অবশেষে সিদ্ধান্ত পাল্টাল সরকার, দেশের সাড়ে ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শনিবার থেকেই ঈদের ছুটি শুরু হচ্ছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা তানভীর মিয়া শুক্রবার রাত ৯টার পর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “২৩ মে থেকেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ঈদের ছুটি শুরু হবে৷ ৬ জুন শনিবার পর্যন্ত এ প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি চলবে।”
গত ২৪ মার্চ জারি করা এক আদেশ, রোজা ও ঈদের ছুটি শেষে শ্রেণিকার্যক্রম শুরুর পরের দশ শনিবার প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা রাখার ওই নির্দেশনা দিয়েছিল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। রমজান মাসজুড়ে বিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করায় শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হয়ে গেলেও মার্চের ওই নির্দেশনার কারণে ২৩ মে শনিবারও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস চলবে বলে জানিয়েছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
অন্যদিকে প্রাথমিক শিক্ষকদের পক্ষ থেকে ২৩ মে শনিবার স্কুল বন্ধ রাখার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে লিখিতভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
সেই অনুরোধে সাড়া দিয়ে অবশেষে প্রাথমিক স্কুলেও ঈদের আগের এই শনিবার ছুটি থাকবে বলে জানানো হল।
এর আগে জানানো হয়, সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ এবং কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি চলবে ৪ জুন (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত। এরপরের দিন ৫ জুন শুক্রবার। ছুটি শেষে ৬ জুন শনিবার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ক্লাস শুরু হবে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ এবং কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি চলবে ৪ জুন (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত। আর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটি চলবে ৬ জুন শনিবার পর্যন্ত। এ প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্লাস শুরু হবে ৭ জুন রোববার।
এদিকে দেশের সব মাদ্রাসার আলিয়া, দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল স্তরে ২৪ মে থেকে ছুটি শুরু হয়ে চলবে ১১ জুন (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত। পরবর্তী ১২ ও ১৩ জুন সাপ্তাহিক ছুটির পর ১৪ জুন (রোববার) থেকে পুনরায় এ প্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রেণিকক্ষ খুলবে।
সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কারণ জানতে চাইলে জনসংযোগ কর্মকর্তা তানভীর মিয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “২৩ মে শনিবার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে আপত্তি উঠেছিল। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আলোচনা করে শনিবার থেকেই ছুটি শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
ছুটির তালিকা ও শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, রোববার থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, কারিগরি প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসাগুলোতে একযোগে এ ছুটি শুরু হবে।
২২ ও ২৩ মে, শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, কারিগরি প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার শেষ দিনের মত ক্লাসে অংশ নেন।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাসহ সরকারি কর্মচারীরা চাকরিতে যোগদানের পর প্রতি তিন বছর পর পর ১৫ দিনের শ্রান্তি ও বিনোদন ছুটি এবং এই ছুটির বিপরীতে তাদের এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ ‘শ্রান্তি বিনোদন ভাতা’ পেয়ে থাকেন। ছুটির আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পরেই কেবল এই ভাতা তোলার সুযোগ পান তারা। শিক্ষকদের জন্য ১৫ দিনের শ্রান্তি বিনোদন ছুটি নির্ধারিত থাকে, যা সাধারণত গ্রীষ্মকালীন বা রোজার ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করা হয়।
প্রাথমিকের শিক্ষকদের সংগঠন বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের সভাপতি এবং রাজধানীর পুরান ঢাকার সুরিটোলা সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আনিসুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৪ মে রোববার থেকে ৪ জুন পর্যন্ত ১২ দিন ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা শ্রান্তি বিনোদন ভাতা মঞ্জুরের জন্য প্রচলিত একটানা ছুটির শর্ত পূরণ করছে না।
“ফলে ২০২৩ সালে যেসব শিক্ষক শ্রান্তি বিনোদন ভাতা পেয়েছিলেন, তারা ২০২৬ সালে এ ভাতার জন্য আবেদন করার সুযোগ হারাতেন। শ্রান্তি ও বিনোদন ছুটি এবং ভাতার জন্য তাদের আরও একটি বছর অপেক্ষা করতে হবে। এ সময়ে যে শিক্ষকরা অবসরে যেতেন, তারা শ্রান্তি বিনোদন ছুটি ও ভাতার টাকা থেকে বঞ্চিত হবেন।”
প্রাথমিকের শিক্ষকদের পক্ষ থেকে ২৩ মে শনিবার স্কুল বন্ধ রাখার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে লিখিতভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছিল, বলেন আনিসুর রহমান।
এদিকে গত ২ এপ্রিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা শাখা থেকে জারি করা এক আদেশে স্কুল ফিডিং প্রকল্পের আওতায় ১৫০টি উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দশ শনিবার শিক্ষার্থীদের মাঝে মিড ডে মিল বিতরণের অনুমতি দেওয়া হয়।
ওই আদেশে ৪, ১১, ১৮ ও ২৫ এপ্রিল; ২, ৯, ১৬ মে এবং ১৩, ২০ ও ২৭ জুন মিড ডে মিল বিতরণের অনুমতি দেওয়া হলেও ২৩ মে শনিবার বিতরণের অনুমতি দেওয়ার কথা বলা হয়নি।
মিড ডে মিলের ওই আদেশে ২৩ মে বিতরণের কথা বলা না থাকায় এবং ২৩ মে ছুটির অনুরোধের বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা না আসায় এই শনিবারের ক্লাস নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয় বলে মনে করছেন শিক্ষক নেতা আনিসুর।
এদিকে বৃহস্পতিবার জারি করা এক আদেশে ২৩ মে শনিবার ও ২৪ মে রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাঠ পর্যায়ে প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো খোলা রাখার নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সাধারণ প্রশাসন শাখা।
অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখার উপপরিচালক আলেয়া ফেরদৌসী শিখা শুক্রবার বিকালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে শিক্ষা অফিসগুলো ২৩ মে শনিবার ও ২৪ মে রোববার খোলা রাখার নির্দেশনা দিয়ে আদেশ জারি করা হয়েছে।”
বিডিনিউজ







