প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু:
বিবাহ একটি সামাজিক প্রথা।সামাজিক কিছু নিয়ম কানুন মেনেই এই প্রথা যুগের পর যুগ ধরে চলে আসছে।তবে প্রত্যেক ধর্মের মানুষের বিদ্যমান বিবাহ পদ্ধতির উপর ধর্মীয় প্রভাবও আছে।
দুইজন নারী-পুরুষ সারাজীবনের জন্য বিবাহের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে থাকেন। বিবাহ বিচ্ছেদের পূর্ব পরিকল্পনা নিয়ে এই বন্ধন রচিত হয়না।কিন্তু চলার পথে দাম্পত্য জীবনে, সাংসারিক জীবনে বিবাহ বিচ্ছেদের মত অপ্রত্যাশিত বিপর্যয় আসবে না এমন নিশ্চয়তা দেওয়াও সম্ভব নয়।
আমাদের বাংলাদেশে বিবাহ বিচ্ছেদের মত ঘটনা যে বেড়েই চলেছে তা মানতেই হবে।বিভিন্ন কারণে এই প্রবণতা আরো বৃদ্ধি পাবে বৈকি।
বিবাহ বিচ্ছেদে নারী-পুরুষ কারো লাভ হয়না। কিন্তু নারীরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন। কারণ ধর্মীয় যে ব্যবস্থা তা বিবাহ বিচ্ছেদের শিকার নারীদের আইনী সুরক্ষা দিতে যথেষ্ট নয়।তাই বৌদ্ধ বিবাহ আইন ও নিবন্ধন প্রয়োজন।দুঃখজনক হল, অন্যান্য সম্প্রদয়ের বিবাহ আইন ও নিবন্ধন থাকলেও বৌদ্ধদের আজ পর্যন্ত সুনিদির্ষ্ট কোন বিবাহ আইন করা হয়নি।আইনী সুরক্ষা বলতে হিন্দু বিবাহ আইনে যতটুকু পাওয়া যায় কেবল তাই আছে।
আইনী সুরক্ষা লাভ এবং বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন কারণে এখন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন হচ্ছে।হিন্দু ধর্ম, রীতি-নীতি ও আচার-অনুষ্ঠান অনুযায়ী হিন্দু বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার পর উক্ত বিবাহের দালিলিক প্রমাণ সুরক্ষার উদ্দেশ্যে, বিবাহের যে কোন পক্ষের, নির্ধারিত পদ্ধতিতে, আবেদনের প্রেক্ষিতে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক, নির্ধারিত পদ্ধতিতে বিবাহ নিবন্ধন করেন।
এই আইন কার্যকর হবার পূর্বে হিন্দু ধর্ম, রীতি-নীতি ও আচার-অনুষ্ঠান অনুযায়ী সম্পন্নকৃত কোন বিবাহের যে কোন পক্ষের, নির্ধারিত পদ্ধতিতে, আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আইনের বিধান অনুসরণক্রমে নিবন্ধন করা হয়।ফলে কখনও যদি দাম্পত্য জীবন ভেঙ্গে যায়, রাষ্ট্রের প্রচলিত আইনে আইনী সুরক্ষা পাওয়ার একটা সুযোগ থাকছে।বিবাহ নিবন্ধন আইনে নিজ নিজ ধর্মের আচার অনুষ্ঠানকে উপেক্ষা করা হয়নি।নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবার পরেই বিবাহ নিবন্ধন করা হয়ে থাকে।
বৌদ্ধদের বিবাহে এখনও নিবন্ধন পদ্ধতি মানা হয়না। নেই কোন বৌদ্ধ বিবাহ আইন। অথচ বৌদ্ধ সমাজেও বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটে, বাল্য বিবাহের মত ঘটনা ঘটে।সম্পূর্ণ সামাজিক রীতিনীতির উপর ভর করেই বৌদ্ধ বিবাহ চলছে। বৌদ্ধ পরিবারে দেখা যায়, পিতার কোন সম্পত্তি পুত্রের মত উত্তরাধিকার সূত্রে মেয়েরা পাননা।স্বামীর ঘরে গেলে স্বামীর সম্পত্তিও স্ত্রীর হয়না। স্বামী তার স্ত্রীকে কারণে-অকারণে পরিত্যাগ করলে পিতা কিংবা শ্বশুর বাড়ি কোথাও তার আশ্রয় হয়না। অনেক পরিবারে এমন নারীকে গলগ্রহ বিবেচনা করা হয়ে থাকে। ফলে একুল ঐকুল হারিয়ে মেয়েটির দুঃখের সীমা থাকেনা। মেয়েরাও তো পিতামাতার জন্ম দেওয়া সন্তান। তাহলে তাদের প্রতি এমন নিষ্ঠুর বৈষম্য কেন?এই নিয়ম ভেঙ্গে ফেলা উচিত। এর ন্যায়সঙ্গত এবং স্থায়ী সমাধান হওয়া উচিত।এই বিষয়ে বৌদ্ধ নারীদের আরো সোচ্চার হতে হবে।এটাও সত্য যে, তাদের দাবির পাশে তারা আরো অনেককে পাশে পাবেন।






