রামুতে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ‘শুভ মাঘী পূর্ণিমা’ উদযাপন ও বৌদ্ধ মহাসম্মেলন শুরু হচ্ছে কাল। রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহার মাঠে অনুষ্ঠিতব্য উৎসবে প্রব্রজ্যাদান, অন্নদান, অষ্টউপকরণসহ মহাসংঘদান, আলোচনা সভা, দেশ ও বিশ্বশান্তি কামনায় সমবেত প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। মঙ্গলবার ও বুধবার (১১-১২ ফেব্রুয়ারি) দুই দিনব্যাপী উৎসবের আয়োজন করেছে ‘শুভ মাঘী পূর্ণিমা ও বৌদ্ধ মহাসম্মেলন উদযাপন পরিষদ ২০২৫।
শুভ মাঘী পূর্ণিমা দিবসটি বৌদ্ধদের কাছে একটি তাৎপর্যময় পূর্ণিমা তিথি। এই পূর্ণিমা তিথিকে কেন্দ্র করে বুদ্ধের জীবদ্দশার স্মৃতি জড়িয়ে আছে। এ পূর্ণিমা দিনেই তথাগত বুদ্ধ তাঁর ভিক্ষুসংঘকে পাতিমোক্ষ (ভিক্ষুদের বিনয় সংক্রান্ত নিয়মাবলী) দেশনা করেন। একই তিথিতে বৈশালীর চাপাল চৈত্যে ভিক্ষুসংঘের কাছে নিজের মহাপরিনির্বাণ দিবস ঘোষণা করেন তিনি। অর্থাৎ তিনি মাঘী পূর্ণিমা দিবসে ঘোষণা করেছিলেন, ওই দিন হতে তিন মাস পর শুভ বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে স্বীয় দেহত্যাগ করে পরিনির্বাপিত হবেন। একদিকে বুদ্ধ কর্তৃক স্বীয় আয়ু সংস্কারের ঘোষনা, অপরদিকে ভিক্ষুসংঘকে উপদেশ প্রদান শুভ মাঘী পূর্ণিমাকে মহিমান্বিত করে তুলেছে।
শুভ মাঘী পূর্ণিমা ও বৌদ্ধ মহাসম্মেলন উদযাপন পরিষদের সভপতি পলক বড়ুয়া আপ্পু জানান, ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি দুই দিনব্যাপী উৎসবে রামুর পূণ্যপুরুষ আর্যবংশ মহাথেরোর প্রাণপ্রিয় শিষ্য মায়ানমার সরকার কর্তৃক আগ্গামহাসদ্ধমাজ্যোতিকাধ্বজা অভিধায় বিভূষিত এবং বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক একুশে পদক প্রাপ্ত বহুগ্রন্থ প্রণেতা সমাজ সংস্কারক প্রয়াত পন্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথের’র প্রবজ্যাস্থল এবং দিগ্বিজয়ের শেষ আবাসস্থল রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহারে স্মৃতি বিজড়িত শুভ মাঘী পূর্ণিমা উদযাপন উপলক্ষে প্রব্রজ্যাদান, অন্নদান, অষ্টউপকরণসহ মহাসংঘদান ও বৌদ্ধ মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় প্রবজ্যাদান অনুষ্ঠান ও সন্ধ্যা ৬টায় দেশ ও বিশ্বশান্তি কামনায় সমবেত প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করা হবে। পরদিন বুধবার সকাল ৭টায় ধর্মীয় ও জাতীয় পকাকা উত্তোলন, ৮টায় অন্নদান, ৯টায় সংঘদান ও অষ্টপরিষ্কার দানসভা অনুষ্ঠিত হবে। পটিয়া মৈতলা সদ্ধর্মজ্যোতি বিহার অধ্যক্ষ উপসংঘরাজ শাসনপ্রিয় মহাথের এ সভায় সভাপতিত্ব করবেন। ভারতে মুব্বাই অজান্তা বিহার অধ্যক্ষ ও ভারতীয় ভিক্ষু মহাসভার উপসংঘরাজ ধর্মরত্ন মহাথের এ সভায় আর্শিবাদক এবং উখিয়া রুমখাঁ মহাজন পাড়া মৈত্রী বিহার অধ্যক্ষ এস ধর্মপাল মহাথের প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করবেন। এ সভায় কুশলায়ন মহাথের প্রধান জ্ঞাতী, ইন্দ্রবংশ মহাথের, শীলরত্ন মহাথের, করুণাশ্রী মহাথের, জ্ঞানপ্রিয় মহাথের বিশেষ অতিথি, ড. ধর্মকীর্তি মহাথের প্রধান সদ্ধর্মদেশক এবং রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারের অধ্যক্ষ শীলপ্রিয় মহাথের উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত হবেন।
দুপুর ২টায় শুভ মাঘী পূর্ণিমার আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত হওয়ার কথা রয়েছে, ১০ পদাতিক ডিভিশন রামু সেনানিবাসের জিওসি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ মিনহাজুল আলম, র্যাব-১৫ কক্সবাজার ডিভিশনের লে. কর্ণেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন, রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রাশেদুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাজ্জাদ জাহিদ রাতুল, রামু থানা অফিসার ইনচার্জ ইমন কান্তি চৌধুরী, রামু সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুপ্রতীম বড়ুয়া, রামু ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন অফিসার সোমেন বড়ুয়া।দুপুরের সভায় বিজয় রক্ষিত মহাথের আশির্বাদক, প্রিয়রত্ন মহাথের উদ্বোধক, ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয় মহাথের প্রধান জ্ঞাতী, এস লোকজিৎ মহাথের প্রধান সদ্ধর্মদেশক হিসেবে উপস্থিত হবেন। সভায় রামু, কক্সবাজার, উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ও আবাসিক প্রধান সদ্ধর্মদেশক হিসেবে উপস্থিত হবেন।
আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তৃতা করবেন, শুভ মাঘী পূর্ণিমা ও বৌদ্ধ মহাসম্মেলন উদযাপন পরিষদের সভপতি পলক বড়ুয়া আপ্পু, সমাজ সেবক তিলক বড়ুয়া এবং শুভেচ্ছা বক্তৃতা করবেন, রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাজু বড়ুয়া। অনুষ্ঠান সঞ্চালন করবেন, বিপুল বড়ুয়া আব্বু, লিটন বড়ুয়া (ক্লিনটন), লিটন বড়ুয়া (লুতু), স্নিগ্ধ বড়ুয়া সঞ্চয়। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে হাজার প্রদীপ, ফানুস উৎসব, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।







