বঙ্গবন্ধুকে যদি আমরা না জানি না চিনি, তাহলে আমরা বাংলাদেশ চিনবো না। বঙ্গবন্ধুকে না চিনলে, আমরা দেশপ্রেমিক হতে পারবো না। বঙ্গবন্ধু ২৪ বছরের আনন্দোল-সংগ্রামের অধিকাংশ সময় কারাগারে কাটিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সাড়ে সাতকোটি বাঙালী নিজেরাই অস্ত্রে পরিণত হয়ে ছিলো। গত শনিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২ টায় রামুর বঙ্গবন্ধু উৎসবের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনের সংসদ সদস্য, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান মনোরঞ্জন শীল গোপাল এমপি একথা বলেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন-ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ’ উপস্থাপন ও বাংলা বিজয়ের ৫১ বছর উপলক্ষে আয়োজিত বঙ্গবন্ধু উৎসবের সমাপনী দিনের আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন, বঙ্গবন্ধু উৎসব উদযাপন পরিষদের চেয়ারম্যান কিশোর বড়ুয়া। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু উৎসবের প্রধান সমন্বয়ক সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি।
প্রধান অতিথি মনোরঞ্জন শীল গোপাল এমপি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পরে পাকিস্তানে পালিয়ে যাওয়া রাজাকারদের ফিরিয়ে এনে বাংলাদেশে নাগরিকত্ব দিয়ে ছিলো জিয়াউর রহমান। রাজাকারের গাড়িতে পতাকা দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হয়েছে। সেই রাজাকাররা আবারও ষড়যন্ত্র করছে। পাকিস্তানের সেই প্রেতাত্মারা আবারও সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। এদের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন অব্যাহত রাখতে হবে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়, আমরা রাজাকার স্বাধীনতা বিরোধীদের আরেকবার রাজনৈতিক ভাবে কবর দেবো।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি, করোনায় যখন মানুষের খবর রাখেনাই। যখন কেউ বের হয় নাই, তখন আমরাই পাশে দাঁড়িয়েছি। তিনজনে মিলে জানাযা পড়েছি। তখন বিএনপির নেতারা কেউ মানুষের পাশে ছিলো না। এখন সেই মৌসুমি পাখিরা আসছেন। নির্বাচন আসছে, তারা আবার ক্ষমতায় আসতে চাই।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল এমপির নেতৃত্বে রামু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় সাত দিনব্যাপী এ বঙ্গবন্ধু উৎসব।
এমপি কমল বলেন, যারা আমাদের দেশকে পাঁচবার দুর্নীতি চ্যাম্পিয়ন করে দিয়ে ছিলো, যারা হাওয়া ভবনের দুর্নীতিতে মালয়েশিয়ায় ১৬ হাজার কোটি টাকা পাচার করে দিয়ে ছিল, তারেক জিয়ার দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশ নিঃস্ব হয়ে গিয়ে ছিল। ২১ আগস্টের ঘটনার সাথে যারা শেখ হাসিনাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে ছিলো, বঙ্গবন্ধুকে হত্যাকারীদের যারা পুরষ্কৃত করে ছিলো, তাদেরকে বাংলার মাটিতে আর কোন দিন, ক্ষমতায় আসতে দেবো না।
বঙ্গবন্ধু উৎসবের মহাসচিব উপজেলা স্বেচ্ছা সেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক তপন মল্লিক ও ছৈয়দ মোহাম্মদ আবদুস শুক্কুরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তৃতা করেন, জেলা স্বেচ্ছা সেবকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রুস্তম আলী চৌধুরী।
সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন, বঙ্গবন্ধু উৎসব উদযাপন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবুল শর্মা, খুনিয়াপালং ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল গণী, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম চৌধুরী, গোলাম কবীর, ফরিদ আহমদ ও মোহাম্মদ আলম, কো- চেয়ারম্যান কাউয়ারখোপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামশুল আলম, চাকমারকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সিকদার, রামু ব্রাদার্স ইউনিয়নের সভাপতি মো. নবু আলম, জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক মহিলা মুসরাত জাহান মুন্নী, ঈদগড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমদ ভূট্টো, রাজারকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুফিজুর রহমান, রামু উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি ওসমান সরওয়ার মামুন, রশিদনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমডি শাহ আলম, কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু ইসমাইল মো. নোমান, খুনিয়াপালং ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মাবুদ, গর্জনিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ছৈয়দ নজরুল ইসলাম, মহাসচিব কক্সবাজার জেলা পরিষদ সদস্য ফরিদুল আলম, জেলা যুবলীগ নেতা পলক বড়ুয়া আপ্পু, ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ভূট্টো, এভারেস্ট টিচিং ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ রাজু বড়ুয়া, রামু প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি খালেদ শহীদ, কক্সবাজার জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য নুরুল হক, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নীতিশ বড়ুয়া, জেলা স্বেচ্ছা সেবকলীগ নেতা মিজানুর রহমান, উপজেলা স্বেচ্ছা সেবকলীগের যুগ্ম-সম্পাদক মো. আবুবক্কর, দিলীপ মহাজন, গ্রীন এনভায়রনমেন্ট মুভমেন্ট কক্সবাজার জেলার সাধারণ সম্পাদক, কায়সার মাহমুদ, আবদুল্লাহ বিদ্যুৎ, প্রকাশ সিকদার, জাহাঙ্গীর হোসেন, আজিজুল হক আজিজ, উত্তম মহাজন, জেলা তাতি লীগের সহ-সভাপতি আনছারুল হক ভূট্টো, উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক তছলিম উদ্দিন সোহেল প্রমুখ।
সংগীত প্রযোজক বশিরুল ইসলামের পরিচালনায়, সংস্কৃতি কর্মী তাপস মল্লিকের সঞ্চালনায় রাত ৮টা থেকে অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু উৎসবের সমাপনী দিনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দলীয় পরিবেশনায় ছিল, রামু সরকারি কলেজ, কোমলমতি শিশু নিকেতন, রামু ইনস্টিটিউট অব মিউজিক, কক্সবাজার ঝংকার শিল্পী গোষ্ঠী, ও কক্সবাজার জেলা সংগীত শিল্পী কল্যাণ পরিষদ। নাট্যকার ও নাট্য নির্দেশক স্বপন ভট্টাচার্যের রচনায় নাট্যকার আবুল কাশেমের নির্দেশনায় সমস্বর নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নাটক ‘আত্মদহন’। একক গানে ছিলেন, নাজনীন সুলতানা জোনাকি,আকাশ দাশ রিংকু, সোনিয়া বড়ুয়া, মানসী বড়ুয়া, মীনা মল্লিক, মিন্টু ব্যানার্জী, বশিরুল ইসলাম, শিউলী। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যন্ত্রানুসঙ্গে ছিলেন, লিড গিটারে এইচ বি পান্থ, বেস গিটারে মমি, অক্টোপ্যাডে সজল দে, কীবোর্ডে সৈকত নন্দী, তবলায় রাজিব বড়ুয়া।
‘বঙ্গবন্ধু তোমার জন্ম হয়েছিল বলেই আমরা পেয়েছি বাংলাদেশ’ স্লোগানে রামু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সাত দিনব্যাপী ‘বঙ্গবন্ধু উৎসব’ বর্ণাঢ্য আয়োজনে রবিবার ভোররাতে শেষ হয়েছে।







