সামাজিক রীতিনীতির পরিবর্তনে তাৎক্ষণিক প্রভাব প্রত্যাশায় আমাদের ধীর ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়াকে মেনে নিতে হবে। ছোট ছোট ধাপে লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে এবং শিক্ষার মাধ্যমে সচেতনতা বাড়াতে হবে। আইন ও নীতির প্রয়োগ করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগে মানুষের আচরণ ও চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আসে। সমাজে বিদ্যমান প্রথা ভাঙতে, নতুন প্রথা গড়া প্রয়োজন। প্রতিটি ছোট ভালো কাজ, বড় পরিবর্তনের পথ তৈরি করে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকালে রামুতে সামাজিক রীতিনীতির নেতিবাচক প্রভাব চিহ্নিতকরণ ও নির্মূল বিষয়ক প্যানেল আলোচনায় বক্তারা এ কথা বলেন।
চাইল্ড সেইফটি নেট প্রজেক্ট, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা আরও বলেন, সামাজিক রীতিনীতির নেতিবাচক প্রভাব চিহ্নিতকরণ ও নির্মূল করতে সচেতনতা বৃদ্ধি, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং সামাজিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ক্ষতিকর প্রথাগুলোকে শনাক্ত করতে হবে। লিঙ্গ বৈষম্য বা মানসিক স্বাস্থ্যের অবহেলা, শিক্ষা, সংলাপ এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের পক্ষে জনমত গঠন করতে হবে। ব্যক্তি ও সমাজকে পুরানো রীতিনীতি ভেঙে নতুন, অন্তর্ভুক্তিমূলক আচরণ ও মূল্যবোধ গ্রহণে উৎসাহিত করতে হবে। যা টেকসই সামাজিক পরিবর্তনের জন্য অপরিহার্য।
রামু উপজেলা পরিষদের বাঁকখালী অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত প্যানেল আলোচনায় বক্তৃতা করেন, উপজেলা মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা উম্মে সুরাইয়া আমিন, রাজারকুল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মুফিজুর রহমান, রামু প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি খালেদ শহীদ, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর জগৎময় পি. বিশ্বাস প্রমুখ। সভা সঞ্চালনায় ছিলেন, ওয়ার্ল্ড ভিশন এর চাইল্ড সেইফটি নেট প্রজেক্টের মোবিলাইজেশন সিস্টেম এন্ড স্থ্রেন্থেনিং অফিসার জুই জুলিয়ানা রিচিল।
প্যানেল আলোচনায় বক্তারা আরও বলেন, বৈষম্য ও নিপীড়ন এমন রীতিনীতি যা নারী বা সংখ্যালঘুকে দুর্বল করে। তাদের স্বাধীনতা খর্ব করে। মানসিক স্বাস্থ্যের অবহেলায় পুরুষদের আবেগ দেখানো উচিত নয়। সামাজিক বিচ্ছিন্নতায় ছোট ছোট সৌজন্যমূলক আচরণ হারিয়ে গেলে সমাজে পারস্পরিক সংযোগ ও বিশ্বাস কমে যায়। ঝুঁকিপূর্ণ আচরণকে সামাজিক চাপ দিয়ে চালিয়ে যায়।
বেসরকারি সংস্থা ডিএসকে, মুক্তি, ডাকভাঙ্গা, ইসলামি রিলিফ, জাগো নারী উন্নয়ন সংস্থা’র প্রতিনিধি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রামু উপজেলার এগার ইউনিয়নের শিশু ফোরাম ও সিবিও সদস্যরা প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন।






