো যায় না।
“আপনি কতজন নিরাপত্তা বাহিনী আনবেন? ৫০ জন? ১০০ জন? ৫০০ জন? আমরা আসব ৫ হাজার। সাধারণ মানুষের সুযোগ-সুবিধা আপনি বঞ্চিত করছেন, কেউ তার বিরুদ্ধে আওয়াজ করলে আপনি সেটা আপত্তি করছেন, এটা ভুল কাজ। অনুগ্রহ করে ভুল পথে যাবেন না। জনগণের কল্যাণে কাজ করুন।”
রেলে ‘অব্যবস্থাপনা’: ছয় দফায় রনি অনড়
ব্যক্তিগত উদ্যোগে রনির কর্মসূচিতে এসেছেন জানিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের উদ্যোক্তা জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, “আমি অসুস্থ মানুষ, ডায়ালাইসিস ছেড়ে এখানে এসেছি। আমার মনে হয়েছে, তার পাশে গিয়ে দাঁড়ানো দরকার। তাই তাকে সমর্থন দিতে আমি ব্যক্তিগতভাবে এখানে এসেছি। তাকে সাহস জোগানোর জন্য এসেছি।”
১৭ দিন ধরে আন্দোলন করার জন্য রনিকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, “রনির প্রত্যেকটা দাবি যুক্তিসঙ্গত। তাকে আমি অভিনন্দন জানাই, সে সাহস করে ৭ জুলাই থেকে সকল প্রকার নিগ্রহ অগ্রাহ্য করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
“গতকালও প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আন্দোলন করতে আসলে তাকে চা খাইয়ে দেবেন। স্টেশন মাস্টার আপনি রনিকে নিয়ে চা খাওয়াবেন। এটাই আপনার কর্তব্য। সরকারকে বলছি, তাকে যেন আগামীকাল থেকে এখানে আর অবস্থান না করতে হয়। পরিষ্কারভাবে সরকার বলে দেবে আমরা প্রত্যেকটা দফাকে কার্যকর করার জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
রেলওয়ে বনাম রনি: দুদক কী করছে, জানতে চায় হাই কোর্ট
রেলওয়ের অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ জানিয়ে ছয় দফা দাবিতে ৭ জুলাই থেকে কমলাপুর টিকেট কাউন্টারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনি।
মঙ্গলবার দুপুরে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি হয়ে রেলভবন পর্যন্ত পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করে রেলওয়ের মহাপরিচালককে বরাবর স্মারকলিপি দেন রনিসহ একদল শিক্ষার্থী। রেলওয়ের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ মজুমদার রনির দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন।
কিন্তু রনি মহাপরিচালকের কথায় সন্তুষ্ট হতে না পেরে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
পরদিন বুধবার রনির অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় ট্রেনের টিকেট বিক্রির দায়িত্বপ্রাপ্ত কোম্পানি সহজ ডটকমকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। দুই লাখ টাকা জরিমানার ২৫ শতাংশ অর্থ অভিযোগকারী মহিউদ্দিন রনিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে পরিশোধ করতে বলা হয়।
রনির আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রেলওয়ের অব্যবস্থাপনা নিয়ে বৃহস্পতিবার শুনানিতে ট্রেনের ছাদে যাত্রী বহন বন্ধ করতে বলেছে হাই কোর্ট। টিকেট কালোবাজারি বন্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে রেলওয়েকে জানাতে নির্দেশও দিয়েছে আদালত।
তারপরও ছয় দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন রনি। দাবি আদায়ে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধেদেওয়ার পরও কর্তৃপক্ষের ‘আশ্বাস না পাওয়ায়’ বৃহস্পতিবার বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন রনি।
একইসঙ্গে সারাদেশে ‘ভুক্তভোগীদের’ রেল স্টেশনে অবস্থান কর্মসূচি পালনেরও আহ্বান জানান তিনি।
শুক্রবার বিকালে বাধা পাওয়ার রাত ৮টার দিকে তারা সেই স্থান ত্যাগ করেন। তবে প্রতিদিন কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে জানান মহিউদ্দিন রনি।
রোববার কমলাপুরে মহিউদ্দিন রনি সাংবাদিকদের বলেন, “ছয় দফা দাবি আদায়ে আমাদের আন্দোলন চলবে। পাশাপাশি আদালতের মাধ্যমে লড়াই চালিয়ে যাব।”
সূত্র : বিডিনিউজ






